Quantcast
ঢাকা, বুধবার 6 March 2013, ২২ ফাল্গুন ১৪১৯, ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২৭০৪ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

কুমিল্লায় হরতালে আ'লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ

বিএনপি কার্যালয়সহ দোকানপাট ভাংচুর অগ্নিসংযোগ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

কুমিল্লায় অস্ত্র হাতে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের এ্যাকশন

কুমিল্লা অফিস : সারা দেশে গণহত্যা, কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরচদ্ধে মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার বিএনপির ডাকা হরতালে কুমিল্লা মহানগরী বিএনপি-আ'লীগের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। নগরীর কান্দিরপাড়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সকাল থেকে গণজাগরণ মঞ্চের কাছে এসে উপস্থিত হয়। এসময় বিএনপির কর্মীরা হরতাল সমর্থনে মিছিল বের করে কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরের সামনে আসলে দু'পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ শুরচ হয়।

হরতালে কুমিল্লা নগরীতে তান্ডব চালিয়েছে হরতাল বিরোধী আ'লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। হরতাল সমর্থক ও হরতাল বিরোধীদের মাঝে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। হরতাল বিরোধীদের তান্ডবে কান্দিপাড় ও এর আশ পাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় হরতাল বিরোধীরা ব্যাপক বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ ও বিএনপি কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এসময় গোটা নগরী জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর কান্দির পাড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেয় হরতাল সমর্থক ও হরতাল বিরোধীরা।
হরতালের পক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বেগম রাবেয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে কান্দিরপাড় টাউনহল গেটের বিপরীত পার্শ্বে অবস্থান নেয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সেখানে অন্যান্যের মধ্যে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন কায়ছারসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে বিএনপির অবস্থানের প্রায় ২০ গজ পশ্চিমে কান্দিরপারে পূবালী চত্বরের পূর্ব পাশে অবস্থান নেয় হরতাল বিরোধীরা। হরতাল বিরোধীদের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার । দুপুর ১টার দিকে কান্দির পাড়ে আচমকা একটি ককটেল বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে। শুরচ হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এক পর্যায়ে হরতাল বিরোধীরা হরতাল সমর্থকদের আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধাওয়া করে। এসময় হরতালকারীদের লক্ষ্য করে অন্তত অর্ধশত রাউন্ড গুলীবর্ষণ ও ২২টি ককটেলে বিস্ফোরণ ঘটায় তারা।

ধাওয়া খেয়ে হরতালকারীরা কান্দিরপাড় ত্যাগ করার পর হরতাল বিরোধীরা তান্ডব চালায়। তারা লাকসাম রোডে ৪টি মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে, বিএনপি কার্যালয়সহ আরো ১৫ থেকে ২০ দোকান ভাংচুর করে। এসময় ছাত্রলীগের গুলী ও ককটেলের আঘাতে আহত হয় সময় টিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি বাহার রায়হান, স্থানীয় দৈনিক কুমিল্লা কণ্ঠ পত্রিকার ফটো সাংবাদিক রবিউল হোসেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, নগর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক রচবেল, নগর ছাত্রদল আহবায়ক জনি পাটোয়ারী। এসময় পথচারী এদিক ওদিক ছোটাছুটির সময় কমপক্ষে ১৪জন আহত হয়। তবে কেউ গুলীবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। অবশ্য বিএনপির এক কর্মী আহত জামাল মুন্সি (৩৫) কে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়।

এর আগে ভোর থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়কে হরতালের পক্ষে মিছিল করে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
ঘটনার পর নগরীতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নগরীতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ। এদিকে হরতাল বিরোধীদের নাশকতামূলক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে কুমিল্লায় কাল হরতাল ডেকেছে বিএনপি। বুধবার কুমিল্লা মহানগরীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি। মঙ্গলবার বিএনপির হরতাল চলাকালে নগরীর কান্দিরপাড়ে বিএনপির ওপর আওয়ামী লীগের হামলা ও দলীয় কার্যালয় ভাংচুরের অভিযোগ এনে দক্ষিণ জেলা বিএনপি এ হরতাল আহবান করে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বিএনপির দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি বেগম রাবেয়া চৌধুরী তার বাসভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে হরতালের ঘোষণা দেন।

এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করছিল। এসময় কান্দিরপাড়ে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের উপস্থিতিতে তার দলের নেতা-কর্মীরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি মাহবুর রহমান, সহ-সভাপতি ফজলুল হক ফজলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়াসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ৬ মার্চ বুধবার শুধুমাত্র কুমিল্লা নগরীতে সকাল-সন্ধ্যা এ হরতাল পালন করবে বিএনপি। জেলার বাকি ১৬টি উপজেলা এ হরতালের আওতা মুক্ত থাকবে।