Quantcast
ঢাকা, বুধবার 6 March 2013, ২২ ফাল্গুন ১৪১৯, ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৩২৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

আজ দেশব্যাপী গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা

গণহত্যা বন্ধ ও সাঈদীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত জনগণ ঘরে ফিরে যাবে না -রফিকুল ইসলাম খান

দেশব্যাপী গণহত্যার প্রতিবাদে ও আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে আজ বুধবার দেশব্যাপী গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান গতকাল মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঘোষিত রায় প্রত্যাখ্যান ও গণহত্যার প্রতিবাদে এবং বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কুরআন আল­¬ামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার হরতাল কর্মসূচি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সফল করেছে। দেশের আপামর জনতা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, গণহত্যা ও ইসলাম নির্মূলের সরকারি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে। জনগণের গড়ে ওঠা আন্দোলন স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য সরকার নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। সরকার দলের লোকেরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি-ঘর ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা চালিয়ে তা জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ওপর চাপিয়ে দেয়ার অপকৌশল গ্রহণ করেছে। তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া তা ফলাও করে প্রচার করছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় মন্দির ও হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের সনাক্ত করে শাস্তি বিধানের আহবান জানিয়েছি। সেই সাথে দেশের সর্বস্তরের জনতাকে সংখ্যলঘুদের ওপর নির্যাতনকারীদের প্রতিহত করার আহবান জানিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, সরকারের বিরচদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করার জন্য সরকার গণহত্যা চালিয়ে তা জামায়াতের তান্ডব বলে মিথ্যাচার চালাচ্ছে। দেশের জনগণ বিভিন্ন চ্যানেল, পত্র-পত্রিকা ও ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে দেখেছে পুলিশ কিভাবে নিরীহ, নিরস্ত্র মানুষকে গুলী করে হত্যা করেছে। পুলিশদের কেউ আক্রান্ত হয়ে নয়, তারা ঠান্ডা মাথায় গুলী চালিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাসমূহ এ নৃশংস মানবতাবিরোধী গণহত্যার নিন্দা জানিয়েছে এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রক্তপিপাসু খুনি সরকার এসব মতামত ও উদ্বেগকে তোয়াক্কা না করে আরো হত্যাকান্ড সংঘটিত করছে। দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত কতিপয় অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তা হত্যাকান্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এসব পুলিশ অফিসারগণ রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে, জনগণের নিরাপত্তা বিধানের পরিবর্তে, জননিধনে অবতীর্ণ হয়েছে। সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও ১৪ দলীয় নেতাগণ গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে চলমান আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাচ্ছে। আন্দোলনরত সাধারণ জনতার বিরচদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জনতার এ আন্দোলন দেশ রক্ষার আন্দোলন। আওয়ামী সরকার ইসলাম ও কোরআন-সুন্নাহ্ এবং সাধারণ জনতার বিরচদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা সংবিধান থেকে আল¬াহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস উঠিয়ে দিয়েছে। মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ধারা বিলুপ্ত করেছে। ইসলামবিরোধী নারীনীতিমালা প্রণয়ন করেছে। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ইসলাম উৎখাত করেছে। তারা মাদরাসা শিক্ষাকে সংকোচন করেছে।

তিনি বলেন, শাহবাগী নাস্তিক ব­গারদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ইসলামকে অবমাননা করেছে। দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আসামী করেছে। ২০ জন মুসল­xকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। সারা দেশের ৩০০ মসজিদে সরকারি নজরদারি ও পুলিশ পাহারা বসিয়ে তা মুসল­¬ীশূন্য করেছে।
তিনি আরো বলেন, দেশ থেকে ইসলামী নেতৃত্বশূন্য করার উদ্দেশে বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে হত্যার উদ্দেশে সরকার নির্দেশিত ছকে ফাঁসির আদেশ দিয়ে দেশকে এক ভয়াবহ সংকটে নিক্ষেপ করেছে। তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও পুলিশ পাহারায় নাস্তিক ব­¬গারদের নেতৃত্বে শাহবাগে সমাবেশ ঘটাচ্ছে। তৌহিদী জনতাকে তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার মিছিল, মিটিং, সমাবেশ করতে দিচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, এ সরকারের ৫৩ মাসের শাসনামলে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪০ হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। ১৮ হাজার মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলায় ৫ লাখ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীকে আসামী করেছে। ৪০০ জন নেতা-কর্মীকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। দুশ' মহিলা ও ছাত্রীকে গ্রেফতার করেছে। তন্মধ্যে ১৭৩ জন মহিলাকে রিমান্ডে নিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে চোখ তুলে ফেলা হয়েছে। গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলী করা হয়েছে। অনেকের পায়ে গুলী করে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ সরকারের শাসনামলে মোট ২ শতাধিক মানুষকে গুলী করে হত্যা করা হয়েছে। সরকারের ইসলামবিরোধী অবস্থান, নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা ও আল্লামা সাঈদীর মুক্তির দাবিতে গড়ে ওঠা জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার উদ্দেশে ২৮ ফেব্রচয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত গুলী করে হত্যা করা হয়েছে ১৪৭ জনকে। ১০ হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছে। অসংখ্য পরিবারকে সর্বস্বান্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন , আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, দেশের জনগণ সরকারের অপকর্মের বিরচদ্ধে জেগে উঠেছে। জনগণ এ গণহত্যা বন্ধ ও আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবে না। জনগণের এ দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা আজ দেশব্যাপী গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিলে কিংবা নিরীহ জনগণের ওপর গুলী চালালে হরতাল, অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।