|
|
স্টাফ রিপোর্টার : সুযোগ-সুবিধা না পেলে নাগরিকরা কর দেবেন কেন এমন প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান। তিনি বলেন, মানুষ যদি কর দিয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, আইনশৃক্মখলা পরিস্থিতি, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও মেরামতসহ অবকাঠামোগত এবং অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা না পান তবে কর দিয়ে লাভ কি? যখন এসব পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে, অর্থাৎ মানুষ করের সুফল পাবেন তখন সকলেই কর দেবেন।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ভোরের কাগজ আয়োজিত ‘বাজেট : ২০১২ কর প্রস্তাবনা' শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তৃতা করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, এনবিআর-এর সদস্য এম এ কাদের সরকার, সংসদ সদস্য শাহ জিকরুল আহমেদ, ইংরেজি দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, আমাদের সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আয়কর আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বাংলাদেশের বাজেটকে প্রাণহীন আচার অনুষ্ঠান অভিহিত করে আকবর আলী খান আরো বলেন, সংসদে বাজেট বিষয়ে খুব বেশি হলে তিন সপ্তাহ আলোচনা হয়। এ সময়কালের মধ্যে আবার বড় একটা সময় বাজেট বহির্ভুত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। তার ওপর এ আলোচনায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। তাহলে তো একটা এসআরও (স্টেটিউটরি রেগুলেটরি অর্ডার) মাধ্যমেও বাজেট করা যায়। এ ধরনের অনিয়ম মেনে নেয়া যায় না।
বদিউর রহমান বলেন, রাজনীতিবিদরা ঠিকমতো কর দিলে এবং রাজস্ব আদায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করলে নিয়মের বাইরে কেউ থাকবে না। তখন ২ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করাও সম্ভব। কালো টাকা বিষয়ে তিনি বলেন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার আইনজীবী, রাজনীতিবিদ সবার কাছেই কালো টাকা রয়েছে। মূল প্রবন্ধে শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতার জন্য ৫ দফা ও ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া সামগ্রিক অর্থনীতি ও কর আদায় বিষয়ে আরো ৬ দফা প্রস্তাব করা হয়।

