|
|
তিনি কখনোই আলবদর ছিলেন না- সব অভিযোগ মিথ্যা -ব্যারিস্টার আহসান
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠনের শুনানি রাষ্ট্রপক্ষ শেষ করেছেন গতকাল মঙ্গলবার। আসামীপক্ষকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুনানি শুরু করতে বলেছেন ট্রাইব্যুনাল। মুজাহিদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনশী আহসান কবির প্রস্তুতির জন্য সময় প্রার্থনা করলে আদালত বলেন, ২২ তারিখে আসুন। শুনব। রাষ্ট্রপক্ষ ১০৯ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে ঢাকায় ৪টি ও ফরিদপুরে ৪টি মিলিয়ে ৮টি অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ এনেছেন তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও আলবদর বাহিনীর প্রধান হিসেবে তাকে অভিহিত করে ১৯৭১ সালে এই বাহিনীর কৃত মানবতাবিরোধী সব অপরাধের ক্ষেত্রে সুপিরিয়র স্ট্যাটার্স হিসেবে তার ওপর দায়ভার চাপানো হয়েছে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার জন্যও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট হিসেবে অভিহিত করে মুজাহিদের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি আলবদরের প্রধান তো দূরের কথা ঐ বাহিনীর সদস্যও ছিলেন না। তিনি ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন সাধারণ ছাত্র হিসেবে ভর্তি হয়েছিলেন মাত্র। এডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, মুজাহিদ কোন অপরাধী নন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।
গত ১১ মার্চ ২২ পৃষ্ঠা পড়ার তার গতকাল ১০৯ পৃষ্ঠার অবশিষ্ট বক্তব্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও রানাদাস গুপ্ত।
প্রসিকিউটর রানাদাস গুপ্ত জানান, ঢাকায় ও ফরিদপুরে মিলে ৮টি ঘটনার সাথে মুজাহিদ সরাসরি জড়িত ছিলেন। ১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি মাঝিডাঙ্গা, বালিডাঙ্গাসহ তিনটি হিন্দু গ্রামে সাড়ে ৩শ বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়। ৪০ জনকে হত্যা করা হয়। মুজাহিদ এ ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
আলতাফ মাহমুদসহ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীকে নাখালপাড়ায় রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করে পরে হত্যার পর লাশ বদ্ধভূমিতে ফেলে দেয়া হয়। অনেকের লাশ পাওয়া যায়নি। সেখানে মুজাহিদ বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ঘোষণার আগেই এদেরকে শেষ করে দাও। ঐ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একজনের জবানবন্দী থেকে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আইনজীবী সিনিয়র এডভোকেট নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কখনোই মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং ৫ বছর মন্ত্রিত্ব করেছেন। তার বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোন দুর্নীতির অভিযোগ নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য তার চরিত্র হননের পথ বেছে নিয়েছে সরকার। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশেই এই মামলা করা হয়েছে। অধ্যাপক গোলাম আযম গ্রেফতার হওয়ার আগে সাংবাদিক সম্মেলনে বলে গেছেন যে, ভারতের সহায়তায় স্বাধীনতার পক্ষে জামায়াত ছিল না সত্য। তবে জামায়াত কোন প্রকার মানবতাবিরোধী কাজের সাথে জড়িত ছিল না। যদি থাকতো তাহলে এসব ঘটনার সাক্ষী পাওয়া যেত।
ব্যারিস্টার মুনশী আহসান কবির বলেন, প্রসিকিউশন তাদের শুনানি শেষ করেছেন। তাতে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার একটিরও ভিত্তি নেই। তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তবে কোন এট্রোসিটির সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি আলবদর প্রধান তো দূরের কথা ঐ ধরনের কোন বাহিনীর সদস্যও ছিলেন না।

