|
|
মাওলানা সাঈদী '৭১ সালে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না
শহীদুল ইসলাম : মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ১৯৭১ সালের তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে গতকাল ১৫তম দিন জেরা করা হলে তিনি স্বীকার করেছেন যে ১৯৭১ সালে এবং তার পূর্বে মাওলানা সাঈদী কোন রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না। ১৯৬২ সালের পর আর তিনি কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করেননি। ফলে ১৯৬২ সালের পরে আর তিনি ছাত্র ছিলেন না। অথচ ইতোপূর্বে তিনি বলেছিলেন যে, ১৯৭১ সালে মাওলানা সাঈদী ইসলামী ছাত্র সংসদের সাথে জড়িত ছিলেন। আগে বলেছেন, ঐ সময় পারেরহাট বাজারে ফুটপাতে দোকানদারী করতেন মাওলানা সাঈদী, আবার গতকাল জেরায় বলেছেন, তিনি ৭১ সালে বেকার ছিলেন, পারেরহাট বাজারে একটি দোকানে তিনি আড্ডা দিতেন। কিন্তু সেই দোকানটি কার দোকান ছিল তা বলতে পারেন না তদন্ত কর্মকর্তা।
মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলামের উপর্যুপরি জেরায় গতকাল বেরিয়ে আসে এরূপ বহু গড়মিলের তথ্য। গতকাল সকাল ১১টা থেকে প্রথমে ১টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা এরপর ২টা ১০ মিনিট থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত আরো ১ ঘণ্টা সর্বমোট ৩ ঘণ্টা জেরা করা হয়। এ নিয়ে তাকে গতকাল ১৫তম দিন জেরা করা হলো। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের পরে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে পুনরায় জেরা করা হবে। জেরায় গতকাল সহায়তা করেন এডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী, কফিল উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার তানভীর আল আমিন। মাওলানা সাঈদী জেরার সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কখনো তিন চেয়ারের ওপর শুয়ে কাটান, আবার কখনো বসে কুরআন অধ্যয়নে মগ্ন ছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে গতকাল যেসব জেরা করা হয় তার বিবরণ নিম্নরূপ :
প্রশ্ন- হেলাল উদ্দিন পসারীকে আপনি জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন?
উত্তর- না।
প্রশ্ন- তার বাড়ি কোথায়? এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন?
উত্তর- জি, না।
প্রশ্ন- হেলাল উদ্দিন পসারীর দোকান ও আমজাদ আলীর বাড়ি লুটপাটের বিষয়ে আপনি অনুসন্ধান করেছেন?
উত্তর- অনুসন্ধান করেছি, তবে কোন মন্তব্য করিনি।
প্রশ্ন- ১৯৭১ সালে হেলাল উদ্দিন পসারীর দোকান ছিল পারেরহাট বাজারে?
উত্তর- ছিল।
প্রশ্ন- বর্তমানে দোকান আছে তার?
উত্তর- জানি না।
প্রশ্ন- বর্তমানে পারেরহাট বাজারে তার দোকান আছে এবং নিজেই পরিচালনা করেন। এটা জেনেও আপনি সত্য গোপন করেছেন?
উত্তর- সত্য নয়।
প্রশ্ন- হেলাল উদ্দিন পসারীকে সাক্ষী করলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে। এজন্য আপনি তাকে সাক্ষী করেননি?
উত্তর- সত্য নয়।
প্রশ্ন- ১৯৭১ সালে মাওলানা সাঈদী একটি দোকানে আড্ডা মারতেন বলে আপনি জবানবন্দিতে বলেছেন। ঐ দোকানটি সনাক্ত করেছেন?
উত্তর- না, খুঁজে পাইনি।
প্রশ্ন- উনি '৭১ সালে ছাত্র ছিলেন?
উত্তর- ছিলেন না।
প্রশ্ন- এক পৌঢ়া বিচার চেয়ে পাননি। বলেছেন আপনার জবানবন্দিতে। এই পৌঢ়া কোথায় বিচার চেয়েছেন?
উত্তর- কোন কোর্টে বা থানায় উনি যাননি। মানুষ গেলে বিচার চান।
প্রশ্ন- আপনি তাহলে ঐ পৌঢ়ার সন্ধান পেয়েছেন?
উত্তর- জি।
প্রশ্ন- আপনার বক্তব্যে উল্লেখিত প্রভাবশালী ব্যক্তি কে?
উত্তর- উনি বলেছেন, অনেক বড় মানুষ নাম বলেননি।
প্রশ্ন- আশিশ কুমার দে'র সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন?
উত্তর- জি, না।
প্রশ্ন- ‘রাজাকারের একাত্তরনামা-৭' একটি ধারাবাহিক রিপোর্টের অংশ?
উত্তর- সত্য।
প্রশ্ন- বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই না করে এই ভোরের কাগজ পত্রিকাটি আপনি আসামীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছেন?
উত্তর- সত্য নয়।
প্রশ্ন- রিপোর্টের সূত্র হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংসদ সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং মাসিক নিপুন পত্রিকার উল্লেখ করা হয়েছে? এই তথ্য আপনি মিলিয়ে দেখেছেন?
উত্তর- জি দেখেছি।
প্রশ্ন- মিল পেয়েছেন?
উত্তর- জি, পেয়েছি।
প্রশ্ন- মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র কোথায় এবং আপনি সেখানে কত তারিখে গিয়েছেন?
উত্তর- ঢাকায়। আমি ভুল বলেছি। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংসদ সংরক্ষণ কেন্দ্র নয় এটা হবে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর।
প্রশ্ন- তাহলে আপনি মিলিয়ে দেখেছেন মর্মে যে কথা বলেছেন সেটাও ভুল বলেছেন?
উত্তর- জি।
প্রশ্ন- তাহলে মিলিয়ে দেখেননি?
উত্তর- জি।
প্রশ্ন- মাসিক নিপুন পত্রিকাটি আপনি দেখেননি?
উত্তর- পত্রিকাটি সংগ্রহের চেষ্টা করেছি। পাইনি। এজন্য মিলিয়ে দেখতে পারি নাই।
প্রশ্ন- সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অপপ্রচার ও নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আপনি কোন অনুসন্ধান করেননি?
উত্তর- জি, না। ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় আমি তদন্ত করি নাই।
প্রশ্ন- তথাকথিত মাওলানা হিসেবে তিনি তার স্বাধীনতা বিরোধী তৎপরতা চালিয়েছেন মর্মে দৈনিক ভোরের কাগজের রিপোর্টে বর্ণনা আছে। বিষয়টি তদন্ত করেছেন?
উত্তর- জি, তদন্ত করেছি।
প্রশ্ন- তিনি কোন রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না এবং মওলানা ছিলেন না? এটা তদন্ত করেছেন?
উত্তর- উনি কোন নেতা ছিলেন না।
প্রশ্ন- মওলানা ছিলেন- এটাও সত্য পেয়েছেন?
উত্তর- মওলানা ছিলেন না, এটা তদন্তে পেয়েছি।
প্রশ্ন- ১৯৬০ সালে উনি আলিম পাস করেছেন তদন্তে পেয়েছেন?
উত্তর- জি।
প্রশ্ন- ১৯৬২ সালের পরে আর পড়াশুনা করেননি। ৬২ সালের পরে ছাত্র ছিলেন এই মর্মেও কোন তথ্য পাননি?
উত্তর- না পাইনি।
প্রশ্ন- ১৯৭০ সালে পিরোজপুর মহকুমা ছাত্র সংঘের সভাপতি কে ছিলেন। তদন্ত করেছেন?
উত্তর- না, তদন্ত করি নাই।
প্রশ্ন- পিরোজপুরের (১৯৭০-৭১) ইসলামী ছাত্র সংঘের সাংগঠনিক কাঠামো ও অবস্থান সম্পর্কে আপনি কোন তদন্ত করেননি?
উত্তর- জি, করি নাই।
প্রশ্ন- ১৯৭০-৭১ সালে যশোর জেলার ইসলামী ছাত্র সংঘের অবস্থান ও কাঠামো সম্পর্কে আপনি কোন তদন্ত করেননি?
উত্তর- জি, না করি নাই।
প্রশ্ন- ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান এবং অভিযোগে বর্ণিত ট্রেজারী অফিসার সাইফ মিজানুর রহমান একই ব্যক্তি কি না পত্রিকায় বর্ণনা আছে?
উত্তর- জি, একই ব্যক্তি।
প্রশ্ন- পত্রিকায় বর্ণিত স্কুল হেড মাস্টার আব্দুর গফফার মিয়ার হত্যাকান্ড সম্পর্কে তদন্ত করেছেন?
উত্তর- জি, তদন্ত করেছি। তবে কোন মন্তব্য করি নাই।
প্রশ্ন- সমাজ সেবী শামসুল হক হত্যাকান্ড সম্পর্কে আপনি তদন্ত করেছেন, মন্তব্য হয়নি?
উত্তর- জি।
প্রশ্ন- যেসব বিষয়ে আপনি তদন্ত করেছেন সেসব বিষয়ে আপনি মন্তব্য করতে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে বাধ্য।
উত্তর- সত্য নয়।
প্রশ্ন- ভাগীরথীকে মোটর সাইকেলের পেছনে বেধে ৫ মাইল পথ টেনে নিয়ে হত্যা করা হয় মর্মে পত্রিকার রিপোর্টে যা বলা হয়েছে তা আপনি তদন্ত করেছেন?
উত্তর- মোটর সাইকেলে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার সত্যতা আমি পাইনি।
প্রশ্ন- পারেরহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সাহেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন?
উত্তর- জিজ্ঞাসা করেছি। সাক্ষী করি নাই।
প্রশ্ন- নিখিল পালের বাড়ির মালামাল তুলে এনে পারেরহাটে গনি মতের মাল হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে আপনি মন্তব্য করেছেন?
উত্তর- তদন্ত করেছি, মন্তব্য করি নাই।
প্রশ্ন- এই সংক্রান্তে ঐ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন বা মসজিদ কমিটির সভাপতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন?
উত্তর- না, জিজ্ঞাসা করি নাই।
প্রশ্ন- পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি অসত্য প্রমাণ হয়ে যাবে বিধায় আপনি পত্রিকার সংবাদদাতা আশিশ কুমার, দোকানী হেলাল উদ্দিন, পারেরহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট আলাউদ্দিন খা, পারেরহাট মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মসজিদ কমিটির সভাপতিকে ইচ্ছাকৃতভাবে সাক্ষী করেননি।
প্রশ্ন : ‘জামায়াতের গডফাদাররা ধরা-ছোয়ার বাইরে' শিরোনামে প্রকাশিত দৈনিক সমকাল পত্রিকার রিপোর্টটি কয়েকটি সংবাদের সমন্বয় করা।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই রিপোর্টে পিরোজপুর ও সাঈদী সাহেব সংক্রান্ত রিপোর্টের সংবাদদাতা ছিলেন সমকালের স্থানীয় সংবাদদাতা ফসিউল ইসলাম বাচ্চু।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : তাকে এই মামলায় সাক্ষীও করেছিলেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : তাকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করার জন্য কোন প্রসেস নিয়েছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : তার বাড়ি পিরোজপুর।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : তার বয়স কত?
উত্তর : ৩৯ বছর।
প্রশ্ন : তাকে যখন জিজ্ঞাসা করেন তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন না এবং পত্রিকায় নিয়মিত কর্মরত ছিলেন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই মামলায় পিুরোপুরের ১৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : তাদের মধ্যে অশিতিপর বৃদ্ধও ছিলেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই রিপোর্টে পিরোজপুরের বাইরের সংবাদদাতাদের নাম সংগ্রহ করেছেন?
উত্তর : জি, না।
প্রশ্ন : এই সংবাদের প্রথম অংশে সাঈদী সাহেবকে একটি দোকানের কর্মচারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : স্বাধীনতার আগে সাঈদী সাহেবের নামের সাথে দেলোয়ার হোসেন সিকদার পদবী ছিল। এই সিকদার পদবী ছিল মর্মে কোন প্রামাণ্য দলিল পেয়েছেন?
উত্তর : খুঁজে পাই নাই।
প্রশ্ন : ফসিউল ইসলাম বাচ্চুকে এ সংক্রান্ত কোন তথ্য-প্রমাণ দেয়ার জন্য বলেছিলেন?
উত্তর : জি, না।
প্রশ্ন : পত্রিকায় বর্ণিত দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী এমপি থাকাকালে পিরোজপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকান্ডে নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্তে যে খবর আছে তা তদন্ত করেছেন।
উত্তর : না, কারণ ওটা আমার তদন্তের বিষয় ছিল না।
প্রশ্ন : প্রদশর্নী-৩৪-এ বর্ণিত খবর অসত্য প্রমাণিত হবে বিধায় এই সংবাদের সংবাদদাতা ফসিউল ইসলাম বাচ্চুকে সাক্ষী করতে ট্রাইব্যুনালের কাছে হাজির করার জন্য আপনি কোন প্রসেস করেননি। বরং তাকে হাজির করা সম্ভব নয় বলে আপনি ট্রাইব্যুনালে দরখাস্ত দিয়েছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : দৈনিক জনকণ্ঠ ১১/৮/১০ তারিখে প্রদর্শনী-১৪ মূলে জব্দ করে একই তারিখে প্রদর্শনী-১৫ মূলে জিম্মায় দেন পরে প্রদর্শনী-৪৬ মূলে চিহ্নিত করেছেন।
উত্তর : সত্য।
প্রশ্ন : প্রদর্শনী-৪৬-এ বর্ণিত জনকণ্ঠে প্রকাশিত ‘‘সাঈদীর নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার শহীদ মিজান’’ শিরোনামের সংবাদের নড়াইল সংবাদদাতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : তিনি যে মূল সংবাদটি জনকণ্ঠ অফিসে পাঠান সেটা পর্যালোচনা বা সংগ্রহ করেছেন?
উত্তর : সংগ্রহ করি নাই। পর্যালোচনা করি নাই।
প্রশ্ন : কার কার সামনে মিজানুরকে বন্দী করার ঘোষণা সাঈদী সাহেব দিয়েছিলেন?
উত্তর : তা আমি পাইনি।
প্রশ্ন : ‘‘মিজানুর রহমানকে টেনে-হেচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় সারা পিরোজপুর শহরে নিয়ে আনন্দ-উল্লাস করা হয়’’ মর্মে বক্তব্যের সমর্থনে কোন চাক্ষুস সাক্ষী পেয়েছেন।
উত্তর : না।
প্রশ্ন : বালু নদী নামে পিরোজপুরে কোন নদী আছে?
উত্তর : না। তবে বলেশ্বরকে বালু নদী বলে।
প্রশ্ন : বলেশ্বর নদীকে বালু নদী হলে এমন কোন পত্রিকায় রিপোর্ট সরকারি দলিল বা কোন সাক্ষীর জবানবন্দী আপনার কাছে নেই।
উত্তর : নেই। তবে স্থানীয়ভাবে মানুষ বলে।
প্রশ্ন : বলেশ্বরকে বালু নদী বলে- এটা আদালতকে আপনি অসত্য তথ্য দিলেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : এই পত্রিকার সংবাদ অসত্য প্রমাণ হবে বিধায় আপনি এর সংবাদদাতাকে সাক্ষী করেননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : জবানবন্দীর শেষ দিকে আপনি ১৩টি বইয়ের রেফারেন্স দিয়েছেন। তার মধ্যে একটা আছে আলোকচিত্র সংকলন ঢাকা ১৯৪৮-১৯৭১ বইটি এবং সংকলক মুনতাসির মামুন ও হাসেম খান এই মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট নন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : ১০ নং ক্রমিকে মহান একুশে সুবর্ণ জয়ন্তী বইটি আপনি পুরো পড়েছেন? বইয়ের সংকলক মাহবুবুল্লাহ।
উত্তর : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের অংশটুকু পড়েছি।
প্রশ্ন : কোন সালের সমাবর্তন?
উত্তর : মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা, এই অংশটুকু পড়েছি। ২৪ মার্চ ১৯৪৮ সাল।
প্রশ্ন : জিন্নাহর এই ভাষণে তিনি উর্দুকেই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এ ব্যাপারে কোন ঐতিহাসিক বিরোধ আছে?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরের কোন ঘটনা বা আসামী দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর সাথে এটার কোন সম্পর্ক নেই।
উত্তর :- জি, নেই।
প্রশ্ন : মোহাম্মদ জাফর ইকবালের লেখা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বইটি পর্যালোচনা করেছেন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই জাফর ইকবাল, ফয়জুর রহমান সাহেবের ছেলে।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই বইটি কোন মৌলিক বই নয়, ৩৭টি বই, পত্রিকা ও লেখকের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি সংকলন।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই বইয়ের কোথাও মাওলানা সাঈদীর বা পিরোজপুরে ১৯৭১ সালে সংঘটিত ঘটনার বিবরণ নেই।
উত্তর : জি, নেই।
প্রশ্ন : এই ৩টি বই এই মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট না হলেও শুধুমাত্র কাগজপত্রের কলেবর বৃদ্ধি করার জন্যই দাখিল করেছেন?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : প্রদর্শনী- ১৬ দৈনিক জনকণ্ঠ ১৪/৪/২০০১, তার পত্রিকা ২৭/৩/১১ তারিখ জব্দ করা হয়।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই পত্রিকার খবর মতে বর্ণিত তফসীরের নামে বিভিন্ন মহাসমাবেশে আপনি উপস্থিত ছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ঐসব তফসীর মাহফিল বা সমাবেশের কোনো অডিও বা ভিডিও ক্যাসেট আপনি সংগ্রহ করেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : তিনি যেখানেই বক্তৃতা করেছেন তা পিরোজপুর ফোরাম হ্যান্ড বিল আকারে প্রচার করেছে। এরূপ কোনো হ্যান্ড বিল আপনি সংগ্রহ করেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : রাজাকার নন, প্রমাণ করতে মুক্তিযোদ্ধাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেননি সাঈদী, এই চ্যালেঞ্জ কোথায় কিভাবে ২ জন মুক্তিযোদ্ধা করেছিল সেই তথ্য সংগ্রহ করেননি আপনি?
উত্তর ’’ আমি তদন্তকালে উক্ত দুই ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাইনি, কারণ তারা মারা গেছে।
প্রশ্ন : এই দুই ব্যক্তির চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত কোনো বিবৃতি জাতীয় বা স্থানীয় কোনো পত্রিকায় দেখেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : উনি যখন জনসভা করেছিলেন তখন কি জনসভা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : উনার জনসভাকে কেন্দ্র করে কোথাও কোনো মামলা হয়েছিল?
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য সংশ্লিষ্ট থানায় তদন্ত করেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : এই খবরের সংবাদদাতা কে?
উত্তর : শফিউল হক মিঠু।
প্রশ্ন : তাকে আপনি জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : তিনি বেঁচে গেছেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : তিনি পিরোজপুরেই থাকেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : তিনি অসত্য সংবাদ প্রচার করেছেন আপনি তদন্ত করেননি, অসত্য প্রকাশ হয়ে যাবে- এ জন্যই আপনি সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য আদালতে দাখিল করেছেন?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : এই পত্রিকার সংবাদদাতাকে হাজির করলে তিনি যে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করেছেন তা প্রকাশ পেয়ে যাবে এজন্য তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেননি?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : প্রদর্শনী-৪৮ দৈনিক আজাদ ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ আপনি জব্দ করেছেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই সংবাদের সংবাদদাতা রহিম আজাদ?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এটা ছিল স্বাধীনতার মাত্র দেড় মাস পরে ৩/৩/১৯৭২ তারিখে?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এটাই ছিল ভাগীরথি হত্যাকান্ডের সবচেয়ে প্রথম এবং নির্ভরযোগ্য রিপোর্ট?
উত্তর : আমি এটাই প্রথম পেয়েছি।
প্রশ্ন : ভাগীরথির দু'টি পা দু'টি জিপের সাথে বেঁধে দু'দিকে চালিয়ে দিয়ে হত্যা করা হয়?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : ভাগীরথি হত্যাকান্ডের সাথে সাঈদী সাহেব জড়িত ছিলেন মর্মে কোনো তথ্য এই রিপোর্টে নেই?
উত্তর : এই রিপোর্টে নেই।
প্রশ্ন : পরবর্তীকালে দৈনিক আজাদে এ সংক্রান্ত আর কোনো খবর ছাপা হয়নি?
উত্তর : আমার জানা নেই।
উত্তর- সত্য নয়।

