ঢাকা, শনিবার 15 December 2018, ১ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মোবারকের বিরুদ্ধে মামলার রায় আগামীকাল সোমবার

বাসস: ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আগামীকাল সোমবার রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আজ এ আদেশ দেয়। গত ২ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়। এটি হবে ট্রাইব্যুনালের ত্রয়োদশতম (১৩তম) রায়।
এর আগে গত বছর ২০ মে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছে। তারা হলেন মামলার আইও শ্যামল চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা দারুল ইসলাম, শহীদ আব্দুল খালেকের মেয়ে খোদেজা বেগম ও ছেলে রফিকুল ইসলাম, মো. খাদেম হোসেন খান, আলী আকবর, মো. আব্দুল মালেক, মুক্তিযোদ্ধা ননী গোপাল মল্লিক, আব্দুস সামাদ, শহীদ জায়া ভানু বিবি, আব্দুল হামিদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট চমন সিকান্দার জুলকারনাইন। আসামিপক্ষ সাক্ষিদের জেরা করে।
মোবারক হোসেনের মামলায় ৩ জন সাফাই সাক্ষি নির্ধারণ করে গত বছর ২৬ নভেম্বর আদেশ দেয়া হয় ট্রাইব্যুনাল। ২ জন সাফাই সাক্ষি হাজির করে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে গত ৩ এপ্রিল পর্যন্ত মামলার বিভিন্ন ধার্য তারিখে মোবারক হোসেন নিজে ও তার বড় ছেলে মোহাম্মদ আসাদ উদ্দিন সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেয়। পরে তাদেরকে জেরা করে প্রসিকিউশন।
গত বছর ২৩ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৬ মে সূচনা বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। এর আগে গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, আপহরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে ৫ ধরনের অভিযোগে ৩৩ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান। তার বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১৬ জুলাই থেকে ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা (আইও) শ্যামল চৌধুরী তদন্ত করেন। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আখাউড়া থানাধীন টানমান্দাইল ও জাঙ্গাইল গ্রামে ৩৩ জনকে গণহত্যা, আনন্দময়ী কালীবাড়ী রাজাকার ক্যাম্পে আশু রঞ্জন দেবকে নির্যাতন, ছাতিয়ানা গ্রামের শহীদ আব্দুল খালেককে হত্যা, শ্যামপুর গ্রামের ২জনকে অপহরণ করে ১ জনকে হত্যা এবং খরমপুর গ্রামের ১ জনকে আটক রেখে নির্যাতন। এসব অভিযোগ ১৯৭১ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
১৯৭১ সালের একটি হত্যা মামলায় আটক ব্রাক্ষণবাড়িয়ার মোবারক হোসেনের জামিন আবেদনের শুনানী হয় ২০১২ সালের ১১ জুলাই। ওইদিন আসামীপক্ষ ও প্রসিকিউশন বিষয়টির ওপর শুনানী শেষে ১৬ জুলাই তাকে জামিন দেয় ট্রাইব্যুনাল। এরপর কয়েক দফা তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। গত বছর ১২ মার্চ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন গ্রামবাসী আব্দুল খালেকের লাশ পাশ্ববর্তী খাল থেকে উদ্ধার করে। নিহত আব্দুল খালেকের কন্যা খোদেজা বেগম ২০০৯ সালের ৩ মে ব্রাক্ষণবাড়িয়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আরজিতে উল্লেখ করা হয়, যারা ডেকে নেয় তাদের মধ্যে আখাউড়া উপজেলার নয়াদিল গ্রামের মোবারক এবং জমশেদ মিয়া ছিল। মোবারক হোসেন ১৩ মে ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের আগাম জামিন নেন। পরে ২০১১ সালের ৯ অক্টোবর মোবারক হোসেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠায় এবং মামলার নথিপত্র আন্তর্জাাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়। পরে ২০১২ সালের ৬ জুন আসামীপক্ষের আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে আপিল মোকাদ্দমা দায়ের করলে ট্রাইব্যুনাল এ মামলার নথিপত্র তলব করে।



অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ