ঢাকা, মঙ্গলবার 14 February 2017, ০২ ফাল্গুন ১৪২৩, ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নারী জাগরণের অগ্রদূত নওয়াব ফয়েজুন্নেসা চৌধুরানী

ফরিদা ইয়াসমিন রাণী : উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বাংলাদেশের মুসলমান ছেলেরা আধুনিক শিক্ষার দিকে পা বাড়ায়। তখন নারী শিক্ষার কথা ছিল স্বপ্নের অগোচর। সেই সময় একজন বুনিয়াদী বংশের মহিলা হয়ে নবাব ফয়েজুন্নেসা কঠোর পর্দার মধ্যে থেকেও গৃহ শিক্ষকের কাছে আরবী, ফার্সী, সংস্কৃত ও বাংলা ভাষার উপর বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি ছিলেন জমিদার কন্যা, জমিদার নাতনী এবং নিজেই একজন জমিদার ছিলেন।
ইস্ট-হিন্দু আতাতে ষড়যন্ত্রের দরুন মুসলমানদের আর্থিক দুর্দশা চরমে পৌঁছে, শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক পিছনে পড়ে থাকে। ঐ সময় খৃষ্টান ধর্ম যাজকগণ ধর্ম প্রচারের জন্য বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। প্রথমে হিন্দু সমাজকে আকৃষ্ট করে ধর্মান্তরিত করে। পরে তাদের দৃষ্টি মুসলমান ধর্মের উপর নিক্ষেপ করে। মুসলমানগণ আতঙ্কিত হয় এবং প্রতিরোধের জন্য মারমুখি হয়ে ওঠে। তখন যশোরের মুন্সী মুহাম্মদ মেহেরুল্লাহ সাহেব এই প্রতিরোধের অংশীদার হন।
নওয়াব ফয়েজুন্নেসা খৃষ্টানদের দুরভিসন্ধি বুঝতে না পারলেও এই উপমহাদেশে ইংরেজি শিক্ষা মুসলমানদের জন্য কল্যাণকর এটা বুঝতে পেরেছিলেন। মুসলমানদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়ার যে চক্রান্ত চলছিল অন্যান্য মুসলমান মনিষীদের মত তিনিও তা উপলব্দি করেছিলেন। তাই অধপতিত মুসলমান সমাজকে বিশেষ করে মহিলা সমাজকে জাগরিত করার জন্য তিনি এগিয়ে এসেছিলেন।
তিনি তার নিজ গ্রাম পশ্চিমগাঁও কুমিল্লায়, শুধু নারীদের জন্য ১৮৭৩ সালে উচ্চবিদ্যালয় স্থাপন করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তা বিরল। স্কুলেন নাম ‘ফয়েজুন্নেসা উচ্চ ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয়’। যখন কুমিল্লায় কোন বালিকা বিদ্যালয় ছিল না, একটি মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত করে এই বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। বাঙালী মুসলমান মেয়েদের ইংরেজি শিক্ষার প্রতি উৎসাহ দানের জন্য জমিদার হতবিল থেকে বেশ কয়েকটি বৃত্তি দানের ব্যবস্থা করেছিলেন।
ঐ সময় সাধারণ মুসলিম সমাজে ইংরেজি  ভাষাকে নাসারার ভাষা এবং ফিরিঙ্গির ভাষা বলে অবজ্ঞা করা হত। তাই মুসলমান বালকদের মাঝে ইংরেজি শিক্ষার তেমন প্রচলন ছিল না। এমন সময় একটি গ্রাম্য এলাকায় এমন বিদ্যালয় স্থাপন এই মহীয়সী নারীর নিতান্তই দুঃসাহসিক প্রয়াস। সমকালিন ইতিহাসে একটি উল্লেকযোগ্য ঘটনা। বাঙ্গালী নারী জাগরণের ইতিহাসে কেন, সারা উপমহাদেশের মুসলিম নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
কলিকাতার ‘বেথুন বালিকা বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৪৯ খৃষ্টাব্দে। তার মাত্র চব্বিশ বছর পরে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। যা শুধু বাঙালী মুসলমানদের নয় উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য সর্ব প্রথম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।
মুসলিম জাগরণের জন্য ফরিদপুরের ‘নওয়াব আবুল লতিফ’ ১৮৬৩ সালে প্রতিষ্ঠা করে ‘মুহম্মদীয় সাহিত্য সমিতি’,  আর জাস্টিস সৈয়দ আমীর আলী প্রতিষ্ঠা করেন ১৮৭৭ সালে ‘মুহম্মদীয় কেন্দ্রীয় সমিতি’, জাতির বৈরীতা অপসরনের জন্য নবাব ফয়েজুন্নেছা ১৮৭৩ সালে অর্থাৎ সৈয়দ আমীর আলীরও চার বছর আগে এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করে উপমহাদেশের শিক্ষা ও জাগরণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বাঙালী মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত ‘বেগম রোকেয়া’ তাঁরই উত্তরসূরি ছিলেন। তিনি ১৯১১ সালের ১১ মার্চ মুসলিম নারী শিক্ষা প্রসারে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার পূর্বসূরি ফয়জুন্নেসা সেই মুসলিম নারী শিক্ষা বিস্তারের জন্য ১৮৭৩ সালে ‘মুসলিম ইংরেজি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়’ স্থাপন করেন। বেগম রোকেয়ার জন্মের সাত বছর পূর্বে।
 শুধু তাই নয়, যশোরের মুন্সী মুহাম্মদ মেহেরুল্লা সাহেব তার নিজ গ্রাম মনোহরপুরে ‘মাদ্রাসায়ে কারামাতিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে ইংরেজি শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল। প্রতিষ্ঠা কাল ১৩০৮ সাল/১৯০১ খৃষ্টাব্দ এটাও ফয়জুন্নেসার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনেক পরে প্রতিষ্ঠিত হয়। অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন সাহেব লিখেছেন, তার ওয়ার্কফ কাচারীর রেকর্ড দ্বারা প্রমানিত হয় যে, তিনি তার ১১টা কাচারীর সন্নিকটে নিজ জায়গায় নিজ খরচে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়, দীঘী ও পুকুর খনন করেন। দেশের মানুষের প্রকৃত শিক্ষা ও জ্ঞানালোক বিতরণের এ ছিল একটি সুপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের প্রাথমিক স্তর। সারা জীবন তিনি সংযোজন ও পরিবর্ধনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
তাছাড়া তিনি ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দ মহিলাদের জন্য কুমিল্লায় ‘ফয়েজুন্নেসা জানানা’ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে ‘কুমিল্লা সদর হাসপাতালের নবাব ফয়জুন্নেসা ফিমেল ওয়ার্ড’ নামে পরিচিত।
পশ্চিমগাঁও নিজ বাড়ি সংলগ্নে দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুসাফিরদের জন্য তিনদিন তিনরাত্রি বিনা পয়সায় থাকা-খাওয়ার জন্য মুসাফীর খানা তৈরি করেন যা আজও বিদ্যমান। নিজ গ্রামে দশ গম্বুজ মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেন। মাদ্রাসাটি ১৯৪৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং ১৯৮২ সাল থেকে ‘ফয়জুন্নেসা সরকারি ডিগ্রী কলেজ’ পরিণত হয়।
পশ্চিম গাঁও ‘ফয়জুন্নেসা ইংরেজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি’  ১৯০১ সালে ফয়জুন্নেসার কন্যা বদরুন্নেসার নামে ‘বদরুন্নেসা হাইস্কুল’ নামকরন করা হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লার লালুয়া দীঘির পাড়ে অবস্থিত ‘ফয়জুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়টি’। বর্তমানে এই বিদ্যালয়টি ‘শৈলরানী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়’ হিসেবে চালু আছে। তিনি বিদেশেও দানের হাত প্রসারিত করেন। জানা যায়, কৃষ্ণ নগর, নদীয়াতে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
১৮৯৩ সালে যখন তিনি হজ্জ্বব্রত পালনে যান, তখন তিনি মক্কাতে একটি মাদ্রাসা ও তৎসংলগ্নে একটি মুসাফির খানা তৈরি করেন। এছাড়া ‘লাকসাম দাতব্য চিকিৎসালয়’, ‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ’, ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দ যথাসাধ্য অনুদান প্রদান করেন। জনগণের সুবিধার জন্য রাস্তাঘাট, দীঘি, পুল ইত্যাদি নির্মাণ করেন। নবাব বাড়ির সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর উপর ‘সাবানী বা সাহেবানীর পুল’ নামে যে লোহার পুলটা আজও বিদ্যমান তা এই মহীয়সী নারীর নির্মিত। ব্যক্তিগত জীবনে যেমন ছিলেন তিনি খোদাভিরু ও ধর্ম প্রাণ, তেমনি সমাজ জীবনে অকাতরে দান খয়রাত করে অসাধরণ কৃতিত্ব স্থাপন করেছেন।
ত্রিপুরা জেলার কালেক্টর মি. ডগলাস সাহেব সেই সময় সমাজ কল্যাণকর একটি তহবিল গঠন করে ধনবান লোকদের ডেকে সাহায্যের হাত বাড়াতে বললেন। কিন্ত তেমন সাড়া পেলেন না। তখন বেগম ফয়জুন্নেসার কাছে চাঁদার জন্য প্রস্তাব করলেন। ভাবলেন একজন পর্দানশীল মহিলা আর কত টাকাই বা দেবেন। তাকে অবাক করে তহবিল গঠনের জন্য ডগলাস সাহেবকে পুরা পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে দিলেন। ডগলাস সাহেব যখন টাকাগুলো ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন তখন তিনি পর্দার আড়াল থেকে বলেছিলেন, ‘মুসলমান দান করে তা মনে রাখে না’ (১৮৯৯-১৯০১)।
ডগলাস সাহেব তখন ঘটনাটি মহারাণী ভিক্টোরিয়ার গোচরে আনেন। মহারাণী এই মহিলার গুণাবলীর কথা জানতে পেরে খুশি হয়ে তাকে দেশের অন্যতম সম্মানিতা  ‘বেগম সাহেবা’ খেতাব দানের প্রস্তাব রাখেন। ফয়জুন্নেসা সম্মানে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘তার জমিদারীতে তিনি সকলের শ্রদ্ধেয়া ‘বেগম সাহেবা’ নামেই পরিচিত। তাই বৃটিশ সাম্রাজ্যের ‘বেগম সাহেবা’ খেতাব তার জন্য কোন গৌরব বয়ে আনবে না। শুনে মহারাণী চমৎকৃত হন এবং সভাসদের পূর্ণ সম্মতিক্রমে তাকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। সারা বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র তিনি মহিলা যিনি এই উপাধীতে ভূষিত হন। মহারাণী খুশি হয়ে শুভেচ্ছা স্বরূপ তাকে তারকা খচিত একটি মহামূল্যবান হীরক খণ্ড উপহার দেন। প্রতিদানে ফয়জুন্নেসা তার একটা ছবি গ্রহণের অনুমতি দেন। যে ছবি আজও বার্মিংহাম প্রাসাদে সংরক্ষিত আছে। এই নওয়াব উপাধী উপলক্ষে মি. ডগলাস সাহেবের উদ্দ্যোগে কুমিল্লার নবাব বাড়িতে ৩৫ হাজার টাকা ব্যায়ে আনন্দ উৎসব হয়েছিল। একজন বাংলাদেশী পর্দানশীন মুসলিম মহিলার এই পুরুষোচিত ‘নওয়াব’ উপাধি লাভ শুধু ব্যতিক্রম নয় দুর্লভ ঘটনা। তিনি ছিলেন প্রজাদরদী, পরদুঃখকাতর। নওয়াব খেতাব পাবার তিন বৎসব পরই তার সম্ভাব্য সম্পত্তি আল্লাহর ওয়াস্তে ওয়াকফ নামা করে যান। কোন ওয়ারিসকে তিনি বঞ্চিত করেননি।
ওয়াক্ফ নামা প্রতিষ্ঠার পর তিনি নিজেই এর মোয়াল্লিম হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তার সমস্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ভার এই ওয়াক্ফ সম্পত্তির আর থেকে বহন করা হয়। কন্যা বদরুন্নেসার ওয়াক্ফ নামায় মক্কাও মদীনা শরীফের জন্য প্রতিবছর যথাক্রমে ৩০০/০০ ও ১০০/০০ টাকা বরাদ্দ ছিল যা দিয়ে তার নির্মিত মাদ্রাসা ও মুসাফীর খানা পরিচালিত হতো।
তিনি একজন সুলেখক ছিলেন। ১৮৭৬ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারী ঢাকার গিরিশ চন্দ্র ছাপাখানা থেকে ৪৭২ পৃষ্ঠার রূপজালাল নামে রূপক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি তার জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। বইয়ের ভাষা মুসলমানী বা দোভাষী পুঁথির ভাষা নয় নিতান্তই আধুনিক ভাষা।
অন্তরঙ্গ বাংলা কাব্যের গুরু ‘বিহারী লাল চক্রবর্তীর ‘সারদা মঙ্গল’ কাব্যে প্রকাশ হওয়ার তিন বছর আগে এবং বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কবি ‘মান কুমারী বসুর বসন্ত উৎসব’ কাব্যের তিন বছর পূর্বে ‘রূপ জালাল’ প্রকাশিত হয়।
ফয়জুন্নেসার আগে চট্টগ্রামে ‘রহিমুন নেছা’ নামে একজন মহিলা কবির খোঁজ পাওয়া যায়। যার আর্বিভাব আনুমানিক (১৭৬৭-১৮০০ খৃষ্টাব্দ। তার লেখা সামান্যই উদ্ধার করা গেছে। সে অর্থে তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি। তবে নওয়াব ফয়জুন্নেসাই আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম ও সার্থক মহিলা কবি।
তিনি আরও ‘সঙ্গীত লহরী’ ও ‘সঙ্গীতসার’ নামে দুই খানি গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন। যার হদিস আজ আর পাওয়া যায় না।
তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রেও অকাতরে দান করেছেন, পৌষ ১২৯৮ সাল/১৮৯১ খৃষ্টাব্দে ভারতীয় ‘বালক’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন ‘স্বর্ণকুমারী’ ১৮৬৬ সালে ব্রাক্ষ মহিলাদের জন্য ‘সখি সমিতি’ নামে একটি কল্যাণ সমিতি গঠন করেন।
১২৯৬ সাল/ ১৮৯০ খৃষ্টাব্দ অনুষ্ঠিত এই সমিতির উদ্যোগে শিল্প মেলা উপলক্ষে তিনি ২০০ টাকা অনুদান দেন। অনুদানকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র মুসলিম নারী। নারী জাগরণের ইতিহাসে তা স্মরণীয় হয়ে আছে ও থাকবে। ‘মুসলমান বন্ধু’ পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৮৮৫ খৃষ্টাব্দ উক্ত পত্রিকায় তিনি এককালীন ৫০০ টাকা অনুদান করেন। তিনি এই পত্রিকার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন যা প্রথমে ‘কলকাতা ভবানী প্রেস’ পরে ‘মুসলমান বন্ধু প্রেস’ থেকে প্রকাশিত হয়।
তিনি কলিকাতায় প্রকাশিত ‘সুধাকর’ পত্রিকার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এই পত্রিকাটি সমকালীন মুসলিম সমাজের একখানি মুখপত্র ছিল।
ইংরেজ লেখক ‘উইলিয়াম হান্টার’ তার ‘দি ইনডিয়ান মুসলিম’ গ্রন্থে ৭৩৪ পৃষ্ঠা লিখেছে, ১৭০০ খৃষ্টাব্দে ভাবতে পারা যেতনা ভারতীয় খানদানী মুসলমানগণ গরীব হতে পারে। আজ ১৮৭১ সালে এসে দেখা যাচ্ছে তারা কি কোন দিন বিত্তবান ছিল ? ভারতের অন্যতম স্থপতি ‘শ্রী জহরলাল নেহারু’ তার আত্মজীবনীতে স্বীকার করেছেন যে, ১৮৫৭ সালের পর বৃটিশের কঠিন হস্ত হিন্দু অপেক্ষা মুসলমানদের উপর কঠিনভাবে পতিত হইল। সেই সময় এই মহিয়সী নারী শিক্ষার পতাকা হাতে এগিয়ে এসে জাতিকে আলোকবর্তিকা নিয়ে সমবেত হওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
তিনি আধুনিক বাংলা কাব্যের একজন অগ্রপথিক। বিদগ্ধকবি ও সমাজসেবী। এই নারী জাগরণের অগ্রদূত আজ আমাদের সুধী সমাজে অবহেলিত। যে মানুষটি দেশ ও দশের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তিনি আজ বিস্মৃতির পথে। তিনি যেন কালের করাল গ্রাসের অতল গহব্বরে তলিয়ে না যান। মানুষ জাতির কল্যাণের জন্য যে মানুষটি জীবনপাত করেছেন, নব প্রজন্মের এ্ই সৃজনশীল সুন্দর পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকুক চিরকাল। তার প্রতিষ্ঠিত স্থাপনাগুলো যেন স্বীয় নামে ফিরে আসে এই আশা ব্যক্ত করি।
(লেখিকা-কবি ও সাহিত্য গবেষক)
সহায়ক গ্রন্থ
১। নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী: কবি ও সেবক-মুহাম্মদ আবু তালিব
২। স্মরণীয় বরণীয়- জাফর আলম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) (পৃষ্ঠা নং-১৩৯-৪১)
৩। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন জীবন ও সাহিত্য কর্ম-মুহাম্মদ শামসুল আলম (বাংলা সাহিত্য) পৃষ্ঠা নং-১১৪
৪। বাংলা জীবনী কোষ-ওহীদুল আলম (পৃষ্ঠা নং-২১২)
৫। বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাহিত্যিক ও অন্যান্য প্রবন্ধ-ফরিদা ইয়াসমিন রানু (পৃষ্ঠা নং-৬৯)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ