Quantcast
ঢাকা, বুধবার 6 March 2013, ২২ ফাল্গুন ১৪১৯, ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৮৫১ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বিশ্বজিৎ দাশ হত্যাকান্ড

ছাত্রলীগের ২১ ক্যাডারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট

কোর্ট রিপোর্টার : রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে বিশ্বজিৎ দাশকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার দু'মাস ২৪ দিন পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ ছাত্রলীগ ক্যাডারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর তাজুল ইসলাম ঢাকার সিএমএম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত সূত্র জানায়, চার্জশিটে ২১ জনকে আসামী করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ৭ জন বর্তমানে কারাগারে আটক ও ১৪ জন পলাতক। ৬০ জনকে এ মামলার সাক্ষী করা হয়েছে।

বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ডে ২ মাস ২৪ দিন পর আদালতে এ চার্জশীট দেয়া হলো। চার্জশীটভুক্ত আসামীরা হলো- রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাজন তালুকদার, খন্দকার ইউনুস আলী, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক, তারেক বিন জোহর ওরফে তমাল, গোলাম মোস্তা, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, মীর নূরে আলম লিমন, আল-আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, এ এইচ এম কিবরিয়া, মনোয়ারচল হক পাভেল, সাইফুল ইসলাম, কাইউম মিয়া টিপু, কামরচল হাসান ও মোশারফ হোসেন। আসামীদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক, জিএম রাশেদুজ্জামান, এ এইচ এম কিবরিয়া, সাইফুল ইসলাম ও কাইউম মিয়া টিপু বর্তমানে কারাগারে।

গত ২৩ ডিসেম্বর হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আসামী শাকিল, শাওন, এমদাদ ও নাহিদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালতপাড়া থেকে গ্রেফতারকৃত মামুন-অর-রশিদ, ফারচক হোসেন, কাজী নাহিদ-উজ্জামান তুহিন ও মোসলেহ উদ্দিন মোসলেম নামের ৪ জনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে।

মামলার চার্জশিটে বলা হয়, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর জগন্নাথ ছাত্রলীগের ২০০/২৫০ জনের একটি অবরোধবিরোধী মিছিল বের হয়। মিছিলটি মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে এলে কয়েকজন আইনজীবী অবরোধের পক্ষে সেলাগান দেন। এ সময় মিছিলকারীরা কয়েকজন আইনজীবীকে পিটিয়ে জখম করেন।

এরপর মিছিলটি ভিক্টোরিয়া পার্কের দিকে যেতে থাকলে মিছিলের পেছনের অংশে ২/৩টি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এ সময় বিশ্বজিৎ দৌড় দিলে ককটেল বিস্ফোরণকারী সন্দেহে মিছিলকারীরা তাকে আটক করেন। এরপর রাজনই প্রথম তার হাতে থাকা কিরিচ দিয়ে বিশ্বজিতের পিঠে আঘাত করে। এরপর রক্তাক্ত বিশ্বজিতকে শাকিল তার হাতে থাকা চাপাতি দিয়া কোপাতে থাকে। পরে আসামি তমাল ও অন্যান্যরা লোহার রড দিয়ে বিশ্বজিতকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। গুরচতর আহত বিশ্বজিৎ তাদের হাত থেকে বাঁচতে শাখারিবাজারের দিকে দৌঁড় দেন। এ সময় রিকশাওয়ালা রিপন তাকে নিয়ে তার টেইলারিং দোকানের দিকে যায়। সেখানে কাউকে না পেয়ে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই বিশ্বজিত মারা যায়। হামলার সময় বিশ্বজিৎ ছাত্রলীগ ক্যাডারদের কাছে ''হিন্দু'' দাবি করে প্রাণ ভিক্ষাও চায়।

উলে­খ্য, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন টেইলারিং ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ দাস। ওই দিন রাতেই অজ্ঞাতনামা ২৫ জন আসামির বিরচদ্ধে সূত্রাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন থানার এসআই জালাল আহমেদ। নিহত বিশ্বজিতের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর মশুরা গ্রামে। একই ঘটনায় ১৩ ডিসেম্বর সুপ্রীমকোর্টের এক আইনজীবী ঢাকার সিএমএম আদালতে আরেকটি মামলা করেন। আদালতে করা মামলায় ১০ আসামির নাম উলে­খ করা হয়। তারা হলেন, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, রফিকুল ইসলাম শাকিল, মোঃ এমদাদুল হক, ওবায়দুল কাদের, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন, ইউনূছ, তাহসিন, জনি, শিপলু ও কিবরিয়া। এছাড়া মামলায় আরো অজ্ঞাত শতাধিক ব্যক্তির কথা উলে­¬খ করা হয়েছে। এদিকে বিশ্বজিৎ হত্যায় জড়িত রফিকুল ইসলাম শাকিল, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন ও ওবায়দুল হককে স্থায়ী বহিষ্কার এবং মাহফুজুর রহমান নাহিদ ও মোঃ এমদাদুল হকের সনদপত্র বাতিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ছবির আলোকে এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এক জরচরি সভায় এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও প্রক্টোরিয়াল বডি।

অভিযোগ পত্রে বলা হয়, বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ডে জবি ছাত্রলীগের ২১ জন জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার চার আসামী ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। যাতে বিশ্বজিৎ হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে।