|
|
শিক্ষকদের ক্লাস বর্জনের ডাক\ শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন
যশোর সংবাদদাতা : যশোর সরকারি এম এম কলেজে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হাতে এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। পিটিয়ে ওই শিক্ষকের হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রতিবাদে শিক্ষকরাও তিনদিনের ক্লাস বর্জনের ডাক দিয়েছেন। এদিকে গতকাল সোমবার শিক্ষার্থীরা কলেজে ক্লাস বর্জন করে কলেজ ক্যাস্পাসে মিছিল করেছে।
মারপিটের শিকার শিক্ষক হচ্ছেন গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশারেফ হোসেন। তিনি জানান, কলেজের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন শাহ আব্দুল করিম সড়কের রূপকথা ফটোস্ট্যাটের দোকানের পাশে তার বাসা। তিনি বাসার সামনে ভবন নির্মাণের জন্য পাথর ও ইটের খোয়া কিনে এনে রেখেছেন। গত রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় এক ছেলে পাথর ছড়াতে শুরু করলে তিনি তাকে নিষেধ করেন। এর কিছুক্ষণ পর এক সময়কার এমএম কলেজের ছাত্র উচ্ছৃক্মখল যুবক তৌহিদ এসে তাকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে। এ সময় তৌহিদের সাথে আরো কয়েকজন তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে ব্যাপক মারপিট করে। মারপিটে তার ডান হাত ভেঙ্গে যায়। তাছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তৌহিদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। সে স্থানীয় ছাত্রলীগের চাকলাদার গ্রুপ সমর্থিত। বর্তমানে এলাকায় ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।
এদিকে শিক্ষককে মারপিটের ঘটনা জানাজানি হলে কলেজের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে থাকে। গতকাল সোমবার কলেজের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস ও কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বর্জন করে। তারা বেলা ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। একই সময়ে কলেজের শিক্ষক পরিষদ তাৎক্ষণিক সভা আহবান করে। বেলা ১টা পর্যন্ত এ সভা চলে।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ইবাদুল হক বলেন, শিক্ষক পরিষদের সভায় কলেজে তিনিদিনের ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার মানববন্ধন ও আগামীকাল বুধবার শিক্ষকরা কালোব্যাজ ধারণ করবে। অধ্যক্ষ আরো বলেন, স্থানীয় ক্যাডারের এ ধরনের আচরণ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তৌহিদের এখন কলেজে ছাত্রত্ব নেই বলে প্রফেসর ইবাদুল হক জানিয়েছেন।
কোতয়ালি থানার ওসি আব্দুল জলিল বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। তবে থানায় এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

