|
|
সাগর-রুনি হত্যাকান্ড
স্টাফ রিপোর্টার : সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন কাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রুলের জবাব না দেয়ায় অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দিতে এই নির্দেশ দেয় আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এবিএম আলতাফ হোসেনের কাছে আদালত রুলের জবাব না দেয়ার কারণ জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, আইজি অফিস থেকে জানিয়েছে, তারা এখানো আদেশের লিখিত কপি পাননি। এরপরই আগামী ২২ মার্চের মধ্যে সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
পরে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এ বি এম আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সাগর-রুনির মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন ২২ মার্চের মধ্যে দাখিল করতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত যে সাগর-রুনির নৃশংস হত্যাকান্ডে জড়িত খুনিচক্রের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাংবাদিক সংগঠনগুলো আন্দোলন করে আসছে। আগামী ৮ এপ্রিল সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবেন। একই দিনে বিভিন্ন জেলায় সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। ১৮ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মহাসমাবেশ থেকে সাংবাদিক নেতারা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্ব মহাসমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা আসে। সাংবাদিকদের চারটি সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এই কর্মসূচির আয়োজন করে। গত ১ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে অনশন কর্মসূচি পালনের পর ১৮ মার্চ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকাসহ সারাদেশের সাংবাদিকরা অংশ নেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এডভোকেট মনজিল মোরসেদ রিট আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে হত্যাকান্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় খুনিদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না- তা জানতে রুল জারি করেন আদালত। সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য সচিব, পুলিশের আইজি, র্যাবের মহাপরিচালক, ডিবির উপকমিশনার (দক্ষিণ) ও শেরেবাংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দু' সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়। একইসঙ্গে তদন্তের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি ছাড়া সংবাদ মাধ্যমে কোনো বক্তব্য না দিতে পুলিশকে এবং হত্যাকান্ড নিয়ে ‘মনগড়া' সংবাদ প্রকাশ বন্ধে তথ্য সচিবকে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে পুলিশ তাঁদের লাশ উদ্ধার করে। এদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের ধরার নির্দেশ দেন। ৪৮ ঘণ্টা চলে গেলেও ওই সময় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ৪৮ ঘণ্টা পর পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার তদন্তে ‘প্রণিধানযোগ্য' অগ্রগতির কথা জানান। এরপর পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় তদন্ত অগ্রগতির দাবি করে-‘মোটিভ জেনেছি তবে বলা যাবে না'; ‘খুনিদের ব্যাপারে ধারণা মিলেছে, তবে তদন্তের স্বার্থে বলা যাবে না;' ‘শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কাউকে গ্রেফতার করা হবে না' জাতীয় মন্তব্য করতে থাকেন। এ অবস্থায় জনমনে নানা বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকান্ডের সম্ভাব্য কারণ কমে আসায় হত্যা রহস্যের কিনারা শিগগিরই হতে চলেছে বলে আশা করা হলেও গত ৪০ দিনেও কোনো কূল কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। বরং তদন্ত উল্টো পথে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগও আলোচিত হচ্ছে।

