|
|
শ্রীলংকার সাথে জয়ের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের উল্লাস
রফিকুল ইসলাম : প্রথম বারের মতো এশিয়া কাপের স্বপ্নের ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। গতকাল শ্রীলংকাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে এশিয়া কাপের ফাইনালে। এশিয়া কাপের ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ ছিল ভারতেরও। তবে গতকাল বাংলাদেশ শ্রীলংকাকে হারালে কপাল পুড়ে ভারতের। কারণ, বাংলাদেশ আর ভারতের পয়েন্ট (৮) সমান হলেও হেড টু হেডে বাংলাদেশ ভারতকে পিছনে ফেলে এশিয়া কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে। এশিয়া কাপে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হারলেও ভারত আর শ্রীলংকাকে হারিয়ে যোগ্য দল হিসেবেই ফাইনালে উঠেছে। এর আগেও বাংলাদেশ শ্রীলংকাকে দু'বার হারিয়েছিল। এশিয়া কাপে ভারতকে হারানোর পরের ম্যাচেই বাংলাদেশ হারিয়েছে শ্রীলংকাকে। পর পর দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের শক্তির পরীক্ষা দিল চমক দিয়েই। বাংলাদেশের কাছে হেরে এশিয়া কাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত আর রানার্সআপ শ্রীলংকাকে। এশিয়া কাপে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। দুই জয়ে বোনাসসহ ৯ পয়েন্ট আছে পাকিস্তানের। গতকাল আগে ব্যাট করে শ্রীলংকা এক বল বাকি থাকতে অল আউট হয় ২৩২ রানে। তবে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ে ব্যাট করতে পারেনি। বৃষ্টি হানা দিলেও বাংলাদেশের জয় ঠেকাতে পারেনি। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা ৫০ মিনিট পরে রাত ৮টায় ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ফলে ডাকওয়ার্থ/লুইস (ডি/এল) পদ্ধতিতে ৪০ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ২১২ রান। বাংলাদেশ ৩৭.১ ওভারে ৫ উইকেটে টার্গেট ২১২ রান করে ম্যাচ জিতে ৫ উইকেটে। ১৭ বল হাতে রেখেই জয় পেয়েছে টাইগাররা। লাকমলের বলে নাসির একটি বাউন্ডারি মেরেই বাংলাদেশকে জয়ের আনন্দে ভাসান। আর বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন শক্তির দল এখন বাংলাদেশ।
ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই জয়ের টার্গেটে ব্যাট চালায় বাংলাদেশ। ওপেনার তামিম প্রথম থেকেই ছিলেন মারমুখি। তবে তাকে টপ-অর্ডারের কেউ ভালো সাপোর্ট দিতে পারেনি। ফলে ৮ রানে প্রথম উইকেট হারানো বাংলাদেশ ৪০ রানে হারায় ৩ উইকেট। নাজিমউদ্দিন ৬ রানে আউট হওয়ার পর জহিরুল ২ রানে আর মুশফিক আউট হন ১ রানে। কিন্তু হাল ছাড়েননি তামিম। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তামিম পেলেন যোগ্য সঙ্গী। তাকে সাপোর্ট দিতে ব্যাট চালিয়েছেন সাকিব আল হাসানও। এই জুটি ভাংগার আগে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ১১৬ রানে। এই জুটি সংগ্রহ ৭৬ রান। দলীয় ১১৬ রানে তামিম ৫৯ রান করে সেনানায়েক এর বলে ক্যাচ তুলে দেন থিরিমান্নের হাতে। তামিম ৫৭ বলে ৯টি চার মেরে করেন সর্বোচ্চ ৫৯ রান। তামিমের আউটের পর দলীয় ১৩৫ রানে এলবি আউট হন সাকিব। সেনানায়েকের বলে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে সাকিব হন এলবি আউট। ৪৬ বলে ৭টি চারে সাকিবের সংগ্রহ ৫৬ রান। এই দুই ব্যাটসম্যান আউটের পর রানের গতি কমতে দেয়নি নাসির আর রিয়াদ জুটি। এই জুটি ব্যাট করতে নেমে ৭৭ রানের একটি পার্টনারশিপ গড়ে দলকে জয়ী করেই মাঠ ছাড়েন। নাসির হোসেন ৩৬ রানে আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। নাসির ৬১ বলে তিনটি চারে ৩৬ রান আর রিয়াদ ৩৩ বলে ৩ চারে ৩২ রান করে দলকে জয়ী করেই মাঠ ছাড়েন। শ্রীলংকার পক্ষে কুলাসিকারা আর সেনানায়েক ২টি করে উইকেট নেন। গতকাল ম্যাচ দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা।
টসে হেরে আগে ব্যাট করে শ্রীলংকা এক বল বাকি থাকতে অল আউট হয় ২৩২ রানে। নাজমুল, সাকিব আর রাজ্জাকের বোলিং আক্রমণে ২৩২ রানেই থেমে যায় লংকানদের ইনিংস। বোলিংয়ের শুরুতে নাজমুল লন্ড-ভন্ড করে দেন লংকানদের টপ-অর্ডার। তার বোলিং তোপে ৩২ রানেই শ্রীলংকা হারায় প্রথম তিন উইকেট। নাজমুলের পর বোলিং আক্রমণ চালিয়েছে রাজ্জাক আর সাকিব। বাদ যায়নি মাশরাফি আর রাজিবও। দলটি খেলতে পারেনি পুরো ৫০ ওভার। ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলংকা ৩২ রানে হারায় প্রথম তিন উইকেট। ওপেনার জয়াবর্ধনে ও দিলশানকে নাজমুল আউট করেছেন বোল্ড করে। সাঙ্গাকারা আউট হয়েছেন নাজমুলের বলে নাজিম উদ্দিনের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে। দিলশান ১৯ রান করলেও সাঙ্গাকারা ৬ রানে আর জয়াবর্ধনে আউট হন ৫ রানে। ৩২ রানে ৩ উইকেট হারানো শ্রীলংকা ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দেয় কাপুগেদারা আর থিরিমান্নের করা ৮৮ রানের পার্টনারশিপের ওপর নির্ভর করে। দলীয় ১২০ রানে থিরিমান্নে ৪৮ রানে করে রাজ্জাকের বলে স্ট্যাম্পআউট হলে আবার রানে ফিরে লংকানরা। থিরিমান্নেকে হারিয়ে কাপুগেদারা ৪৯ রানের আরো একটি জুটি গড়েন থারাঙ্গাকে নিয়ে। দলীয় ১৬৯ রানে রাজ্জাক কাপুগেদারেকে আউট করে দলকে আবার ম্যাচে ফিরান। কাপুগেদারা করেন সর্বোচ্চ ৬২ রান। ৯২ বলে ৪টি বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল কাপুগেদারার ইনিংসটি। বোলিং আক্রমণে সফল হন সাকিবও। মাহারুফ আর কুলাসিকারাকে সাকিব দাঁড়াতেই দেননি। মাহারুফ ৩ রানে আর কুলাসিকারা আউট হয়েছেন ১ রানে। দলীয় ২০৪ রানে থারাঙ্গা আউট হলে বড় স্কোর গড়ার পথ বন্ধ হয়ে যায় লংকানদের। থারাঙ্গা ৪৪ বলে ৫টি চার আর ১টি ছক্কা মেরে ৪৮ রান করে আউট হন শাহাদাতের বলে। মালিঙ্গা ১০ রান করে আউট হলেও সেনানায়েক ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে নাজমুল ৩টি, সাকিব ও রাজ্জাক ২টি আর মাশরাফি-রাজিব নেন একটি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
শ্রীলংকা -৪৯.৫ ওভারে ২৩২/১০ (কাপুগেদারা -৬২, থিরিমান্নে -৪৮, থারাঙ্গা -৪৮, দিলশান -১৯, সেনানায়েক -১৯ মালিঙ্গা -১০, সাঙ্গাকারা -৬, জয়াবর্ধনে -৫, নাজমুল -৩/৩২, সাকিব -২/৫৬, রাজ্জাক -২/৪৪, মাশরাফি -১/৩০ রাজিব -১/৫১)
বাংলাদেশ -৩৭.১ ওভারে ২১২/৫ (তামিম -৫৯, সাকিব -৫৬, নাজিম -৬, নাসির -৩৬, রিয়াদ -৩২, কুলাসিকারা -২/৩০, সেনানায়েক -২/৩৮)
ফল : বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।
প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
বাংলাদেশ দলের কোচ, ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সকল ক্রিকেটপ্রেমীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
অভিনন্দনবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ জয়লাভের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নবযুগের সূচনা হলো। বাংলাদেশ এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে এ গৌরবের ধারা অব্যাহত রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গিয়ে এ খেলা উপভোগ করেন। বিজয়ের পরপরই উল্লসিত প্রধানমন্ত্রী রাতে এ অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিল।
খালেদা জিয়ার অভিনন্দন
বাংলানিউজ : বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এশিয়া কাপে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠায় বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া অভিনন্দন জানিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া এই জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ও এর সঙ্গে জড়িত সকল কর্মকর্তাকে অভিনন্দন জানান। ভবিষ্যতে ধারাবাহিক অনুশীলনের মাধ্যমে ক্রিকেট দলের জয় অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া বাংলাদেশ এশিয়া কাপ জয় করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খালেদা জিয়ার প্রেস সেক্রেটারি মারুফ কামাল খান সোহেল রাতে এ কথা জানান।

