ঢাকা, সোমবার 23 September 2019, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ভোটারবিহীন রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু?

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: এক সময় যখন এদেশের মানুষের ভোটাধিকার ছিল বা ভোটের ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ ছিল; তখন দেশে রাজনীতি ছিল, ভোট ছিল, এবং 'ভোটের রাজনীতি' নিয়ে নানান হিসাব-কিতাব ছিল, মেরুকরণ ছিল, ভোটকে কেন্দ্র করে জোট গঠনের একটা ব্যাপার ছিল।তখন ভোট ব্যাংক হিসেবে এরশাদ সাহেব বা জাতীয় পাটির একটা উপযোগ ছিল, কদর ছিল, তাকে নিয়ে একটা টানাটানির ব্যাপারও ছিল।যার কারণে, জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে এবং দুর্নীতির দায়ে জেল খেটেও জেনারেল এরশাদ প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশের ক্ষমতা এবং ভোটের রাজনীতিতে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখতে পেরেছিলেন।

ভোটের রাজনীতিতে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের মিত্র হিসেবে ছিলেন জেনারেল এরশাদ এবং তাঁর দল জাতীয় পার্টি।

জাতীয় পার্টি ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে সরাসরি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকেই অংশ নিয়েছিল।

এর পর ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনেও - জেনারেল এরশাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও - জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের সাথে থাকতে হয়েছিল। সে সময় দলটির নেতাদের অনেকের কথায় সেই অস্বস্তির কথা চাপা থাকে নি।সর্বশেষ একাদশ সংসদেও আওয়ামী লীগের সাথে থেকে জাতীয় পার্টি ২২টি আসন নিয়ে কথিত বিরোধী দলের আসনে বসেছে।

কিন্তু এখন তো দেশে ভোট, জোট, রাজনীতি কোনটাই নাই।এখন দেশে চলছে একনেতার শাসন।কার্যত দেশে এখন কোন বিরোধী রাজনীতি নেই।একসময় জাতীয় সংসদে ভূয়া বা গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবেও কিছুটা উপযোগ ছিল, এখন তো তাও নেই।এছাড়া যতকিছুই হোক, এরশাদ সাহেবের একটা জনপ্রিয়তা ছিল, তার একটা ফেসভেলু ছিল।এখন তার অবর্তমানে দলটির আর কোন গুরুত্ব থাকতে পারে বলে আমার মনে হয় না। কারণ, জাতীয় পার্টি ছিল মূলত এরশাদের একটি পকেট সংগঠন।জাতীয় পার্টির ভোটব্যাংক গড়ে উঠেছিল এরশাদকে কেন্দ্র করেই।তাই, এরশাদের পকেট থেকে যারাই বেরিয়ে গেছেন তারা বলা যায় হারিয়ে গেছেন।তাছাড়া, এখন সংসদে ক্ষমতাসীন দেলের যে অবস্থান এবং যেহেতু এখন কার্যত আর নির্বাচনের প্রয়োজন হচ্ছে না, সে কারণে জাতীয় পার্টির মত গৃহপালিত বিরোধীদলের আর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।ক্ষমতাসীন দলের কারো কারো কথা থেকে ইতোমধ্যেই তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলছেন, ভোটের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির অবস্থান অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে বলে তারা মনে করছেন।

"এক সময় অনেকের কাছে জাতীয় পার্টির কদর ছিল। হয়তো এরশাদ সাহেবকে নিয়ে ভোটের রাজনীতিতে একটা হিসাব নিকাশ ছিল । কিন্তু গত ১০ বছরে সেটার প্রয়োজনীয়তা বোধহয় ফুরিয়ে গেছে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে আওয়ামী লীগকে একক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা যাচ্ছে।

সেখানে জাতীয় পার্টি বা অন্য যে কোন দল অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে বলে তারা মনে করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক রওনক জাহান বলছিলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণ এখন অন্য চেহারা নিচ্ছে।

মিজ জাহান বলছেন, "জাতীয় পার্টি তো আদর্শভিত্তিক কোন পার্টি ছিল না। এটা পুরোটাই এরশাদের ব্যক্তি ইমেজ নির্ভর পার্টি ছিল। তার অবর্তমানে পার্টিটা টিকে থাকবে কিনা, সেটাই এখন সন্দেহের মধ্যে পড়ে গেলো।"

ডিএস/এএইচ

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ