ঢাকা, রোববার 26 May 2019, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২০ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

লোকসভা নির্বাচনে ২৮ টি প্রার্থী ঘোষণা হতেই রাজ্য বিজেপিতে বিদ্রোহ

কোচবিহারের বিজেপি প্রার্থী নিশিথ প্রামাণিক।

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে বিজেপির প্রথম দফায় ২৮ প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে দলটির মধ্যে তীব্র বিবাদ শুরু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটির বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২৮টি কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়।অন্য দলের তুলনায় কিছুটা দেরি করেই  প্রথম পর্যায়ের  প্রার্থী তালিকা  ঘোষণা করল বিজেপি। ১১ এপ্রিল  প্রথম দফায়  এ রাজ্যের কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার আসনে ভোট নেওয়া হবে। 

এরই মাঝে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম নিয়ে অসন্তোষ দেখা গিয়েছে।তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে বিজেপিতে যাওয়ায় নিশীথ প্রামাণিককে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করল বিজেপি। কিন্তু সদ্য দলে আসা নিশীথ প্রামাণিককে প্রার্থী করায় কোচবিহারে বিজেপির কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

নিশীথের নাম ঘোষণার পরপরই কোচবিহারের বিজেপি কর্মীদের একটা বড় অংশ বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।  জেলা সভাপতির গাড়ি পর্যন্ত  ঘেরাও করা হয়।  জানা গিয়েছে এই কেন্দ্রে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী নিশীথ  প্রামানিক  গত মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত ছিলেন তৃণমূলের যুবনেতা। তাঁকে প্রার্থী করায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।  তবে বিজেপির জেলা  সভাপতি  জানিয়েছেন  নাম চূড়ান্ত করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।  এ ব্যাপারে তাঁর কোন ভূমিকা নেই।  কিন্তু  এ কথা বলার পরও দলীয় কর্মীদের  ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। তাঁকে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে বলে খবর। কর্মীদের দাবি প্রার্থীর  নাম বদল করতেই হবে।

এদিকে কুচবিহারে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে নিশীথ প্রামাণিকের নাম ঘোষণার পরেই কুচবিহারে একযোগে পদত্যাগ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলার বহু বিজেপি নেতা।  দলীয় দফতরে বিক্ষোভ শুরু করেন কর্মী-সমর্থকের একাংশ। ‘দিনহাটার স্মাগলারকে একটিও ভোট নয়’ লেখা সম্বলিত ফেস্টুন নিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এছাড়া জেলা সভাপতির গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান নেতা-কর্মীরা। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতাকে দলে নিয়ে প্রার্থী করা হল কেন, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা। দলীয় দফতরে বিজেপির কুচবিহার জেলা সভানেত্রী মালতী রাভাকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখানোসহ দফতরের ভেতরে ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধরা।

এ ব্যাপারে শুক্রবার কুচবিহারের তৃণমূল নেতা খোকন মিয়াঁ বলেন, ‘বিজেপি এমন একজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, লজ্জা লাগে বিজেপি প্রার্থী খুঁজে পায় না! এই দল হচ্ছে এমন একটা দল যে দলে কোনো নিয়ম, শৃঙ্খলাবোধ বলতে কিছুই নেই। আমরা নিশ্চিত তৃণমূল প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।’

অন্যদিকে, হুগলি বা শ্রীরামপুরে টিকিট না পেয়ে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতির পদ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ইস্তফা দিয়েছেন রাজকমল পাঠক। তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র রাজ্য সভাপতির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। হুগলিতে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন রাজ্য বিজেপি সহসভাপতি রাজকমল পাঠক। কিন্তু সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে লকেট চট্টোপাধ্যায়কে। ক্ষুব্ধ রাজকমলবাবু গণমাধ্যমকে বলেন, যেভাবে প্রার্থী বাছাই হয়েছে তাতে প্রতিবাদ হওয়া দরকার। সেজন্য পদত্যাগ করলাম।’

এদিকে, সিপিএমের বিধায়ক খগেন মুর্মুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে দলে নেয়ার প্রতিবাদে গাজলে পোস্টার দিয়েছিলেন বিজেপি কর্মীদের একাংশ। কিন্তু উত্তর মালদহ কেন্দ্রে খগেন বাবুকে প্রার্থী করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে মেদিনীপুরে দিলীপ ঘোষ, কোলকাতা উত্তর কেন্দ্রে রাহুল সিনহা, হুগলীতে লকেট চট্টোপাধ্যায়, ঘাটাল কেন্দ্রে ভারতী ঘোষ, আসানসোলে বাবুল সুপ্রিয়, যাদবপুরে অনুপম হাজরা ও ব্যারাকপুরে অর্জুন সিং প্রার্থী হয়েছেন।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ