|
|
খাজা মঈনুদ্দীন চিশতীর (রহ.) কবর জিয়ারত করলেন খালেদা জিয়া
গতকাল আজমীরে হজরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতির (রহঃ) মাজার জিয়ারত করেন ভারত সফররত বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া
স্টাফ রিপোর্টার : আজমীরে হজরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতির (রহঃ) কবর জিয়ারত করেছেন ভারত সফররত বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও দেশবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন। সফরের পঞ্চম দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জয়পুর থেকে সড়কপথে খালেদা জিয়া আজমীর রওনা হন। দুপুর সোয়া ১টায় আজমীর শরীফ পৌঁছেন তিনি। তার আগমন উপলক্ষে পুরো এলাকা নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেয়া হয়। খালেদা জিয়া সেখানে পৌঁছালে প্রধান খাদেমের নেতৃত্বে অন্যান্য খাদেমরা তাঁকে অর্ভ্যত্থনা জানান।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আজমির শরীফ আসবেন শুনে হাজার হাজার উৎসুক মানুষ রাস্তার দ'ুধারে ও কবরস্থানের আশেপাশে ভিড় করেন। হাজার মানুষের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুফি সাধক খাজা হযরত মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ.) এর কবর জিয়ারত করেন। তিনি কবরে গিলাপ দেন। এসময় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির অব্যাহত সুখ ও শান্তি কামনা করা হয়। এছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রূহের মাগফিরাত কামনা, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, আরাফাত রহমান, জিয়া পরিবার, প্রতিনিধি দলের সদস্য ও বাংলাদেশের সব মানুষের সুস্বাস্থ্য ও দীঘায়ু কামনা করা হয়। এ সময় বেগম খালেদা জিয়াকে জায়নামাজ ও বিশেষ ধর্মীয় উত্তরীয় উপহার দেয়া হয়। তাঁর সাথে থাকা প্রতিনিধি দলের সদস্য বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহম্মেদ, রিয়াজ রহমান, প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, সাবেক এমপি খালেদা রববানী, ব্যক্তিগত সহকারী সালেহ আহম্মেদ, ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার নুরুদ্দীন আহম্মেদ ও সাথে থাকা সাংবাদিকদের টুপি ও পাগড়ী পরিয়ে দেয়া হয়। এরপর পরিদর্শন বইতে বেগম খালেদা জিয়া লেখেন, আমরা আল্লাহর রহমত চাই, বাংলাদেশ ও আমাদের জন্য দোয়া চাই, খালেদা জিয়া'। আজমির শরীফের উন্নয়নের জন্য বেগম খালেদা জিয়া নগদ অর্থ অনুদানও প্রদান করেন প্রধান খাদেমের কাছে।
এরপর বেগম খালেদা জিয়া আজমিরের সার্কিট হাউজে আসেন। সেখানে তিনি কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। তারপর তিনি জয়পুরে রামপ্যালেসে ফিরে আসেন। আজ শুক্রবার সকালে তিনি নয়াদিল্লীর উদ্দেশে জয়পুর ত্যাগ করবেন। দুপুরের দিকে ভারতের প্রধান বিরোধীদল বিজেপীর সভাপতি নিতিন গাদকারীর সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার।
ভারত সরকারের আমন্ত্রণে গত রোববার ৭ দিনের সফরে বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নয়াদিল্লি যান। বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ, বিরোধী দলীয় নেতা সুষমা স্বরাজ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশীদ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন, পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়া পানির নায্য হিস্যা, তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরেন। সফর শেষে খালেদা জিয়া আগামী ৩ নবেম্বর দেশে ফিরবেন বলে প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান জানিয়েছেন।

