Quantcast
ঢাকা, বুধবার 31 October 2012, ১৬ কার্তিক ১৪১৯, ১৪ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১১৩০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জেরা চলাকালে বার বার বাধা ও বিতর্ক

দৈনিক সংগ্রামের কপি জব্দ করার কথা অস্বীকার

পত্রিকা জব্দ করার পর তা অস্বীকার করার পেছনে উদ্দেশ্য রয়েছে -এডভোকেট মিজানুল ইসলাম

সামছুল আরেফীন : ভাষা সৈনিক, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকালে বাংলা একাডেমী থেকে ১৯৭১ সালের ১৮ মে থেকে ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত দৈনিক সংগ্রামের কপি জব্দ করলেও জেরায় তিনি অস্বীকার করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন, তিনি দৈনিক সংগ্রামের কপি দেখেছেন কিন্তু জব্দ করেননি। ডিফেন্সের পক্ষে পত্রিকা জব্দ করা সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে সত্য নয় উল্লেখ করে ব্যাখ্যাসহ বলতে চান। এ নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক চলে ট্রাইব্যুনালে। এ সময় ডিফেন্স পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা আগে বলেছেন জব্দ করেননি, এ কথা সঠিক বলেননি, আমরা এটাই বলতে চাচ্ছি। পত্রিকা জব্দ করার পর তা অস্বীকার করার পেছনে উদ্দেশ্য রয়েছে। জেরায় তদন্ত কর্মকর্তা মাওলানা একেএম ইউসুফের নেতৃত্বে রাজাকারবাহিনী গঠিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করলেও এর তথ্য সূত্র হিসেবে জানিয়েছেন তিনি তা স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে এবং তদন্তকালে জানতে পেরেছেন। রাজাকারবাহিনী সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর প্রধান হিসেবে জামায়াতের মোঃ ইউনুস নামে একজনের নাম উল্লেখ করেন। যার পরিচয়ের ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন তিনি বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।

গতকাল মঙ্গলবার দিনভর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হকের নেতৃত্বে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের ট্রাইব্যুনালে এই জেরা চলে। অধ্যাপক গোলাম আযম দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাগঠড়ায় ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন ডিফেন্স পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। তাকে সহায়তা করেন এডভোকেট মনজুর আহমদ আনসারী, এডভোকেট শিশির মুহাম্মদ মনির প্রমুখ।

গতকালের জেরা:

জেরা শুরু হয় ১০টা ৪৫ মিনিটে।

প্রশ্ন : তিতাস নামে ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে নদী আছে?

উত্তর : শুনেছি।

প্রশ্ন : পৈরতলা নিকটবর্তী রেল ব্রিজ থেকে তিতাস নদীর দূরত্ব কত?

উত্তর : জানা নেই।

প্রশ্ন : ওখান থেকে তিতাস নদী দেখা যায়?

উত্তর : স্মরণে নেই।

প্রশ্ন : মাইকিং করার কথা শুনেছেন এমন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নাম বলেন।

উত্তর : এই মুহূর্তে স্মরণে নেই।

প্রশ্ন : প্রদর্শনী-৫১৯ এ কূপন ও ছবি একই নাকি আলাদা?

উত্তর : বলতে পারছি না।

প্রশ্ন : ছবিটা কার?

উত্তর : যতদূর মনে হয় মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের।

প্রশ্ন : একপক্ষে উল্লেখিত এই ধরনের কূপন তদন্তকালে আর কয়টা সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন?

উত্তর : সংগ্রহ করতে পারিনি।

প্রশ্ন : ২ আগস্ট রাজাকারবাহিনী সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসে। তার আগে এই বাহিনীর প্রধান কে ছিলেন?

উত্তর : তা না জানলেও এই বাহিনী মাওলানা একেএম ইউসুফ সাহেবের নেতৃত্বে খুলনার খানজাহান আলী রোডের আনসার ক্যাম্পে ৯৬ জন জামায়াত কর্মী নিয়ে গঠিত হয়েছিল বলে তদন্তে পেয়েছি।

প্রশ্ন : মাওলানা একেএম ইউসুফ সাহেবের নেতৃত্বে রাজাকারবাহিনী গঠিত হয়েছে এর তথ্য সূত্র কি?

উত্তর : স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে এবং তদন্তকালে জানতে পেরেছি।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে এই তথ্য সংবলিত কোনো পত্রিকা বা নিউজ এজেন্সির খবর সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন?

উত্তর : এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।

প্রশ্ন : স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়ে সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন?

উত্তর : এ ধরনের খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তবে তাদের নাম এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।

প্রশ্ন : রাজাকারবাহিনী সংক্রান্ত কোনো তথ্য-প্রমাণ আছে?

উত্তর : সবচেয়ে পুরনো ডকুমেন্ট কোনটা তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে তদন্তে পেয়েছি।

প্রশ্ন : রাজাকারবাহিনী সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর প্রধান কে ছিলেন?

উত্তর : জামায়াতের মোঃ ইউনুস। তার পরিচয়ের ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মোঃ ইউনুস বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের ডিজি তথা ডিরেক্টর জেনারেল। তবে ট্রাইব্যুনাল এই পরিচয় সংক্রান্ত উত্তরটি গ্রহণ করেননি। বর্তমানে তিনি ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন বলে ট্রাইব্যুনালের রেকর্ডে লিপিবদ্ধ হয়।

প্রশ্ন : মোঃ ইউনুস ১৯৭১ সালের আগে বা পরে সরকারি চাকরি করতেন এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ আছে?

উত্তর : নেই।

প্রশ্ন : রাজাকার অর্ডিনেন্স জারির সময় আনসারবাহিনীর প্রধান কে ছিলেন?

উত্তর : এই মুহূর্তে স্মরণে নেই।

প্রশ্ন : গেজেটের পর রাজাকারবাহিনীর প্রথম প্রধান পুলিশের ডিআইজি আবদুর রহিম ছিলেন?

উত্তর : আমি জানি না।

প্রশ্ন : রাজাকারবাহিনী সামরিকবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর প্রধান কে ছিলেন?

উত্তর : স্মরণে নেই।

প্রশ্ন : পাকিস্তান সামরিকবাহিনীর কোন অফিসার অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে রাজাকারবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতেন?

উত্তর : স্মরণে নেই।

প্রশ্ন : এটা জানার জন্য পাকিস্তান আর্মির সাথে যোগাযোগ করেছেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : খাজা খয়ের উদ্দিনের নেতৃত্বে শান্তি কমিটি গঠনের পর তাকে পরিবর্তন করে অন্য কাউকে এর আহবায়ক/সভাপতি/চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ/মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল?

উত্তর : এ রকম কোনো তথ্য আমার জানা নেই।

প্রশ্ন : একপক্ষে উল্লেখিত রাজাকারবাহিনী ও শান্তিকমিটির প্রধান অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন না।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : শহীদ সিরু মিয়া পুলিশের উপ-পরিদর্শক/এসআই ছিলেন না।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ১ নবেম্বর আনোয়ারের ভাই ফজলু মিয়া চিঠি নিয়ে কুমিল্লা গেলে, কুমিল্লার রাজাকার কমান্ডার চিঠি পড়ে বলেন, ঈদের পর দিন কামালকে ছেড়ে দেয়া হবে আর সিরু মিয়াকে পুলিশে যোগদান করতে বলা হলো। এই কথাগুলো প্রদর্শনী-৫১৯ এ আছে?

উত্তর : হ্যাঁ।

প্রশ্ন : গণআদালতের গঠন, অভিযোগকারী ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আপনি কোনো তদন্ত করেছেন?

উত্তর : সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত করিনি।

এই সময় প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম আপত্তি তুলে বলেন, মিজান সাহেব একটি প্রশ্নের উত্তর রেকর্ড করার সময় আরো কয়েকটি প্রশ্ন জুড়ে দেন।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, একটা প্রশ্ন নেয়ার সময় সংশ্লিষ্ট আরো প্রশ্ন থাকলে এক সাথে নেয়া সম্ভব বলে সমস্যা কোথায়?

প্রশ্ন : স্কেচ ম্যাপ (প্রদর্শনী- ৫২০) এবং সূচিপত্র (প্রদর্শনী- ৫২১) আপনি তৈরি করেছেন? করেছি প্রদর্শনী ৫২০ ও ৫২১ স্কেচম্যাপ আপনি তৈরি করেছেন?

উত্তর : উপস্থিত ব্যক্তিদের সহায়তায় আমি করেছি। এটা বর্তমানের স্কেচম্যাপ।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পৈরতলা গণকবরে যাওয়ার পথ কি ছিল?

উত্তর : সড়ক পথ ছিল না। তবে পায়ে হাঁটার পথ ছিল।

প্রশ্ন : গণকবর থেকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া শহরে যাওয়ার সবচেয়ে নিকটবর্তী রেলস্টেশন কোনটা?

উত্তর : পূর্ব দিকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া রেলস্টেশন, দূরত্ব আনুমানিক ৪০০ গজ।

প্রশ্ন : ব্রিজটা কিসের ওপর?

উত্তর : জলাভূমির ওপর।

প্রশ্ন : পুরাতন কারাগারের স্কেচম্যাপ করেছেন?

উত্তর : হ্যাঁ।

প্রশ্ন : প্রদর্শনী-৫২২/২ এ কি পুরাতন কারাগারের ছবি? যে কারাগারে সিরু মিয়া থাকতেন।

উত্তর : হ্যাঁ। সামনের দৃশ্য এটা।

প্রশ্ন : ওখানে কারাগার স্থাপিত হওয়ার তারিখ লেখা আছে ১১/৭/৮৮।

উত্তর : যে দিন মহকুমা কারাগার থেকে জেলা কারাগার রূপান্তর হয় এটা সে সময়ের তারিখ।

প্রশ্ন : মহকুমা কারাগার স্থাপনের তারিখ বা নামফলক পেয়েছেন?

উত্তর : না , পাইনি।

প্রশ্ন : তদন্তকালে রমজান আলী, হাজী এমরানুর রেজা, শাহজাহান মিয়া, আবদুল খালেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন?

উত্তর : এই মুহূর্তে মনে নেই। তবে অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।

প্রশ্ন : প্রদর্শনী-৫২২/৩ এ বাড়ির মালিক দারা মিয়া কি বেঁচে আছেন?

উত্তর : মৃত। তার আরেক নাম মিজানুর রহমান মোল্লা। ঐ বাড়িতে তার ছেলে লিটন মোল্লা, মোস্তফা মোল্লা, শিবু মোল্লা ও আলাউল মোল্লা বসবাস করেন।

প্রশ্ন : তদন্তকালে বাংলা একাডেমীতে আপনি সর্বশেষ কবে গিয়েছেন?

উত্তর : ২২/২/২০১১ তারিখে সম্ভবত সকাল ১০টার দিকে।

প্রশ্ন : ঐ তারিখে যেসব পত্রিকা জব্দ করেছিলেন তার তালিকা কি আগেই করেছিলেন?

উত্তর : নির্দিষ্ট করে যাইনি।

প্রশ্ন : প্রত্যেকটি পত্রিকা নিজে পড়েছেন?

উত্তর : নিজেই সবগুলো পড়ার পর জব্দ করেছি।

প্রশ্ন : মোট কতটা পত্রিকা পড়েছেন?

উত্তর : ১৮/৫/৭১-২৯/১১/৭১ পর্যন্ত দৈনিক সংগ্রামের যে কপি সংরক্ষিত ছিল, সবগুলো পড়েছি।

প্রশ্ন : যেগুলো জব্দ করেননি, সেখানে অধ্যাপক গোলাম আযমের কোন বিবৃতি বা তার কোনো খবর ছিল?

উত্তর : স্মরণে নেই।

প্রশ্ন : পত্রিকায় সেন্সরশিপ কোন তারিখে জারি হয়?

উত্তর : জানা নেই।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশে আদৌ সেন্সরশিপ জারি করা হয়েছিল?

উত্তর : জানা নেই।

প্রশ্ন : সত্যায়নকারী জীবিত আছেন?

উত্তর : সবাই জীবিত আছেন।

প্রশ্ন : প্রদর্শনী-১-এ যে ফটোকপি দেয়া হয়েছে তার মূল কপি জব্দ করেছেন?

উত্তর : দেখেছি কিন্তু জব্দ করিনি।

জেরার এই পর্যায়ে মধ্যাহ্নের বিরতি হয়। বিরতির পর ২টা ১২ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়।

শুরুতেই একটি প্রশ্ন নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বিতর্ক হয়। তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্নটি ছিল : ২২/২/১১ তারিখ ১১টা ৫ মিনিটে বাংলা একাডেমী থেকে আপনি ১৯৭১ সালের মে মাস থেকে ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত ৭ মাসের পত্রিকা জব্দ করেন। এর উত্তরে তিনি সত্য নয় বলে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ডিফেন্স পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, সাজেশনের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রসিকিউশন ব্যাখ্যাসহ প্রশ্নোত্তরটি গ্রহণের কথা বলেন। এ সময় প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম বলেন, চীপে নেই এমন কোনো বিষয় জেরা হতে পারে না। ট্রাইব্যুনাল বলেন, যে জিনিসটি কোর্টে আনা হয়নি, সেটা আনা ডিফেন্সের অধিকার রয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বিতর্ক চলতে থাকে। এ সময় ডিফেন্সের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, প্রদর্শনী-১-এ ঐ তারিখে যে মূল পত্রিকার উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। সেটা ১১টা ৫ মিনিটে জব্দ করা হয়। মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা আগে বলেছেন জব্দ করেননি, এ কথা সঠিক বলেননি, আমরা এটাই বলতে চাচ্ছি। আমরা মনে করছি জব্দ করার পর তা অস্বীকার করার পিছনে উদ্দেশ্য রয়েছে। এ নিয়ে ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বিতর্ক চলে। বিরতির পর এই পর্যায় পর্যন্ত কোনো প্রশ্ন ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেনি। 

প্রশ্ন : ২২-০২-২০১১ ইং তারিখে বাংলা একাডেমীর মোবারক হোসেনের অনুকূলে জিম্মানামা সম্পাদন করেছিলেন?

উত্তর : মোবারক হোসেনের অনুকূলে জিম্মানামামূলে সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলো জিম্মায় প্রদান করি। জিম্মানামার সময় উল্লেখ নাই।

প্রশ্ন : ২২-০২-২০১১ ইং তারিখে বাংলা একাডেমীতে গিয়ে ১৯৭১ সালের ১৮ মে-এর পূর্বে শান্তি কমিটি গঠনের সংবাদ সংক্রান্ত দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার কোন সংবাদ সংগ্রহ করেছেন?

উত্তর : মে মাসের আগে দৈনিক সংগ্রামের কোনো কপি পাইনি।

প্রশ্ন : কবে থেকে বাংলা একাডেমী পত্রিকা সংগ্রহ করে?

উত্তর : আমি যতদূর জানি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সব পত্রিকাই সংগ্রহ করে।

প্রশ্ন : এপিপি-এর ১৯৭১ সালে ঢাকার সংবাদদাতা কে ছিলেন?

উত্তর : আমি তদন্তকালে অনুসন্ধান করি নাই।

ট্রাইব্যুনাল এ সময় বলেন, এই প্রশ্নের দরকার আছে?

প্রশ্ন : প্রদর্শনী- ২-এ উল্লেখিত এম এন এ আবুল কাশেম কোন দলের লোক ছিলেন?

ট্রাইব্যুনাল এই প্রশ্নটি গ্রহণ করেনি।

প্রশ্ন : এম এন এ আবুল কাশেম সাহেব জীবিত আছেন?

উত্তর : আমি জানি না।

প্রশ্ন : প্রদর্শনী-২-এ উল্লেখিত মেজর জেনারেল (অবঃ) ওমরাও খান, খাজা খয়ের উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক গোলাম আযম, মেজর আবছার উদ্দিন, আবুল কাশেম, দেওয়ান ওরাসাত হোসেন খান, তোহা বিন হাবিবদের মধ্যে অধ্যাপক গোলাম আযম ছাড়া জামায়াতের সদস্য কতজন ছিলেন?

উত্তর : অধ্যাপক গোলাম আযম জামায়াতে ইসলামীর আমীর ছিলেন, অন্যরা কে কি করতেন তা জানি না।

প্রশ্ন : সংবাদে উল্লেখিত শান্তি কমিটির সভায় অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবকে শান্তি কমিটি পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের একক ক্ষমতা প্রদান করা হয়?

উত্তর : সেখানে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রশ্ন : শান্তি কমিটি কোন তারিখে গঠিত হয়?

উত্তর : ৯/৪/১৯৭১।

প্রশ্ন : শান্তি কমিটি কোন নীতিমালার ভিত্তিতে হয়েছিল?

উত্তর : বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দুষ্কৃতকারীদের আন্দোলন হিসেবে গণ্য করে এই দুষ্কৃতকারীদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে শান্তি কমিটি গঠিত হয়েছিল।

প্রশ্ন : শান্তি কমিটির কোনো সাংগঠনিক কাঠামো ছিল?

উত্তর : যে প্রক্রিয়ায় শান্তি কমিটি গঠিত হয়েছিল ঠিক একই প্রক্রিয়ায় জেলা, মহকুমা, থানা এবং ইউনিয়ন শান্তি কমিটি গঠিত হয়েছিল।

প্রশ্ন : শান্তি কমিটি গঠনের ব্যাপারে সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল?

উত্তর : আমার জানা নেই।

প্রশ্ন : কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি কত সদস্য বিশিষ্ট ছিল?

উত্তর : ১৪০ সদস্য।

প্রশ্ন : কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি ১৯৭১ সালে কয়টি মিটিং করেছিল?

উত্তর : অনেকগুলো। তবে কয়টি এমন সংখ্যা বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল তারিখের পরে কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি মিটিং হয়েছিল মর্মে প্রকাশিত সংবাদের পত্রিকা বা নিউ এজেন্সির উদ্ধৃতি তদন্তকালে সংগ্রহ করেছিলেন? কোন কোন তারিখে?

উত্তর : সংগ্রহ করেছি। তার মধ্যে ১৩-০৪-১৯৭১, ১৫-০৪-১৯৭১, ২২-০৪-১৯৭১, ১৭-০৫-১৯৭১ উল্লেখযোগ্য। এই মিটিংগুলো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

প্রশ্ন : ১৭/৫/৭১ তারিখের সভা সংক্রান্ত খবরের সূত্র কি?

উত্তর : এই সংবাদ ১৯৭১ সালের ১৮ মে দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ১৮ মে তারিখে প্রকাশিত সংবাদ (প্রদর্শনী- ২) এর প্রথমে গতকাল সোমবার পূর্ব পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যালোচনার জন্য ঢাকায় সকল স্তরের নাগরিকদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয় উল্লেখ আছে?

উত্তর : হ্যাঁ। তবে এখানে আরও অনেক তথ্যবহুল সংবাদ আছে।