|
|
কাঁচা চামড়া রফতানির ঘোষণা
স্টাফ রিপোর্টার : দেশে কাঁচা চামড়ার দাম কম ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা না থাকায় ভারতে পাচার ঠেকাতে বাণিজ্যমন্ত্রী কাঁচা চামড়া রফতানির কথা বলার পর সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না দাঁড়ালে কঠোর আন্দোলনে যাবে বলেও জানিয়েছে চামড়া ব্যবসায়ীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডী কার্যালয়ে সম্মেলন করে চামড়া ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিনিস্ড লেদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বেলাল হোসেন, সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম আনসারী, ট্যানারস্ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শামসুল হুদা ও পোস্তার ফড়িয়া ব্যবসায়ী নেতারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে তারা বলেন, চামড়া শিল্পের সঙ্গে ৬০ হাজার শ্রমিক ও হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। সরকার এসব সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসতে হবে। তা না হলে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ হারাবে ও শ্রমিকরা পথে বসবেন।
আরও বলা হয়, স্বাধীনতার পর কখনই কাঁচা চামড়া রফতানি হয়নি। এখন কেন রফতানি হবে? বর্তমানে চামড়ার চালু কারখানায় ৭৫শতাংশ চামড়া আসে। এখনও ২৫শতাংশ চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। এছাড়াও সাভারে চামড়ার কারখানা স্থানান্তর করা হলে কারখানার ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এসময় কাঁচা চামড়া রফতানি হলে সরকারের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। ১৯৯০ সালেও জাতীয় পার্টি সরকার ওয়েট ব্লু বন্ধ করেছিলো। যা এখন চালু হয়নি। চামড়া শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য রফতানির কথা বলছে।
এসময় ট্যানারস অ্যাসোসিশেনের চেয়ারম্যান শামসুল হুদা বলেন, ট্যানারিতে উৎপাদিত পাকা চামড়া শুধু রফতানি পণ্য নয়, দেশে স্থাপিত পণ্য উৎপাদনকারী কারখানাগুলোতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহ্নত হচ্ছে। এ অবস্থায় ভুল সিদ্ধান্ত দেশের ফুটওয়্যার ও লেদারগুডস শিল্পেও বিপর্যয় ডেকে আনবে।
বাংলাদেশ ফিনিসড লেদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বেলাল হোসেন বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। কাঁচা চামড়া রফতানি হলে প্রত্যেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে পাচারকারীরা আরো সক্রিয় হয়ে উঠবে। সরকার এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে না দাঁড়ালে ব্যবসায়ীরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। পোস্তার ফঁড়িয়া ব্যবসায়ী নেতারাও ট্যানারী মালিকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে।

