Quantcast
ঢাকা, মঙ্গলবার 5 June 2012, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯, ১৪ রজব ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৬৯০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বিভ্রান্তিকর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবরের নিন্দা জানিয়ে জামায়াতের বিবৃতি

আপোষকামিতার রাজনীতির সাথে জামায়াতে ইসলামী মোটেই পরিচিত নয়

o কোনভাবেই জামায়াতকে পর্যুদস্ত করতে না পেরে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অপপ্রচার চালাচ্ছে o কল্পকাহিনী রচনা করে জনগণকে অতীতে বিভ্রান্ত করা যায়নি ভবিষ্যতেও যাবে না o

অতিসম্প্রতি দু-একটি পত্রিকা ও সংবাদ মাধ্যম ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে সরকারের সমঝোতা' মর্মে কিছু বিভ্রান্তিকর, অসত্য, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবর পরিবেশন করেছে। এ সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান গতকাল সোমবার বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত ও সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। অতীতের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। জামায়াত তার যাত্রালগ্ন থেকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর জামায়াতে ইসলামীই প্রথম স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূচনা করে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাবার জন্য কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থার দাবি সর্বপ্রথম জামায়াতের পক্ষ থেকেই পেশ করা হয়। কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে জেল, জুলুম-নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। অনেককে আহত, পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। জীবন দিতে হয়েছে অনেক নেতা-কর্মীকে। নেতৃদ্বয় বলেন, জামায়াত কখনই কারো কাছে মাথা নত করেনি বা সমঝোতা করেনি। অন্যায়, অসত্য, মিথ্যার বিরুদ্ধে জামায়াত সর্বদাই আপোষহীন ভূমিকা পালন করেছে। ফলে দেশ ও জাতির নিকট জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষক, শ্রমিক, যুবক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, আইনবিদ, চিকিৎসাবিদ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবীগণ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করছে। অমুসলিমরাও এ সংগঠনে সমবেত হচ্ছে।

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে জামায়াত সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ কামারুজ্জামান এবং আবদুল কাদের মোল্লা দীর্ঘ দুই বছর ধরে এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম দীর্ঘ আটমাস যাবৎ কারাগারে আটক রয়েছেন। এ পর্যন্ত সারা দেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৫ হাজারের অধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা দেয়া হয়েছে ১০ সহস্রাধিক, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়েছে ১১ জন নেতা-কর্মীকে। সরকারের বিরুদ্ধে আপোষহীন ভূমিকা পালন করার কারণে সরকার জামায়াতের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। জামায়াত অত্যন্ত ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের সংবিধান স্বীকৃত অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারা বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী কার্যালয় দীর্ঘ প্রায় আটমাস যাবৎ সরকার পুলিশ দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কার্যালয়ে কেউ প্রবেশ করলেই তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। মাঝে মাঝে তল্লাশির নামে হয়রানি করা হচ্ছে। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল, মহানগরী আমীর ও মহানগরী সেক্রেটারির বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদের অধিকাংশ সদস্যকেই এ সরকার অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে কারাগারে আটক রেখে মিথ্যা মামলা দেয়।

জামায়াত নেতৃদ্বয় বলেন, ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা এ সরকারের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম জামায়াতের পক্ষ থেকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করা হয়। বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে জামায়াত মাঠে ময়দানে প্রতিবাদ জানায় যা গোটা জাতির দৃষ্টি আর্কষণ করতে সক্ষম হয়। তিস্তা ও গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্সা আদায়ের জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করা হয়। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, তেল, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে জামায়াত নিরবচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করে আসছে। নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পন্থায় জামায়াত জাতীয় সমস্যাসমূহ সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য জামায়াত আঠার দলীয় জোট গঠনে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করে। কোনভাবেই জামায়াতকে পরাজিত, পর্যুদস্ত ও নিশ্চিহ্ন করতে না পেরে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। সরকারের সাথে জামায়াতের সমঝোতার একটি কাল্পনিক, মিথ্যাচার, হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য ছাড়া আর কিছুই নয়।

নেতৃদ্বয় বলেন, এ সব আজগুবী, মিথ্যা, বানোয়াট বক্তব্য পরিবেশন করে আঠার দলীয় জোটে ভাঙ্গণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দুর্বল করার অবাঞ্ছিত কূটকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘ ইতিহাসে সরকারের সাথে পর্দা-অন্তরালের সমঝোতা বা আপোষের কোন ঘটনা নেই। চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াতের বলিষ্ঠ ভূমিকায় দলটির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা, জনসমর্থন বৃদ্ধি ও জামায়াতের প্রতি সাধারণ জনগণের সহানুভূতি বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে ইসলাম বিরোধী অপশক্তি জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে মেতে উঠেছে।

তারা বলেন, আমরা দ্ব্যার্থহীন ভাষায় ঘোষণা করছি, নীতিহীন ও অন্ধকারের সমঝোতা বা আপোষকামিতার রাজনীতির সাথে জামায়াতে ইসলামী মোটেই পরিচিত নয়। এ ধরনের কল্পকাহিনী রচনা করে জনগণকে অতীতে বিভ্রান্ত করা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না। তারা সংশ্লিষ্ট মহলকে বিভ্রান্তিকর খবর পরিবেশন করা থেকে বিরত থাকার এবং দেশবাসীকে এ সমস্ত মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য উদাত্ত আহবান জানান।