|
|
তার জীবন নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছে আইনজীবীরা
স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে জেল গেট থেকে সাদা মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া তাকে গ্রেফতার করা যাবে না উচ্চ আদালতের এমন নির্দেশের পরও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক থেকে পুলিশী নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পুলিশ পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক ও আইনজীবীদের উপর চড়াও হয়। তার আইনজীবীরা এভাবে পুলিশী প্রহরায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া তার জীবন নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছে।
জানা যায়, এটিএম আজহারুল ইসলামকে গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মগবাজারস্থ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন শেষে বাসায় যাওয়ার পর গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর একে একে তাকে ৫টি মামলায় জড়ানো হয়। এর মধ্যে পল্টন থানায় ৩টি মামলা। যার নং হচ্ছে ১৮(৯)১১, ১৯(৯)১১ ও ২০(৯)১১। এ ছাড়া রমনা থানায় ২টি মামলা, যার নং ৩৪(৯)১১ ও ৩৫(৯)১১। এসব মামলায় তাকে ২৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে যায়। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এটিএম আজহারুল ইসলামকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনও করা হয়েছে। তার উপর এমন নির্যাতন করা হয়েছে যা কোন জাতীয় নেতাকে এখন পর্যন্ত করা হয়নি।
এটিএম আজহারুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক তাসনীম আলমকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে, হয়রানি করার জন্য ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়েছিল। শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি দাগি আসামীদের মতো ডান্ডাবেড়ি পড়ানোতে দেশে বিদেশে তীব্র সমালোচনা হয়। পরে তাকে আর ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়নি।
৫টি মামলার মধ্যে ৪টিতেই তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। ১টি তিনি নিম্ন আদালত থেকে জামিন প্রাপ্ত হন। উচ্চ আদালত থেকে জামিন দেয়ার পাশাপাশি তাকে হয়রানিমূলকভাবে গ্রেফতার না করার জন্য নির্দেশনা দেয়। যার রিট পিটিশন নং ১৬৩৮/২০১১। এতে সুনির্দিষ্ট ওয়ারেন্ট ছাড়া তাকে গ্রেফতার না করার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
এটিএম আজহারুল ইসলাম জামিন লাভ করবেন এমন খবরে দুপুরের পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল, সন্ধ্যা হয়ে যায়। কারা রক্ষী ছাড়াও পুলিশের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সাদা পোশাকধারী পুলিশ কয়েক গাড়ী এসে নামে কারা ফটকের সামনে। ইতিমধ্যে আইনজীবীরা জানান, তারা জামিননামাসহ প্রয়োজনীয় কাজগপত্র জমা দিয়েছেন। ঠিক সন্ধ্যা ৭টার সময় দুটি সাদা মাইক্রোবাস এসে কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে আড়াআড়িভাবে দাঁড়ায়। এর একটি হলো স্বদেশ টেক্সটাইল্স (প্রা:) লিমিটেড ও অপরটির নং হচ্ছে ঢাকা মেট্টো-চ-৫১-৬২৪৮। গাড়ী দুটির ভিতরেই সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা বসা ছিল। কারারক্ষী, পুলিশ ও সাদা পোশাকের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাইক্রোবাস দুটি ঘিরে রাখে। ফটকের সামনে থেকে সাধারণ পথচারীদের সরিয়ে দেয়। ঠিক ৭টা ১৫ মিনিটে এটিএম আজহারুল ইসলামসহ ১৫ জনকে দুটি মাইক্রোতে উঠানো হয়। এর মধ্যে এটিএম আজহারকে উঠানো হয় ঢাকা মেট্টো-চ-৫১-৬২৪৮ নং মাইক্রোতে। দায়িত্বরত পুলিশ মানুষের ভিড় সরিয়ে মাইক্রো দু'টিকে চলে যাওয়ার পথ করে দেয়। তাকে নিয়ে যাওয়ার কয়েক মিনিট আগে পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। নিয়ে যাওয়ার পরপরই বিদ্যুৎ চলে আসে।
এরপর পরই এটিএম আজহারুল ইসলামের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এডভোকেট মশিউল আলম এসময় বলেন, এটিএম আজহার উচ্চ আদালত থেকে সব মামলায় জামিনে ছিলেন। ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করা যাবে না উচ্চ আদালতের এমন নির্দেশ সত্ত্বেও তাকে পুলিশের ঘেরাও এর মধ্য থেকে সাদা মাইক্রোতে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা তার জীবন নিয়ে শংকিত।
ব্রিফিং চলাকালেই পুলিশ সাংবাদিক ও আইনজীবীদের উপর চড়াও হয়। তারা ধাক্কা দিয়ে সবাইকে সরিয়ে দিতে চায়। সাংবাদিকরা এর কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে মুখ ঢেকে কারাগারের প্রধান ফটকের ভিতরে আশ্রয় নেয়।
পরে সাংবাদিককের সাথে কথা বলেন অপর আইনজীবী এডভোকেট আবদুর রাজ্জাক। তিনি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এটিএম আজহারকে এভাবে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ায় আমরা তার জীবন নিয়ে শংকিত।

