ঢাকা, সোমবার 23 September 2019, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

মুন্সীগঞ্জে বন্যা ও ভাঙনে ঘরছাড়া ৭০ পরিবার, আতঙ্কে এলাকাবাসী 

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: কয়েকদিনের ব্যবধানে লৌহজংয়ের কুমারভোগ ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রাম ও লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ৭০ পরিবারের ভিটেমাটি পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শতাধিক পরিবারসহ খড়িয়া মসজিদ। ফলে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।খবর ইউএনবির।

এদিকে গত শুক্র, শনি ও রবিবার ভাঙন এলাকা ঘুরে স্থানীয় লোকজনকে বাড়িঘর সরিয়ে নিতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে।

কুমারভোগ ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, ‘গত তিনদিনে অন্তত ৭০ হাত জায়গা নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে। ভাঙনের সাথে পাল্লা দিয়ে ঘর-বাড়ি অন্যত্রে সরিয়ে নিতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।’

একই গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য রফিজ উদ্দিন জানান, নদীর পাড়ে মাসের পর মাস ভারী জাহাজ ও ট্রলার ভিড়ানোর কারণে ভাঙনের মাত্রা বেশি হয়েছে।কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি জাহাজ ভিড়ানোর বিনিময়ে পয়সা নিয়েছেন।

গত শতকের নব্বই দশকে টানা ১০ বছর পদ্মার ভাঙনে তেউটিয়া ও ধাইদা ইউনিয়ন দুটির অধিকাংশ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরপর দুই দশক ভাঙন বন্ধ থাকে। গত ৫-৬ বছর আগে খড়িয়া থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বে বালু ফেলে শিমুলিয়াঘাট তৈরি করা হয়। ফলে পদ্মার এই শাখা নদীর বাক পরিবর্তন হওয়ায় স্রোত এসে খড়িয়া গ্রামে সরাসরি আঘাত করে। এর ফলে প্রতি বছর বর্ষাকালে নদীতে লৌহজংয়ের কোথাও না ভাঙলেও খড়িয়া এক এক করে ভেঙেই চলেছে।

ভিটেমাটি ভাঙনের মুখে থাকা মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহযোগিতা চাই না। সরকারের কাছে একটাই দাবি- নদী শাসন করে আমাদের ভিটেমাটি রক্ষা করা হোক।’

স্থানীয়রা বলেন, খড়িয়া গ্রাম থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বে পদ্মা সেতুর নদী শাসনের কাজ চলছে। সেতুর হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সাথে সামান্য কিছু খরচ এখানে করলে এ এলাকা ভাঙন থেকে রক্ষা পেত। বেঁচে যেত আমাদের বাপ-দাদার ভিটেবাড়িসহ হাজারো এলাকাবাসী।

তারা বলেন, ‘খড়িয়া গ্রামের পাশাপাশি চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মার ভাঙন ও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সেইসাথে চরের নয়টি গ্রামের বাসাবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চরবাসী। ফলে জীবনযাত্রা হয়ে পড়ছে দুর্বিসহ। চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এখনই ত্রাণ প্রয়োজন।’

ইতোমধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ মুরাদ আলী ভাঙন ও বন্যা কবলিত এলাকাসমূহ পরিদর্শন করেছেন।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খাঁন বলেন, খড়িয়ার ভাঙন সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। এলাকাটি ইতোমধ্যেই পদ্মা সেতুর নদী শাসনের আওতায় রয়েছে। আগামী অর্থ বছরে ভাঙনরোধে কাজ শুরু হবে।- ইউএনবি

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ