|
|
রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয়ের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ
মিয়ানমারে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার বায়তুল মোকাররক উত্তর গেটে সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য পেশ করেন মাওলানা আহমদ উল্লাহ আশরাফ -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : সম্মিলিত উলামা-মাশায়েখ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ বলেছেন, নাস্তিক মুরতাদদের মদদপুষ্ট হয়ে সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ঈমান ও দেশ বাঁচাতে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে। ইহুদীদের দালাল এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ঈমানী দায়িত্ব।
গতকাল শুক্রবার বাদ জুমআ সম্মিলিত উলামা-মাশায়েখ পরিষদ আয়োজিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয়ের দাবিতে বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মহাসচিব ও ইসলামী সমমনা ১২ দলের সদস্য সচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, সম্মিলিত উলামা-মাশায়েখ পরিষদের যুগ্ম-মহাসচিব ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, এনডিপির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, ইসলামিক পার্টি চেয়ারম্যান এডভোকেট আবদুল মোবিন, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব ও শর্ষীনার ছোট পীর মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, টেকেরহাটের পীর সাহেব মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টি সভাপতি ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের ঢাকা মহানগরী সভাপতি মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব এম.এ রশীদ প্রধান, প্রফেসর আব্দুস সবুর মাতুববর প্রমুখ।
মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, রোহিঙ্গা মজলুম মুসলমানদের উদ্ধার করতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার মুসলমানদের ধ্বংস করতে চায়। মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তিনি দেশ, সংসদ ও জনগণকে অপমানিত করেছেন, তাকে উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ সরকার মুসলমানদের দুশমন।
ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, মানবিক কারণেই রোহিঙ্গা নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানবতা সকলের ঊর্ধ্বে আল্লাহতায়ালা বলেই দিয়েছেন ‘‘যদি কোন মুশরিকও আশ্রয় চায় তাদেরকে তোমরা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আশ্রয় দিবে।’’ আল্লাহর এ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পরও সরকারের মন কেন নরম হচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়। সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও অবিচল বিশ্বাস মুছে ফেলা, কুরআন বিরোধী নারী নীতি অনুমোদন, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন, আল্লাহ ও রাসূল (সা.) কে কটূক্তি ও ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ, কন্যা সন্তানকে সম্পূর্ণ সম্পত্তি দেয়ার ঐদ্ধত্য দেখিয়ে কুরআন পরিবর্তনের অচেষ্টা, আন্তঃধর্মীয় প্রবর্তনের চেষ্টা এবং নানামুখী ইসলাম ধ্বংসের অপতৎপরতার হোতারা সরকারকে নির্যাতিত নিষিত মুসলিমদের বিপক্ষে অবস্থান নিতে চাপ প্রয়োগ করেছে কিনা তা জনগণ জানতে চায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসের নেশায় এত নিষ্ঠুর হলেন তার জবাব দিতে হবে। বর্বর হামলার শিকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় দেয়া আল্লাহতায়ালার বিধানের মান্য করা, মানবতা রক্ষা করা এবং দেশের ভাবমর্যাদা সমুন্নত রাখাই শামিল। টেকেরহাটের পীর সাহেব মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী বলেন, কতিপয় হিজড়া মন্ত্রীদের নাস্তিক মুরতাদ প্রীতির কারণেই নির্যাতিত অসহায় মুসলমানদেরকে নিশ্চিত বিপদে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
শর্ষীনার ছোট পীর মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দীকি, বলেন, আরাকানের মুসলমানদেরকে হেফাজতে এগিয়ে না আসলে জনগণই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারকে টেনে-হিঁচড়ে নামবে। সমমনা ইসলামী দলসমূহের এ বিশাল বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর পল্টন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।

