Quantcast
ঢাকা, বুধবার 21 March 2012, ৭ চৈত্র ১৪১৮, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৩
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৬৬০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

সংসদে শেখ হাসিনা

হত্যা খুন ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বন্ধ করে দেশকে শান্তির পথে এগিয়ে নেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি

গতকাল মঙ্গলবার সংসদে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সংসদ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী আন্দোলনের জন্য কেন ডিসেম্বর আর মার্চ মাস বেছে নেয় তা এখন স্পষ্ট। পাকিস্তানের আদালতের জবানবন্দিতেই তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

সংসদ নেতা দীর্ঘ ৪৯ মিনিট বক্তৃতা দেন। শেখ হাসিনা বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, খেলায় বাংলাদেশ চমৎকার ফিল্ডিং করেছে। ২৩২ রানে শ্রীলঙ্কাকে আটকে দিয়েছে। বাংলাদেশ যাতে জেতে সেটাই আমরা চাই। তিনি বলেন, খেলা শুরু হয়েছে, আমি বক্তব্য আরও সংক্ষেপ করার চেষ্টা করি। এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিরোধীদলীয় নেত্রীর মতো মিথ্যার ফুলঝুরি দেব না। তিনি ভুরি ভুরি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং মুখরোচক উপন্যাস পাঠ করেছেন।

 শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময় ছিল দেশের জন্য অভিশপ্ত। তখন উন্নয়নের জোয়ার ছিল না, ছিল ভাটার টান। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছি। সরকার মানে জনগণের সেবক। জনগণের সেবক হিসেবে এসেছি। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির সময়ে বোমাবাজি, খুন, লুটপাট, গ্রেনেড হামলা, হাত-কাটা, পা-কাটার ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নাটোর ও লক্ষ্মীপুরের খুন বিএনপির কোন্দলেই হয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগ জড়িত ছিল না। বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক ঘোষক করে এত বলেন। বলতে পারেন, কত রকমেরই না ঘোষক আছে। আদালতের রায় আছে, কে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে। তারপরও যখন দাবি করেন, লজ্জা করে না। যে পাকিস্তান হত্যা করলো, ধর্ষণ করলো তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচন করলেন। শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ পড়লেই বোঝা যাবে সরকার কি কাজ করেছে। যারা পড়ে নাই তাদের বলবো একটু পড়ে দেখেন। তিনি বলেন, বিএনপি অভিযোগ করছে তাদের নেতাকর্মী হত্যা করা হয়েছে। সবগুলোই তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হত্যাকান্ড হয়েছে। সংসদে জিয়াউর রহমানকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা বারবার স্বাধীনতার ঘোষক বলে সম্বোধন করে বক্তব্য দেয়ায় শেখ হাসিনা বলেছেন, হাইকোর্টের রায় আছে স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছেন। তাতে কিচ্ছু আসে যায় না। কারণ টেলিভিশনে কত ঘোষকই তো রয়েছে। ঘোষক বলেন দুঃখ নেই। কিন্তু যারা আমাদের মা বোনদের হত্যা করেছে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জাতিকে লজ্জা দিয়েছেন। তিনি বলেন, চারদলীয় জোট সরকার হাওয়া ভবন ও খোয়াব ভবন দিয়ে কিভাবে দুর্নীতি করেছেন, তা আমেরিকা, লন্ডন ও মালয়েশিয়ার লোকজনও বলেছে। কাজেই ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। বিরোধী দলীয় নেত্রী দুর্নীতি করে অনেক টাকা করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, আজ তিনি মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের বিরুদ্ধে কথা বলেন। অথচ তিনি নয়জন কর্মকর্তাকে লঙ্ঘন করে মইনউদ্দিনকে সেনাপ্রধান ও ওয়াশিংটন থেকে ফখরুদ্দিনকে এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর করেছেন, যাতে ভালভাবে মানি লন্ডারিং করা যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫'র পর দেশে যে হত্যা খুন ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়। আমরা সে রাজনীতি বন্ধ করে দেশকে শান্তির পথে এগিয়ে নেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি। শান্তির পথ প্রশস্ত করেছি। ২০০১ থেকে ২০০৬ বাংলাদেশের জন্য ছিল এক অভিশপ্ত সময়। যে চাল ১০ টাকা রেখে গিয়েছিলাম ২০০৮-এ সে তা পেলাম ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। তিনি বলেন, আমরা ৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন সাড়ে চার হাজার করেছিলাম। কিন্তু বিএনপি পরবর্তী পাঁচ বছরে তা কমিয়ে সাড়ে তিন হাজারে নামিয়ে আনে। তাদের উন্নয়ন হয়েছে শিশু ধর্ষণ, নারী ধর্ষণ, লুটপাট, খাম্বা খাতে। শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেছেন র‌্যাব নাকি মানুষ গুম করে হত্যা করে। অথচ তারা নিজ দলের জামালউদ্দিনকে হত্যা করে গুম করেছিল। তাদের সরকারের সময়ে ১৪ সাংবাদিক হত্যা ও এক হাজার ৪০০ জনকে নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের কথা বললে আজ রাত শেষ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী কোন মাসটি বেছে নেয় দেখুন। আমাদের বিজয়ের মাস, স্বাধীনতার মাস তার ভালো লাগে না। এজন্য তিনি বিজয়ের মাসে কর্মসূচি দেয়। আইএসআইয়'র প্রতিবেদনই তা প্রমাণ করে। তিনি বলেন, তাদের সরকারের সময় খালেদা জিয়া বলতেন আওয়ামী লীগ ৩০টি সিটের ওপরে পাবে না, আর আমি বিরোধীদলীয় নেতা তো দূরের কথা কিছুই হতে পারব না। দেখুন, আল্লার কি ইচ্ছা তারাই পেলেন মাত্র ২৯ সিট। বাকিটি আমি আর বলতে চাই না। সংসদ নেতা আরো বলেন, রাজনীতির একটা নীতি আছে। সে জন্যই রাজনীতি করি। ৯১ তে আমরা চাইলেও সরকার গঠন করতে পারতাম। কিন্তু জামায়াত ও এরশাদ থাকায় আমরা করিনি, কারণ এরশাদের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছি।

বিরোধীদলীয় নেত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ভুরি ভুরি মিথ্যা তথ্য দিয়ে গেছেন। কে উনাকে একখানা মুখরোচক উপন্যাস লিখে দিয়েছেন, উনি তা পড়ে গেলেন। দেশবিরোধীদের লেখা একখানা উপন্যাস তিনি পড়ে গেছেন। আমি মিথ্যা বলব না, একটি মিথ্যা প্রতিষ্ঠা করতে আরো অনেক মিথ্যা বলতে হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ৩০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি নিয়ে শুরু করেছি। তা আমরা ইতোমধ্যে অর্জন করেছি। রিজার্ভ এখন ১০ বিলিয়নের ওপরে। সমুদ্র বিজয় আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। বক্তৃতার শুরুতেই স্বাধীনতার মাসে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান সংসদ নেতা। তিনি বলেন, ৯১ সালের নির্বাচনে আইএসআই-এর টাকা নিয়েও বিএনপি এককভাবে জিততে পারেনি। জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল। ওই সময় আমরা ইচ্ছা করলে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সঙ্গে কোয়ালিশন করে সরকার গঠন করতে পারতাম। কিন্তু আমরা সেটা করি নাই। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ভোট কারচুপির জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার বানিয়েছিলেন। তিনি তার সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বর্ণনা দিয়ে বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন ১৫০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করেছি। ২৪ টাকা কেজিতে চাল দিচ্ছি। সাড়ে ৪ লাখ মানুষকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দিয়েছি। কমিউনিটি ক্লিনিক আবার চালু করে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করেছি। ডিজিটাল সেবা সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছি। ইউনিয়নগুলোয় তথ্য সেবা চালু করেছি। ৩ বছরে ২ হাজার ৯৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। বিদ্যুৎ সংযোগ বৃদ্ধি করেছি। কয়লাভিত্তিক সোলার সিস্টেমসহ বিভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরকেরেছি। ১৬ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন তৈরি করেছি। সাড়ে ৪ লাখ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ বিল চালু করেছি। সরকারে আসার পর ৪০০ মিলিয়ন নতুন গ্যাস বিতরণ লাইন নির্মাণ করেছি। রাস্তাঘাট নির্মাণ করেছি। ঢাকা চট্টগ্রাম চার লেনের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা রেলপথ নৌপথকে সচল করার ব্যবস্থা নিয়েছি। নতুন রেল মন্ত্রণালয় করেছি। কমিউটার ট্রেন চালু করেছি। ৩ বছরে ২৬৬ কোটি ডলার বিদেশী বিনিয়োগ এনেছি। বিএনপির ৫ বছরেও ২০০ মিলিয়ন বিনিয়োগ হয়নি। দারিদ্র্যসীমা  ১০ ভাগ হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমরা চাই না সংসদের পরিবেশ নষ্ট হোক। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদেরও এক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা নিজেই কালো টাকা সাদা করেছেন। জরিমানা দিয়ে তার ছেলেরা কালো টাকা সাদা করেছেন। সিঙ্গাপুরের আদালতেও তার ছেলের বিরদদ্ধে বিচার হচ্ছে। এরচেয়ে লজ্জার কিছু হয় না। একজন সরকার প্রধানের ছেলের বিচার বিদেশের আদালতে হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ই-টেন্ডার চালু করেছি। মোবাইলে বাংলায় এসএমএস চালু এবং মোবাইল ফোনে বাংলা কি প্যাড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছি। অপটিকাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন করছি। আমরা দেশকে উন্নত করতে চাই। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশ আজ ক্ষতিগ্রস্ত। বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষমতায় থাকলে সব ভুলে যান। বিরোধী দলে গেলে মনে পড়ে। তিস্তা নদীর চুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে আপনারা কি করেছেন। সীমান্তে হত্যার সময় বিএনপি নীরব ছিল কেন? বিএনপির আমলে এমন কোন দিন নাই যেদিন সীমান্তে হত্যা হয়নি। আমরা এবার প্রতিবাদ করেছি বলেই বিএসএফ সৈন্যদের শান্তি হয়েছে। আমরা তিন বিঘা করিডোর আদায় করেছি। ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মাথা উঁচু করে চলবো। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখে চলবো। মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমা নিয়ে জয়ী হযেছি। ভারতের সঙ্গে মামলাতেও জয়ী হবো।