|
|
তিন দফা সময় বাড়ালেও সাড়া দেয়নি কোন প্রতিষ্ঠান
শাহেদ মতিউর রহমান : আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে দেশের প্রথম তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে এর কাজ শুরুই হচ্ছে না। ফলে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এখনো কাজ শুরুই করতে না পারায় এ সরকারের মেয়াদে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত চার কোম্পানি দরপত্রের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করে এমনই দাবি করেছে পেট্রোবাংলা। দেশের গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিদিন ৫শ' মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গত বাজেটে বরাদ্দও রাখা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দরপত্র আহবান করেও কোন প্রতিষ্ঠানকে পাওয়া যায়নি যারা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে রাজি আছে। ফলে বর্তমান সরকারের আমলে এলএনজি আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুর জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে এখন পর্যন্ত কোনো ভালো খবর নেই। উপযুক্ত ঠিকাদার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে চেষ্টা চলছে দেখি কি হয়। পুনরায় দরপত্র আহবান করা হবে বলেও জানান তিনি। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আরো জানান, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে ১৮ মাস সময় লাগবে। সে কারণে বর্তমান সরকারের সময়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়া কঠিন।
সূত্র জানায়, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে প্রাথমিকভাবে চার কোম্পানি মনোনীত হয়। কোম্পানিগুলো হচ্ছে, ভারতের হিরানান্দিয়ানি, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস অ্যাস্ট্রা ওয়েল এন্ড এক্সিলারেট এনার্জি, দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের সিএন্ডটি কর্পোরেশন ও দ্বীপ রাষ্ট্র বারমুদার গোলার এলএনজি এনার্জি। এই চার কোম্পানির মধ্যে মাত্র একটি যথাসময়ে দর প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। এ কারণে দরপত্রে অংশগ্রহণের সময় গত ৩১ জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল করা হয়, তবে সে দফায়ও কোনো কোম্পানিই চূড়ান্ত দরপত্র জমা দেয়নি। অপর একটি কোম্পানির আবেদনের প্রেক্ষিতে দরপত্র জমা দেয়ার সময়সীমা দ্বিতীয়বারের মতো ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু সব শেষে স্যামসাংয়ের সিএন্ডটি কর্পোরেশন আনুষ্ঠানিকভাবে পেট্রোবাংলাকে জানিয়ে দিয়েছে, তারা মূলত এ কাজটি আর করছে না।
কোম্পানিটি তাদের লেখা চিঠিতে বলেছে, পেট্রোবাংলা চুক্তি স্বাক্ষরের ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে চায়। কিন্তু তাদের টার্মিনাল নির্মাণের জন্য দুই বছর সময় প্রয়োজন। এছাড়া দরপত্র জমা দেয়ার জন্য যে সময় দেয়া হয়েছে তাও যথেষ্ট মনে হয়নি কোম্পানিটির। সঙ্গত কারণে কোম্পানিটি সরে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, প্রাথমিকভাবে বন্দর নগরী চট্টগ্রামকে বাঁচানোর জন্য এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে সংকট নিরসনের জন্য সারা দেশে এলএনজি ছড়িয়ে দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
পেট্রোবাংলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত মহেশখালী দ্বীপের কাছে ভাসমান এ টার্মিনাল নির্মিত হবে। এ টার্মিনালে বছরে ৫ লাখ টন এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করা যাবে। পরে পাইপ লাইনের মাধ্যমে এ গ্যাস চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত আনা হবে। এতে জ্বালানি তেল কম আমদানি করতে হবে। জাপান-ভারতসহ জ্বালানি সংকটে ভুগছে এমন অনেক দেশই এলএনজি আমদানি করছে। পাকিস্তানও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।

