Quantcast
ঢাকা, রোববার 3 November 2013, ১৯ কার্তিক ১৪২০, ২৮ জিলহজ্জ ১৪৩৪ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৬৯৬ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

হাটহাজারীতে হেফাজতের উদ্যোগে লাখো জনতার মহাসমাবেশ

ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদের দোসরদের শেষ রক্ষা হবে না

* ১৫ নবেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ * ইসলামের বিপক্ষে এবং নাস্তিক ব্লগারসহ ধর্মদ্রোহীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারবে না * ওলামায়ে কেরাম সবসময় দুর্নীতি, মিথ্যাচার, সন্ত্রাস, হানাহানি ও জোর-জুলুমের বিরুদ্ধে * সরকার ক্বওমী মাদরাসাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং ইসলামী শিক্ষাকে ধ্বংস করার জন্য আইন পাস করতে চাচ্ছে * হেফাজত মহাসচিব আলেম-উলামাদের ওপর হয়রানি বন্ধ আটককৃতদের মুক্তি ও দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবি

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : ষড়যন্ত্রমূলক কওমি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আইন পাস থেকে সরকারকে বিরত থাকা, উলামা-মাশায়েখ ও ক্বওমী মাদরাসার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা ও কটূক্তি বন্ধ, সংসদ বহাল থাকতেই সংবিধান সংশোধন করে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, ইসলাম ও মহানবী (সা.)-এর কটূক্তিকারীদের ফাঁসির আইন পাস, উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী নেতৃবৃন্দকে হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও দমন-পীড়ন বন্ধ করা এবং হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল শনিবার উত্তর চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র হাটহাজারী পার্বতী হাইস্কুল ময়দানে হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর আহ্বানে উলামা-মাশায়েখ, মাদরাসা, স্কুল ও কলেজের ছাত্র-শিক্ষক, বিভিন্ন পেশার মানুষ এবং লক্ষাধিক সাধারণ তৌহিদী জনতার মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নানুপুর জামিয়া ওবাইদিয়ার পরিচালক আল্লামা সালাহ উদ্দীন নানুপুরীর সভাপতিত্বে এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা মির ইদরীস, এম আহসান উল্লাহ ও মাহমুদ হোসাইন এর পরিচালনায় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মজলুম জননেতা আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী। বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক আল্লামা মুফতী নূর হোসাইন কাসেমী, প্রবীণ মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ শামসুল আলম, আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, আল্লামা তাজুল ইসলাম, মাওলানা মাহফুজুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা সলিম উল্লাহ নাজিরহাট, মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহী, মাওলানা ইসহাক রাঙ্গুনিয়া, মাওলানা ফোরকান আহমদ, মুফতী জসীম উদ্দীন, মাওলানা আহমদ দীদার, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা হাবীবুল্লাহ আজাদী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন ঢাকা, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদি, মাওলানা মুফতী আব্দুল আজিজ, মাওলানা হাবীবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা হাফেজ ফয়সল, মাওলানা আজিজুর রহমান বাবুনগর, মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আলী, মাওলানা মুহিউদ্দীন একরাম, মাওলানা ইবরাহীম শিকদার, মাওলানা শফিউল আলম, মাওলানা আব্দুল্লাহ চারিয়া, মাওলানা ওসমান চারিয়া, মাওলানা জাহাঙ্গীর মেহেদী, মাওলানা জাকারিয়া নোমান, মাওলানা আলমগীর প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, হেফাজতের ১৩ দফা বাস্তবায়ন হলে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। দেশ বর্তমানের চেয়ে অনেক ভাল চলবে। আমাদের ১৩ দফায় কোন মারামারি, হানাহানি, মিথ্যাচার, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী নেই। ওলামায়ে কেরাম সবসময় দুর্নীতি, মিথ্যাচার, সন্ত্রাস, হানাহানি ও জোর-জুলুমের বিরুদ্ধে। ১৩ দফা বাস্তবায়ন হলে দেশের শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার পাবে। গামেন্টকর্মীরা তাদের নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতাসহ তাদের সকল অধিকার ফিরে পাবে। আমার বিরুদ্ধে সরকারের কিছু মন্ত্রী, এমপি ও কর্তা ব্যক্তিরা মিথ্যাচার ও কটূক্তি করে যাচ্ছেন। আমি যা বলেছি, তা ঠিকমত প্রকাশ না করে তারা মিথ্যা ও কারসাজির আশ্রয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি মহিলাদেরকে ফুলের সাথে তুলনা করেছি। রাণীর সাথে তুলনা করেছি। তারা মায়ের জাত। উলামায়ে কেরাম সবসময় নারী জাতির সম্মান, ইজ্জত ও নিরাপত্তার কথা বলে থাকেন। ইসলাম নারীকে যে মর্যাদা ও সম্মান দিয়েছে, কোন ধর্ম সে সম্মান দেয় নাই। আমাদের ঈমানী আন্দোলনে শাপলা চত্বরসহ সারাদেশে যারা শহীদ হয়েছেন, জুলুম-অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, আহত হয়েছেন, তাদেরকে আল্লাহ কবুল করুন। ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে দেড় লাখ গুলী খরচ হয়েছে। কতজন আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ নবীপ্রেমিকদের হত্যা করেছেন, তার হিসাব সরকারের কাছে আছে। আমি এই হত্যাকা-ের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী সরকারের সাম্প্রতিক ক্বওমী মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন পাসের উদ্যোগের প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের শর্ত মেনে যদি সনদ দেয়া হয়, তবে কোন বাধা নেই। কিন্তু সনদের কোন উল্লেখ না করে সরকার ক্বওমী মাদরাসাকে নিয়ন্ত্রণ করার  জন্য এবং দেশ থেকে ইসলামী শিক্ষাকে ধ্বংস করার জন্য আইন পাস করতে চাচ্ছে। ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা এ ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক ও বিধ্বংসী আইন পাস করতে দেবে না।

প্রধান বক্তা আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, আমরা আগেও বলেছি, ৯০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে ঈমান আকীদার বিপক্ষে, ইসলামের বিপক্ষে এবং নাস্তিক ব্লগারসহ ধর্মদ্রোহীদের পক্ষে এভাবে অবস্থান নিয়ে কেউ ক্ষমতায় যেমন টিকে থাকতে পারবে না, তেমনি কেউ ক্ষমতায় যেতেও পারবে না। এদেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতা, আলেম উলামা এখন দল-মত ও ছোটখাট মতভেদ ভুলে গিয়ে ১৩ দফা ঈমানী দাবিতে ঐকবদ্ধ। মুসলমানদের ঈমানী দৌলত ও হিম্মতের কাছে ষড়যন্ত্র করে কোন শক্তিই টিকে থাকতে পারে না। আমি আবারো পরিষ্কার বলতে চাই, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি এদেশের অধিকাংশ মানুষের দাবি। এ দাবি গণদাবি। জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করার পরিণাম শুভ হবে না। যারা নাস্তিক ব্লগার, রাসূল (সা.)কে কটূক্তিকারী ধর্মদ্রোহীদের পক্ষ নিচ্ছেন, তাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দেশের চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করছি।

তিনি নাস্তিক ধর্মদ্রোহী রাসূল (সা.)কে কটূক্তিকারী ব্লগারদের গ্রেফতার করে শাস্তি প্রদান, ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করে আইন পাস, সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থার নীতি ফিরিয়ে আনাসহ ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় জনগণ আপনাদেরকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে। হেফাজত মহাসচিব আলেম উলামাদের ওপর হয়রানি বন্ধ, দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং মুফতী ওয়াক্কাস, মুফতী সাখাওয়াত, মুফতী হারুনসহ গ্রেফতারকৃত আলেম উলামাদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানান।

মহাসমাবেশে বক্তারা বলেন, তৌহিদী জনতার একটাই দাবি শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের এই বাংলাদেশে ইহুদিদের এজেন্ট নাস্তিক-মুরতাদদের যেমন থাকার অধিকার নেই, তেমনি নাস্তিক্যবাদের সহায়ক ও দোসরদের ক্ষমতায় থাকারও কোন সুযোগ নেই। এদেশের মুসলমানদের শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতেও ইসলাম ও নবী (সা.)কে নিয়ে জঘন্যতম কটূক্তিকারী ও ইসলাম বিরোধী ধর্মহীন নাস্তিক সরকারকে বরদাস্ত করবে না, বরদাশত করা যায় না। সমাবেশে শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামাগণ পীর আউলিয়ার এ দেশে আলেম-উলামা, ইসলামী শিক্ষা, মসজিদ-মাদরাসার বিরুদ্ধে অবস্থান, নবী (সা.) সম্পর্কে কটাক্ষ এবং ইসলামকে নির্মূলের যে কোনো ষড়যন্ত্র জীবন দিয়ে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ইসলামের মর্মবাণী না বুঝে ইহুদি-নাসারাদের এজেন্টের মতো তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন আলমগীর, আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদসহ ক্ষমতাসীন সরকারের কতিপয় মন্ত্রী এমপি লাগামহীনভাবে উলামা-মাশায়েখ, ক্বওমী মাদরাসা ও ইসলাম বিরোধী বিভিন্ন বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে আঘাত হানছেন। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদি সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, ইসলাম ও রাসূল (সা.)এর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বন্ধ, শাপলা চত্বরের গণহত্যায় দায়ী এবং ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক চক্রের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হওয়া ছাড়া ফুঁসে ওঠা উলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতা ঘরে ফিরবে না। সুতরাং অবিলম্বে সরকারকে তার ইসলাম বিরোধী নীতি বদল করে হেফাজতের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নসহ আমাদের সকল দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় ইসলামের দুশমন এই জালিম সরকারের পতনসহ আগামী নির্বাচনে কোটি কোটি তৌহিদী জনতা সমুচিত জবাব দেবে।

হেফাজতে ইসলমের নায়েবে আমীর আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, বর্তমান সরকার পবিত্র ইসলাম ও ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই সরকার নাস্তিক মুরতাদদের মদদদাতা, নাস্তিকদের পক্ষ অবলম্বন করে সরকার একের পর এক ইসলাম বিরোধী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার নাস্তিক্যবাদের মদদদাতা হিসেবে জাতির কাছে চিহ্নিত হয়ে পড়েছে। কওমী মাদরাসাকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে লাখো হেফাজত কর্মী শহীদ হবে তবুও আমরা আমাদের দাবিতে অটল থাকব। অনেক হেফাজত নেতা কর্মীর নামে মামলা দেয়া হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করে জুলুম নির্যাতন করা হচ্ছে। অবিলম্বে সকল নেতা কর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নিশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

হেফাজতের ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, কোথাও হেফাজত কোন তা-ব ঘটায় নাই। তা-ব করেছে ছাত্রলীগ আর মামলা দেয়া হয়েছে হেফাজতের নেতাকর্মীদের। আগামীতে সাতটি মহানগরে সাতটি মহা সমাবেশ হবে। আগামী ১৫ নভেম্বর ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেটা করতে যদি বাধা দেয়া হয় তাহলে হরতালের মতো কঠিন কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।

যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহী বলেন, ধর্ম কারো সম্পত্তি নয়। দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা নতুন করে চালু হওয়ার পর থেকেই ইসলাম বিরোধীদের আস্ফালন লক্ষ্যনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির আড়ালে সারাদেশে অনাচার-ব্যভিচার ছড়িয়ে দেয়ার অপতৎপরতা চলছে।

সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপিদের আচরণ ও বক্তব্যে মনে হচ্ছে, মহাজোট সরকার সরাসরি ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকার ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদিদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে প্রমাণ করেছে এই সরকার তৌহিদী জনতা ও ইসলামবিরোধী।

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, মহানবী (সা.)এর মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ কোরবানির জন্য সর্বস্তরের তৌহিদি জনতাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। পবিত্র হাদীস শরীফে আছে, তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না নবীজীর প্রতি মুহাব্বত নিজের, পরিবার-পরিজনের, ছেলে-সন্তানদের মুহাব্বতের চেয়ে অধিক হবে।’ অথচ দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশে সেক্যুলার বর্তমান মহাজোট সরকারের ছত্রছায়ায় নাস্তিক, মুরতাদ ও গোমরাহ ব্লগাররা সরাসরি মহান আল্লাহতায়ালা, প্রিয় নবীজী, ইসলামী বিধিবিধান নিয়ে নির্লজ্জভাবে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার দুঃসাহস দেখানোর সাহস পাচ্ছে।

মাওলানা মীর ইদরীস বলেন, ধর্মহীন শিক্ষানীতি প্রণীত হওয়ার ফলে নতুন প্রজন্ম ইসলামের ভাবাদর্শ থেকে ছিটকে পড়ে নৈতিক ও চারিত্রিক অধঃপতনের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়ে পড়ছে।

মহাসমাবেশে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেগুলো হলো-৭ নবেম্বর সিলেট মহাসমাবেশ, ৮ নবেম্বর খুলনায় মহাসমাবেশ, ১৫ নবেম্বরের আগে সারাদেশে জেলা পর্যায়ে সমাবেশ, ১৫ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ এবং ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে মহাসমাবেশ করা হবে।

এর আগে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, নাজিরহাট, রাউজান, ফতেয়াবাদ, রাঙ্গুনীয়া, সীতুকু-, মিরেরস্বরাই, রাঙ্গামাটি, রামগড়, খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লক্ষাধিক ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতা, সাধারণ মানুষ, আলেম-উলামা ও ইসলামী চিন্তাবিদরা ইসলাম, উলামা-মাশায়েখ, ক্বওমী মাদরাসা ও তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে মহাজোট সরকারের ষড়যন্ত্র ও ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক মুরতাদ ব্লগারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাস ও ফাঁসির দাবিতে শত শত গাড়ি এবং খ- খ- বিক্ষুব্ধ মিছিল নিয়ে মহাসমাবেশে জমায়েত হয়।