|
|
অপহৃত দুই মেধাবী ছাত্র উদ্ধারের দাবি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অপহৃত দুই মেধাবী ছাত্র উদ্ধার ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ডাকা ছাত্র ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দু'একটি বিভাগ ছাড়া কোনো বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানা গেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে গতকাল মঙ্গলবারও বৈঠক করে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষককে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, অপহরণের দেড় মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও ওই অপহৃত ছাত্রদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তৃতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘটে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবারও অধিকাংশ বিভাগে কোনো ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত কয়েকেটি বিভাগ ও আইন বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনপন্থী কিছু শিক্ষক জোরপূর্বক ক্লাশ নিয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ছাত্র উদ্ধারের দাবিতে আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়ে স্বতঃস্ফুর্তভাবে অন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস জানায়, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী ৭টি বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও বায়োটেকনোলজি বিভাগ ছাড়া কোনো বিভাগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি রাষ্ট্রনীতি ও লোক প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ, অর্থনীতি ও লোক প্রশাসন বিভাগ দ্বিতীয় বর্ষ, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চতুর্থ বর্ষ আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চতুর্থ বর্ষ। ক্যাম্পাসে বিশৃংখলা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিপুলসংখ্যাক পুলিশ মোতায়েন করেছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠক করেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের ছাত্র ধর্মঘট চলবে বলে জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এদিকে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজের মাধ্যমে শিক্ষক হত্যার হুমকিকে ইস্যু বানিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার নাটক সাজিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলে অভিযোগ করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ আওয়ামী লীগপন্থী কিছু শিক্ষক অভিযোগ করে বলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের মোবাইল ফোনে ম্যাসেজের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এ ব্যাপারে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করে অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য মোবাইল ফোনে শিক্ষক হত্যার হুমকিকে ইস্যু তৈরি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলে শিক্ষক হত্যার হুমকির সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কে বা কারা শিক্ষকদের হত্যার হুমকি দিয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শাস্তির দাবি জানিয়েছে অন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

