|
|
সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত
সংসদ রিপোর্টার : শেয়ারবাজারকে দুষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, শেয়ারবাজার নিয়ে আমি কোন বক্তব্য রাখব না। এ শেয়ারবাজার দুষ্ট শেয়ারবাজার। তার সংস্কার হবে ডিসেম্বরে। শেয়ারবাজার মতিঝিলে অবস্থিত। মাত্র ১১ লাখ বিনিয়োগকারীর কাছে সীমাবদ্ধ। শেয়ারবাজার নিয়ে কোন চিন্তা না করলে অর্থনীতির কোন ক্ষতি হবে না। তার আগে মহাজোটের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন শেয়ারবাজারের দুরবস্থার জন্য অর্থমন্ত্রীকে দায়ী করে বলেছেন, শেয়ারবাজার সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর বিভিন্ন উচ্চারণ অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০১১-১২ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের উপর আলোচনায় তারা এ কথা বলেন। বাজেট আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, মহাজোটের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রমুখ।
বাজেট আলোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, ভ্রান্তনীতি সম্পর্কে যে অভিযোগ করা হয়েছে আমি তা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করি। তবে একটি ক্ষেত্রে হিসাব মত কাজ হয়নি। এটা হলো জ্বালানির মূল্য সমন্বয় হয়নি। যে সময় জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলাম সে সময় জ্বালানির মূল্য বাড়ানো হয়নি। জ্বালানির মূল্য আন্তর্জাতিক মূল্যের সাথে সমন্বয় করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বালানির মূল্য বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ঘাটতি সম্পর্কে কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু ঘাটতি আগের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক কম। আর শেয়ারবাজার নিয়ে আমি কোন বক্তব্য রাখব না। এ শেয়ারবাজার দুষ্ট শেয়ার বাজার। তার সংস্কার হবে ডিসেম্বরে। শেয়ারবাজার মতিঝিলে অবস্থিত। মাত্র ১১ লাখ বিনিয়োগকারীর কাছে সীমাবদ্ধ। শেয়ারবাজার নিয়ে কোন চিন্তা না করলে অর্থনীতির কোন ক্ষতি হবে না।
তিনি বিদ্যুৎ সম্পর্কে বলেন, কুইক রেন্টাল ছাড়া এ উন্নয়ন সম্ভব ছিল না। গ্যাসের কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, আমি যখন যোগাযোগমন্ত্রী ছিলাম, তখন অনেক কাজ করেছি। আমি মিডিয়ার অসত্য রিপোর্টের শিকার হয়েছিলাম। মিডিয়ার অসত্য রিপোর্টের কারণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, একটি-দু'টি বাদে অর্থনীতির সূচক ঊর্ধ্বমুখী হলেও তা এখন নিম্নমুখী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভ্রান্তনীতির কারণে অর্থনীতিকে ঝুকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। মনে হয়েছে, অর্থনীতি পরিচালনায় অর্থমন্ত্রী সতর্ক ছিলেন না। তার কথাবার্তায় অনেক সময় অযাচিত সমস্যা সৃস্টি করেছে। শেয়ারবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী একসময় কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু অন্ধ হলে যেমন প্রলয় বন্ধ থাকে না, তেমনি অর্থমন্ত্রী কথা বলা বন্ধ করায় শেয়ারবাজারের প্রলয় বন্ধ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শেয়ারবাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা আজো ফিরে আসেনি। শেয়ার কারসাজির নায়করা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের তীব্র সমালোচনা করে প্রবীণ এই বাম রাজনীতিক বলেন, বিদ্যুৎ নিয়ে কথা কম বলাই ভালো। যারা রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের বিরোধিতা করেছেন তাদের দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়েছেন বিদ্যুৎ উপদেস্টা।
রাশেদ খান মেনন আরো বলেন, আমি অজ্ঞ-জ্ঞান পাপি বা দেশদ্রোহী যাই হই না কেন একটা কথা সত্য আর তা হচ্ছে উপদেষ্টাদের কোন জবাবদিহিতা করতে হয় না। তাদের লেজ অন্য কোথাও বাধা। দেশ উপদেষ্টা শাসিত সরকার ব্যবস্থয় চলে না। দেশ চলছে সংসদীয় গণতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করলেই যদি দেশপ্রেমিক হওয়া যেতো তাহলে খন্দকার মোশতাক সবচাইতে বড় দেশপ্রেমিক হতেন। দেশপ্রেমিক হতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশপ্রেম থাকতে হয়। তিনি বলেন, রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট কোনও কাজে আসেনি। বরং এই প্লান্টের জন্য তেল কিনতে কিনতে ‘নুন আনতে পান্তা' ফুরানোর মতো অবস্থা। লোকজন বলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তিন বছর আগে যেখানে ছিলো সেখানেই আছে। রাশেদ খান মেনন বলেন, এখন শোনা যাচ্ছে বড়লোকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় বাড়তি টাকায় বিদ্যুৎ দেয়া হবে। এতে লাভ কি হবে জানি না। তবে সমস্যা আরো বাড়বে। তেল-গ্যাসসহ খনিজ সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার বিরোধিতা করে রাশেদ খান মেনন বলেন, আমাদের দেশপ্রেমিক উপদেষ্টারা দেশের সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দিতে চান। এর পরিণতি ভালো হবে না। বিদ্যুৎ-জ্বালানি-খনিজ সম্পদ ও আইনশৃক্মখলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু বিদ্যুৎ নয়, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাত নিয়ে এই সংসদে আলোচনা প্রয়োজন। এছাড়াও আইনশৃক্মখলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন। সংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ইলিয়াস আলী গুম হয়েছেন। শিশু সন্তানদের অপহরণ করে হত্যা করা হচ্ছে। সাগর-রুনি খুন হয়েছেন। সংবাদিকদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। পুলিশ বিচারককে পেটাচ্ছে। এ অবস্থার অবসান জরুরি। পুলিশের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই ক্ষোভও নিরসন করতে হবে। তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে। মিডিয়ার সাথে সরকারের সম্পর্ক ভালো আছে। এ সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

