ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 December 2016 ১ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাতীয় ঐক্যই দেশের স্বাধীনতার রক্ষাকবচ

উত্তর পূর্ব সাত রাজ্যের স্বাধীনতাকামীদের নির্মূল করার পরিকল্পনায় পণ্যের পাশাপাশি সৈন্য ও সমরাস্ত্র নিয়মিতভাবে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের নৌপথ, সড়কপথ ও রেলপথ ব্যবহার করে ট্রানজিটের নামে করিডোর সুবিধা নিয়েছে বলে অনেকেই বিশ্বাস করে। একটি দেশের উপর দিয়ে অন্য কোন দেশের সেনাবাহিনী নিয়মিত চলাচল করলে সংশ্লিষ্ট দেশটির স্বাধীনতা বা স্বাধীন সত্ত্বা প্রশ্নবিদ্ধ হয় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে। মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর দু’টির উপর একচ্ছত্র অধিকার পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এদেশের বেসামরিক চাকরির বিভিন্ন বিভাগ ও স্তরে মুসলিমদের সংখ্যালঘু পরিণত করার পরিকল্পনা সফল হতে যাচ্ছে। ৫৪টি অভিন্ন নদীর বাঁধ নির্মাণ করে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে শুষ্ক ও সেচ মৌসুমে বাংলাদেশকে মরুকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে কৃষি প্রধান বাংলাদেশের ফসলী জমি সেচ মৌসুমে পানির অভাবে নিষ্ফলা ভূমিতে পরিণত হবে।
তিন দিক দিয়ে অবরুদ্ধ থাকা বাংলাদেশের উপর আধিপত্যবাদী অশুভ শক্তি আমাদেরকে পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন কৌশল ও ষড়যন্ত্র অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের নতজানু আচরণের কারণে গত ৫ বছরে বাংলাদেশ ঘিরে দিল্লীর ঔদ্ধত্য দেশবাসীর সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে। দিল্লীর চিহ্নিত তাবেদারদের বিরুদ্ধে যে কোনো সময় গণবিস্ফোরণ ঘটতে পারে। রক্তের বিনিময়ে কেনা স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে হলে আধিপত্যবাদীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিজয়ের এ মাসে দলীয় পার্থক্য ভুলে এদেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শপথ নিতে হবে। নতুবা এই বিজয় অচিরেই লুণ্ঠিত হয়ে যাবে লুটেরাদের হাতে। এমতাবস্থায় জাতীয় ঐক্যই দেশের স্বাধীনতা রক্ষার একমাত্র রক্ষাকবচ বলে মুসলিম লীগ বিশ্বাস করে।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা দুটায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। নির্বাহী সভাপতি আবদুল আজিজ হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় আলোচনা করেন দলীয় প্রেসিডিয়ামের সিনিয়র সদস্য আতিকুল ইসলাম, মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ডেমোক্রেটিক লীগের মহাসচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন নেতা ইউসুফ সিদ্দিকী, ইসলামী সমাজ নেতা মোঃ আসাদুজ্জামান, রাজনৈতিক গবেষণা সংগঠন বিপিআরসির সভাপতি মোঃ নূর আলম, বিপিআরসি মহাসচিব কাওছার আহমেদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক কামাল পাশা দোজা প্রমুখ। দলীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এইচ খান আসাদের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের আকবর হোসেন পাঠান। প্রচার সম্পাদক শেখ এ সবুর, দফতর সম্পাদক খোন্দকার জিল্লুর রহমানসহ দলীয় নেতা এডভোকেট হাবিবুর রহমান, কাজী এ এ কাফী, ফারুক আহমেদ, আবুবক্কর সিদ্দিক, ছাত্রনেতা শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। সভা শেষে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আর্কাইভ