|
|
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদ এমপি বলেছেন, সংবাদকর্মীদের ওপর বার বার পুলিশী হামলার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে সরকার পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সংবাদকর্মীদের যদি পুলিশ থেকে দূরে থাকতে হয় তাহলে সাধারণ জনগণের অবস্থা কি হবে। আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ কর্তৃক একজন বিচারপ্রার্থী নারীর প্রতি যে ধরনের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে তা কোন সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। এরপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, পুলিশ নাকি আগের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য অপরাধীদেরকে আরো উৎসাহিত করছে। তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সে পরিচালিত পুলিশ এখন জনগণের জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী মতিঝিল থানার উদ্যোগে আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। থানা আমীর কামাল হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে থানা সেক্রেটারি আলমগীর হাসান রাজু, কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল হক, মতিউর রহমান ও জামায়াত নেতা সালাউদ্দিন কাওসার উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, সরকার একদিকে সংলাপের কথা বলছে আর অপরদিকে বিরোধীদলের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। সরকার দেশকে অস্থিতিশীল করে সংলাপের পরিবেশ নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে। তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, গ্রেফতার নির্যাতন চালিয়ে কেয়ারটেকার সরকারের আন্দোলনকে দমাতে পারবে না। জনগণকে সংগঠিত করে ১১ জুনের সমাবেশ সফল করে কেয়ারটেকারের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
তিনি বলেন, কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচার হল জামায়াতের বিরুদ্ধে সরকারের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মানবতাবিরোধী অপরাধের মত কোন কর্মকান্ডের সাথে কখনো জড়িত ছিলেন না। সরকার দলীয় লোক দিয়ে তদন্তের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন তৈরি করে জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ গঠন করেছে। অবিলম্বে বিচারের নামে সাজানো নাটক বন্ধ করে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান।
বাড্ডায় কর্মী সমাবেশ : জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য লুৎফুর রহমান বলেছেন, আদালতে বিচার চাইতে গেলেও আজ নারীরা পুলিশ কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের আজ জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। সাগর-রুনির হত্যার ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন খুনিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। যে পুলিশ সাংবাদিক নির্যাতন করে সেই পুলিশকে দিয়ে কখনো সাংবাদিক হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করা সম্ভব নয় । তিনি বলেন সরকার কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জামায়াত নেতৃবৃন্দের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। অবিলম্বে বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ করে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
গতকাল শুক্রবার বাড্ডা ও ভাটারা থানার উদ্যোগে আয়োজিত পৃথক ২টি কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাড্ডা থানা আমীর অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ ও ভাটারা থানা আমীর মো. হেদায়াতুল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পৃথক ২টি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা ফখরুদ্দিন মো. কেফায়াতুল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার কামাল উদ্দিন, আব্দুল কাইয়ুম মজুমদার ও সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি

