|
|
ছাত্রশিবিরের জাতীয় সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জাতীয় সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ২০১১ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এ কে এম নাজির আহমেদ
স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এ কে এম নাজির আহমেদ বলেছেন, বিশ্বব্যাপী নব্য জাহেলিয়াত প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন, নারীত্বের অবমাননা সারা দুনিয়ার নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বাংলাদেশের অবস্থাতো আরো খারাপ। আইনের শাসন বলতে কিছুই নেই। কোন সম্মানিত ব্যক্তি এখানে সম্মান নিয়ে বসবাস করতে পারছে না। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কি ধরনের আচরণ করা হচ্ছে সবাই দেখছেন। এই নব্য জাহেলিয়াতের অবসান ঘটিয়ে আলোকিত সমাজ গড়তে হবে। সভ্য সমাজ গড়তে কুরআনের কোন বিকল্প নেই। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জাতীয় সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ২০১১ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, হাফেজ্জী হুজুরের সাহেবজাদা খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আতাউল্লাহ, বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের মহাসচিব ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, ওলামা মাশায়েখ পরিষদ ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা আহমদ আলী কাশেমী, শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আবু সালেহ মো. ইয়াহইয়া। সভা পরিচালনা করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এইচ আর ডি সম্পাদক মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত।
এ কে এম নাজির আহমদ জাহেলিয়াতের যুগের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, সে সময় আইনের শাসন বলতে কিছু ছিল। গোত্রপতিরা যা বলতেন, তাই আইন ছিল। সামাজিক স্থিতিশীলতা ছিল না। নারীদের ভোগের সামগ্রী মনে করা হতো। জীবনের এমন কোন দিক ছিল না যেখানে বিশৃংখলা ছিল না। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) সেই সমাজকে সঠিক পথে আনার জন্য দাওয়াত দিয়েছিলেন। এ কারণে নানা জুলুম-নিযার্তনের শিকার হয়েছেন তিনি।
নায়েবে আমীর বলেন, এখন বিশ্বব্যাপী নব্য জাহেলিয়াত প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। বাংলাদেশের কোথাও আইনের শাসন নেই। অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন, নারীত্বের অবমাননা সারা দুনিয়ার নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বাংলাদেশের অবস্থাতো আরো খারাপ। আইনের শাসন বলতে কিছুই নেই। কোন সম্মানিত ব্যক্তি এখানে সম্মান নিয়ে বসবাস করতে পারছে না। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কি ধরনের আচরণ করা হচ্ছে সবাই দেখছেন। নব্য জাহেলিয়াতেই এগুলো সম্ভব। তিনি বলেন, এই জাহেলিয়াতের অবসান ঘটাতে হবে। আলোকিত পৃথিবী গড়তে হবে। আর সভ্য সমাজ গড়ার জন্য কুরআনের বিকল্প নেই। ইসলামের জ্ঞানের আলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের মাটি হবে ইসলামের ঘাঁটি।
আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য যারাই চেষ্টা করবেন দুঃখ-কষ্ট, জুলুম-নির্যাতন তাদের সহ্য করতে হবে। এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অনৈসলামীকরণের অংশ হিসেবেই এ দেশে ইসলামী শক্তির ওপর জুলুম-নির্যাতন চলছে। তারা ইসলামী সংগঠনকে স্তব্ধ করে দিতে চায়। কেননা তারা ইসলামকে ভয় পায়।
মাওলানা আতাউল্লাহ বলেন, নামাজ ফরজে আইন। ফরজে আইন অস্বীকার করলে ঈমান থাকে না। তিনি বলেন, বর্তমানে ইসলাম, কুরআন ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। ঈমান থাকবে না এমন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এখন ঘরে বসে থাকলে চলবে না। তিনি বলেন, আমরা রাসূল (সা.) এর মিঠা মিঠা সুন্নতের কথা বলি। কিন্তু ইসলামের কথা বলতে গিয়ে রাসূল (সা.) এর দান্দান মোবারক শহীদ হয়েছে, এটাও রাসূল (সা.)-এর সুন্নাত। এই সুন্নাত পালনে কষ্ট আছে। কষ্ট শিকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
মাওলানা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান বলেন, বর্তমান যুগের চেয়ে জাহেলিয়াতের যুগ অনেক ভদ্র ছিল। তখন যারা কাফের বা সন্ত্রাসী ছিল, বর্তমানে তাদের কেউ আসার সুযোগ পেলে এখন যারা দেশ শাসন করছে তাদের কাছে গিয়ে মুরিদ হয়ে যেতো। তিনি বলেন, এই বাংলার মাটি থেকে সন্ত্রাস, লুটপাট, গুম, খুন, অত্যাচারের রাজনীতি উঠিয়ে দিতেই হবে।
সেলিম উদ্দিন বলেন, এখন জুলুম-নির্যাতনের স্বর্গ রাজ্য চলছে। বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা বিরাজ করছে আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগেও এ ধরনের পরিস্থিতি ছিল না। তখন মানুষ কন্যা সন্তান নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা থেকে জন্মের পর অনেকে মাটিতে পুঁতে ফেলতো। কিন্তু জলজ্যান্ত, পরিচিত, প্রতিষ্ঠিত কোন মানুষকে গুম করে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। তিনি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, আল্লাহ ও রাসূল (সা.)কে যারা মেনে নিয়েছেন তারাই সফলকাম। এটাই সঠিক পথ।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন সরকারের শিক্ষানীতির সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকার যে শিক্ষানীতি করেছে তাতে সঠিক ইসলামী চেতনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় এ শিক্ষানীতি ইসলাম বিরোধী। তিনি বলেন, সর্বত্রই চলছে জুলুম আর নির্যাতন। রাসূল (সা.)-এর বিরুদ্ধে এমন কোন ষড়যন্ত্র নেই যা এখন চলছে না। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ক, খ, গ তিনটি বিভাগে ৬ষ্ঠ-মাস্টার্স পর্যন্ত ছাত্রদের নিয়ে নির্দিষ্ট সীরাত গ্রন্থের উপর জাতীয়ভাবে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ফাইনাল পর্বে উত্তীর্ণ প্রতি বিভাগে ১ম, ২য়, ৩য় স্থান অধিকারীসহ প্রতি গ্রুপের ১০ জন করে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেয়া হয়। প্রতি বিভাগের ১ম স্থান অধিকারীকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ২য় স্থান অধিকারীকে নগদ ৩৫ হাজার টাকা এবং ৩য় স্থান অধিকারীকে নগদ ২০ হাজার টাকাসহ ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
‘ক' গ্রুপে প্রথম হয়েছে মো. জাহিদুল ইসলাম (চাঁদপুর শহর), দ্বিতীয় আমান উল্লাহ (খুলনা জেলা দক্ষিণ), তৃতীয় এ জে এম মুঈনুল ইসলাম (মোমেনশাহী জেলা দক্ষিণ)। ‘খ' গ্রুপে প্রথম হাবীবুল্লাহ (নরসিংদী জেলা), দ্বিতীয় খায়রুল বাশার (ঢাকা মহানগরী পশ্চিম) এবং তৃতীয় মুহাম্মদ মিনহাজুল আবেদীন (নোয়াখালী শহর)। ‘গ' গ্রুপে প্রথম মো. ফজলুল হক (গাইবান্ধা জেলা), দ্বিতীয় মো. নুরুন্নবী চাঁদ (নাটোর জেলা) এবং তৃতীয় মো. ছাইদুর রহমান (ঢাকা মহানগরী উত্তর)।

