Quantcast
ঢাকা, রোববার 5 February 2012, ২৩ মাঘ ১৪১৮, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৩৫৩ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

পরিবার ও আইনজীবীদের সাক্ষাৎ

৩ কেজি ওজন কমে গেছে অধ্যাপক গোলাম আযমের

গতকাল শনিবার প্রিজন সেলে জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের সাথে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ শেষে মিডিয়ায় ব্রিফিং করছেন সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহীল আমান আল আযমী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : কারা হাসপাতালে গিয়ে ৩ কেজি ওজন কমে গেছে ভাষা সৈনিক ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের। তিনি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছেন। কোন বেলায়ই তার চাহিদা মতো খাবার সরবরাহ না করায় তিনি পেটপুরে খেতে পারছে না। দৃষ্টি শক্তিও আগের চেয়ে কমে গেছে। বার বার আবেদন করার পরও বাংলায় অনুবাদ করা কুরআন শরীফ সরবরাহ করতে দেয়া হচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে ১৫/১৬টি আবেদন করা হলেও কোনটিতেই সাড়া দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। অধ্যাপক গোলাম আযম দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করছেন। তিনিও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

গতকাল শনিবার বিএসএমএমইউ-এর প্রিজন সেলে বিকেল ৪টা থেকে ৩০ মিনিটের জন্য সাক্ষাৎ করেন তার স্ত্রী মিসেস সৈয়দা আফিফা আযম, ছেলে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (সাবেক) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, পুত্র বধূ রুমা আযমী।

সাক্ষাৎ শেষে আবদুল্লাহিল আমান আযমী সাংবাদিকদের বলেন, আমার আববা মানসিকভাবে সুস্থ আছেন। তিনি ইতঃপূর্বে অনেকবার বলেছেন, তিনি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পান না। তবে তিনি শারীরিকভাবে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছেন। গলার স্বর অনেক নিচু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, জেলে যাওয়ার আগে তার ওজন ছিল ৭২ কেজি। গত সপ্তাহে তার ওজন ৭০ কেজি ছিল। এই সপ্তাহে আরো ১ কেজি কমেছে।

তিনি বলেন, ৯০ বছর বয়সী একজন মানুষের কী ধরনের পরিচর্যা দরকার, এটা আমরা সবাই জানি। আমার আববা এখন সে ধরনের পরিচর্যা পাচ্ছেন না। যে ধরনের সুষম খাবার দরকার তাও পাচ্ছেন না। তিনি রকমারী খাবার খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু তাকে সে ধরনের খাবার দেয়া হচ্ছে না। তিনি চাহিদা অনুযায়ী সে খাবার পাচ্ছেন না। তার দৃষ্টি শক্তিও কমে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গত সপ্তাহে হাঁটুতে যে ব্যথা পেয়েছিলেন, সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি।

তিনি দেশের জন্য, দেশের জনগণের জন্য দোয়া করছেন। তিনিও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। এ ছাড়া তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবদুল্লাহিল আমান আযমী তার পিতার শারীরিক সুস্থতা ও কারাগার থেকে মুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

যথাযথভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান। তবে কারা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত আমরা ১৫/১৬টি আবেদন করেছি। তারা এর কোনটিরই জবাব দেননি। আবেদন গ্রহণ হওয়ার ক্ষেত্রে কোন আইনী সমস্যা আছে কিনা তারা সেটা জানানোরও প্রয়োজন মনে করেননি। এখন পর্যন্ত অনুবাদসহ কুরআন শরীফ সরবরাহ করার অনুমতি দেয়া হয়নি। বাসার খাবারও নিয়ে যেতে দেয়া হচ্ছে না। বাসার তৈরি আচার তিনি খুব পছন্দ করেন, সেটাও দিতে দেয়া হচ্ছে না। দেখা করতে যাওয়ার সময় আমরা কিছু ফল এনেছিলাম, সেটাও সাথে নিয়ে যেতে দেয়নি। সমস্যার ব্যাপারে তিনি কোন অভিযোগ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বভাবগত ভাবেই তিনি কখনই কোন অভিযোগ করেন না। সমস্যাগুলো আমরা তার কাছে প্রশ্ন করে জেনেছি।

আইনজীবীদের সাক্ষাৎ :

এর আগে সকাল ১০টায় অধ্যাপক গোলাম আযমের সাথে সাক্ষাৎ করেন দুই আইনজীবী। তারা হলেন ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক ও এডভোকেট শিশির মুহাম্মদ মনির। তারা ৩ ঘণ্টা অবস্থান করেন। সাক্ষাৎ শেষে এডভোকেট শিশির মুহাম্মদ মনির সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আদেশ ক্রমে অধ্যাপক গোলাম আযমের সাথে আইনী বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তাকে পড়ে শুনিয়েছেন। এর কপিও তাকে দেয়া হয়েছে। আগামী ১১ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি আবারও সাক্ষাতের অনুমতি রয়েছে।