|
|
সাঈদীর আইনজীবী বললেন- আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবো
শহীদুল ইসলাম : বিশ্ব বরেণ্য মোফাসসিরে কুরআন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আর কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আনতে পারবে না। একথা ট্রাইব্যুনালে জানিয়ে প্রদত্ত এক দরখাস্তে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ইতোপূর্বে ৪০ জন সাক্ষী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আদালতে প্রদত্ত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার আবেদন জানানো হয়েছে। এই আবেদনকে অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট নিজামুল ইসলাম নজিরবিহীন আইনের প্রয়োগ, ফ্রান্সের গিলোটিন প্রথার শামিল এবং বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এই আবেদন গ্রহণ করা হলে আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবো। আগামী ২৫ মার্চ রোববার ট্রাইব্যুনাল এই আবেদনের ওপর শুনানি ও আদেশের দিন ধার্য করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার মধ্যাহ্ন বিরতির পর সরকার পক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী ট্রাইব্যুনালে একটি দরখাস্ত দেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইতোপূর্বে দেয়া তালিকা অনুসারে মোট ৬৮ জন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দিয়েছেন। তার মধ্যে ১৮ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং আসামী পক্ষ তাদেরকে জেরা করেছেন। বাকি ৪০ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ৪০ জন সাক্ষী যে জবানবন্দী দিয়েছেন তা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার জন্য দরখাস্তে নিবেদন করা হয়েছে।
এই দরখাস্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী এডভোকেট নিজামুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আমরা এ বিষয়ে ২৫ তারিখ আদেশ দিব। এর বিরোধিতা করে নিজামুল ইসলাম বলেন, আমরা এই দরখাস্তের কপি চাই এবং তদন্ত রিপোর্টের যেসব অংশে ঐ ৪০ জন সাক্ষীর জবানবন্দী রয়েছে তার কপি চাই যাতে করে এর জবাব দিতে পারি। ২৫ তারিখ ডেট রাখায় কোনো সমস্যা নেই। তবে ঐ দিন আদেশ নয়-শুনানির জন্য দিন ধার্য করা যেতে পারে।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক অপর সদস্য বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের সাথে আলোচনা করে বলেন, আপনারা এর একটা রিপ্লাই রেডি করেন। আমরা ঐ দিন উভয়ের বক্তব্যই শুনবো, তারপর আদেশ দিবো।
পরে সাংবাদিকদের এডভোকেট নিজামুল ইসলাম বলেন, গত ৭ মার্চ তারা সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হলে আদালত তাদেরকে ১৮ মার্চ শেষ বারের মতো সময় দিয়েছিলেন। কিন্তু ঐদিনও তারা সাক্ষী আনতে না পারায় তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়ে সাক্ষ্য দেওয়াতে চেয়েছিলেন। আমরা বললাম তাহলে তাদের অন্য সাক্ষী শেষ এটা বলতে হবে। কিন্তু তারা তদন্ত কর্মকর্তার পরেও সাক্ষী ওপেন রাখার আবেদন জানিয়েছিল। আদালত ঐদিন তাদেরকে অন্য সাক্ষীদের অবস্থা লিখিতভাবে জানাতে বলেছিলেন। আজ তারা নতুন করে দরখাস্ত দিয়ে বলেছেন, আর সাক্ষী হাজির করতে পারবেন না। তাদের অসুবিধা আছে, ঢাকায় থাকেন লেখক জাফর ইকবাল, জাদুকর জুয়েল আইচ, শাহরিয়ার কবির। তারা এই ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিতে পারবে না। তারা আইও'র কাছে যা বলেছেন তাই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার আবেদন জানানো হয়েছে।
নিজামুল ইসলাম বলেন, এই দরখাস্ত খুবই মারাত্মক। দুনিয়ার কোথায়ও এ ধরনের আইনী প্রাকটিস নেই। এটা ড্যাঞ্জারাস। আমার মনে হয় এটা ফ্রান্সের গিলোটিন প্রথার মতো যা সংসদে বাজেট পাস করার সময় ব্যবহার করা হয়- আলোচনা ছাড়াই। এটা বাস্তবে এসব সাক্ষীর স্বহস্তে লিখিত জবানবন্দীও নয়। তদন্ত কর্মকর্তার নিজের হাতে লেখা। এই দরখাস্ত গ্রহণ করা আইনের দৃষ্টিতে সঠিক মনে করি না। এটা গ্রহণ করা হলে আসামী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা ন্যায়বিচার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হবো।

