|
|
৩০ লাখ টাকার মাছ, মুরগি ও গরু লুটের ১১ দিনের মাথায়
নরসিংদী : রায়পুরা উপজেলার পীরপুর গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা বিএনপির ৫০ নেতাকর্মীর বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়। এতে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় -সংগ্রাম
0রেহাই পায়নি ১০৭ বছরের বৃদ্ধাসহ ৫ মহিলাও0
নরসিংদী সংবাদদাতা : ৩০ লাখ টাকার মাছ, মুরগি ও গরু লুট করার মাত্র ১১ দিনের মাথায় নরসিংদী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফাইজুর রহমান ও তার সমর্থকদের বাড়িতে আবারো হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহীর সমর্থকরা। চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহীর নেতৃত্বে কমবেশি ২/৩শ লোক মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে অন্তত ৫০টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর করেছে। লুট করেছে কমবেশি ১ কোটি টাকার সম্পদ। হামলাকারীরা বিএনপি নেতা ফাইজুরের শতবর্ষী বৃদ্ধা মাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করেছে। একই সাথে আহত হয়েছে আরও ৪ জন মহিলা। গতকাল সোমবার ভোরে রায়পুরা উপজেলার পীরপুর গ্রামে এই নৈরাজ্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।
হামলা ও লুপাটের পর পীরপুর গ্রামটি একটি বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে। হামলাকারীদের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছে কয়েকশ আবালবৃদ্ধ-বণিতা।
জানা গেছে, রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ফাইজুর রহমানের সাথে একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান মনজুর এলাহীর নেতৃত্বের দ্বনদ্ব চলে আসছে। কিছুদিন পূর্বে বর্তমান চেয়ারম্যান মনজুর এলাহী ও সাবেক চেয়ারম্যান ফাইজুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় চেয়ারম্যান গ্রুপের সমর্থকরা পাল্টাপাল্টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় ৩০ ব্যক্তি আহত হয়। এতে বিএনপি নেতা ফাইজুর রহমান বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু রায়পুরা থানা পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করেনি। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহী, বিএনপি নেতা ফাইজুর রহমানকে প্রধান আসামীসহ অর্ধশত বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামী করে থানায় এজাহার দায়ের করলে রায়পুরা থানা পুলিশ তা বিনা তদন্তেই মামলাটি রুজু করে ফেলে। এই ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহীর সমর্থক সন্ত্রাসীরা কমবেশি ১৫ জন বিএনপি নেতাকর্মীর বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে। গত বৃহস্পতিবার রায়পুরা থানা পুলিশ পিরিজকান্দি গ্রামে গিয়ে বিএনপি নেতা ফাইজুর রহমানের মৎস্য ও মুরগি খামারে হামলা চালায়। পুলিশের সাথে মঞ্জুর এলাহী সমর্থক কমবেশি অর্ধশত সন্ত্রাসী পুলিশের সহযোগিতায় খামার থেকে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ৬ হাজার মুরগি, ৫ লাখ টাকা মূল্যের ১০টি গরু ও ১০ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়।
বেলা ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা সন্ত্রাসীরা পুকুর থেকে জাল দিয়ে মাছ লুট করে। মুরগির খামার থেকে মুরগি লুট করে। গরুর খামার থেকে গরু লুট করে নিয়ে যায়। পুলিশ এসময় সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেফতার না করে খামারে কর্মরত কর্মচারীদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। গত শুক্রবার লুণ্ঠনকৃত ১০টি গরু থেকে ২টি গরু জবাই করে পীরপুর গ্রামের মাসুদ মেম্বারের বাড়িতে মাইক বাজিয়ে উল্লাস করে গণভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ ঘটনার পর বিএনপি নেতা ফাইজুর রহমান থানায় এজাহার দাখিল করার পরও পুলিশ মামলা রুজু করেনি। এ অবস্থায় দীর্ঘ ১০ দিন পর বিএনপি নেতা ফাইজুর রহমান গত রোববার নরসিংদী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে
সোমবার সকাল অনুমান ৭টার সময় হঠাৎ করে মঞ্জুর বাহিনীর ২/৩শ লোক দেশীয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত হয়ে অতর্কিতভাবে বিএনপির নেতা ফাইজুর সমর্থক ও তার নতুন বাড়ি এবং পুরনো বাড়িতে একযোগে হামলা চালায়। এসময় বাড়িতে থাকা নারী-পুরুষ ভয়ে এলাকা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামে আশ্রয় নেয়। এ সুযোগে হামলাকারীরা প্রায় ৫০টি ঘর-বাড়ি ভাংচুর করে এবং ঘরের ভিতরে থাকা টিভি, কম্পিউটার, স্বর্ণলংকার, ধান-চালসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় বিএনপির নেতা সাবেক চেয়ারম্যান ফাইজুর রহমানের শতবর্ষী মা খাতুনেন্নেছাকে বাড়িতে একা পেয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
বিএনপির নেতা ফাইজুর রহমান জানান, আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে ঘর-বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট করা হয়েছে। মঞ্জুর এলাহী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর রুদ্ররোষ থেকে আমার শতবর্ষী বৃদ্ধা মাও রেহাই পায়নি। সন্ত্রাসীরা আমার মাকে ঘর থেকে এনে এলোপাতাড়ি মারধোর করেছে।
এ ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহীকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে রায়পুরা থানায় খবর দিলেও প্রায় ৩ ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মমিনুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পূর্বেই সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে চলে গেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রামটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময়েই বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে শান্তিপ্রিয় জনগণ।

