Quantcast
ঢাকা, মঙ্গলবার19 June 2012, ৫ আষাঢ় ১৪১৯, ২৮ রজব ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৭৬১ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

পবিত্র মি'রাজুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা

জেল-জুলুম আর নির্যাতনে মনোবল হারালে চলবে না আল্লাহর সাহায্যে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে এগুতে হবে -একেএম নাজির আহমদ

পবিত্র মিরাজুন্নবী (সা.) উপলক্ষে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য পেশ করেন দলের নায়েবে আমীর অধ্যাপক একেএম নাজির আহমদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ অধ্যাপক একেএম নাজির আহমদ বলেছেন, শত জেল-জুলুম আর যত নির্যাতনই আসুক না কেন ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে বসে থাকলে চলবে না বরং আল্লাহর সাহায্যে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে যত চক্তান্ত আর ষড়যন্ত্র হোক না কেন দুনিয়াবী কোন শক্তির কাছেই মাথা নিচু করা যাবে না। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে পথ চললে অবশ্যই সেই সাহায্য আসবে।

গতকাল সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে পবিত্র মি'রাজুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমীর এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এমপি'র সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক তাসনীম আলম, এটিএম মাসুম, ঢাকা মহানগর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, মহানগর জামায়াত নেতা এডভোকেট মশিউল আলম, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

অধ্যাপক একেএম নাজির আহমদ বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে যারা ক্ষমতাবানদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে ন্যায্য সাধারণ অধিকারটুকুও ভোগ করতে পারে না, শত জুলুম আর নির্যাতনে যারা কোণঠাসা হয়ে পড়েন মহান আল্লার অকৃত্রিম ইচ্ছায় এক সময় তাদের হাতেই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব আসে। তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, জামায়াতের ওপর যেভাবে অন্যায় আচরণ আর মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে সরকার নির্যাতন করছে তাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবশ্যই সহায়তা বা সমাধান আসবে। তিনি মি'রাজের ১৪টি শিক্ষা বর্ণনা করে বলেন, এই আদর্শ বা শিক্ষা অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব হলেই কেবল একটি সুখীসমৃদ্ধ ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, মি'রাজের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সবাইকে সুখীসমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণের কাজ করতে হবে। ক্ষমতায় বসে দাম্ভিকতায় জনগণকে হেয় করা যাবে না।

নাজির আহমদ বলেন, মিরাজের শিক্ষা হলো মানুষ হত্যা করা যাবে না। বাংলাদেশে আজ প্রতিনিয়ত খুন হত্যা চলছে। কোন আদর্শ সমাজে এভাবে মানুষ হত্যা হতে পারে না। দেশে আজ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হচ্ছে। অনুমান নির্ভর হয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে আল্লাহপাক নবীকে নিষেধ করেছেন। রাষ্ট্রনায়করা অনুমান নির্ভর হয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। কিন্তু বাংলাদেশে আজ শাসকরা অনুমানের উপর ভিত্তি করে দেশের সম্মানীত লোকদের জেলে ভোরে নির্যাতন করছে।

তিনি বলেন, পবিত্র মিরাজের মাধ্যমে আল্লাহ পাক রাসুল (সা.)কে বলেছেন আজ আপনি যে ভাবে কোণঠাসা অবস্থায় জীবনযাপন করছেন এটা আর বেশি দিন থাকবে না। অচিরেই এ অবস্থা কেটে যাবে। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য এটা একটা ম্যাসেজ। বাংলাদেশে আজ ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের উপর সীমাহীন জুলুম-নির্যাতন চলছে। স্বৈরাচারের রক্ত চক্ষুর নিকট মাথা নীচু করা যাবে না। আমাদের মাথা উঁচু করে সকল জুলুম-নির্যাতন উপেক্ষা করে বলিষ্ঠভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয় অবশ্যই আসবে।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, রাষ্ট্রে এখন কোটি কোটি টাকা অপব্যয় করা হচ্ছে। একে অপরের সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যভিচারের গোটা সমাজ এখন ছেয়ে গেছে। পত্রিকার পাতা খুললে প্রতিনিয়তই ধর্ষণের খবর পাওয়া যায়। অথচ আল্লাহপাক মানুষকে ব্যভিচারের কাছেও যেতে নিষেধ করেছেন। ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্টার জন্য যে মূলনীতি দরকার মিরাজের মাধ্যমে আল্লাহপাক রাসুল (স)কে তা বলে দিয়েছেন। মিরাজের ১৪ দফা মূলনীতির আলোকে যদি বাংলাদেশকে গড়ে তুলা যায় তাহলে সমাজ থেকে খুন, হত্যা, জুলুম-নির্যাতনসহ সকল অপরাধ দূর হয়ে একটি শান্তির সমাজে পরিণত হবে। মিরাজের আলোকে ব্যক্তি ও সমাজ জীবন গঠনে সকলকে তিনি এগিয়ে আসার আহবান জানান।

অধ্যাপক তাসনীম আলম বলেন, ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য দরকার সৎ মানুষের। আর সেই সৎ মানুষ তৈরি করে আমাদের দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। রাষ্ট্র পরিচালনায় সুনাগরিক তৈরীতে এই নামাজকেই ট্রেনিং হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, সুখী সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে জামায়াতে ইসলামী সেই প্রশিক্ষপ্রাপ্ত জনবলই তৈরী করার কাজ করে। কিন্তু সরকার এই জামায়াতকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্যই একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে জেলে নিয়ে জুলুম-নির্যাতন করছে। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশের মুসলমান নারী-পুরুষ আর শিশুদের আহাজারিতে যখন আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে ঠিক সেই মুহূর্তে দিপু মনি মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে দেশবাসীর সাথে তামাশা করছেন। তিনি বলেন জামায়াত কোন সময়েই কোন গোপন কাজ করে না। দেশকে গণতান্ত্রিক পন্থায় এগিয়ে নিতে জামায়াত যে কর্মসূচি পালন করে তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে।

মাওলানা এটিএম মাছুম বলেন, বর্তমান জালিম সরকারকে জনগণ আর দেখতে চায় না। এ সরকার মুসলমানদের উপর ধর্মহীন শিক্ষানীতি চাপিয়ে দিয়ে দেশের সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা-বিশ্বাস তুলে দিয়েছে। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর উপর জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। মিশরের মতো বাংলাদেশেও একদিন ইসলামী আন্দোলনের বিজয় হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভাপতির বক্তব্যে হামিদুর রহমান আযাদ এমপি বলেন, কোরআন-সুন্নাহ ও ইসলামী নেতৃত্বের অনুপস্থিতির কারণেই আজ সারাবিশ্বে অশান্তির আগুন জলছে। মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার তা না করে মুসলমানদের পক্ষে মিছিল করার কারণে জামায়াতের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ দিয়ে হামলা চালিয়ে শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে তাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে। মিরাজের শিক্ষা গ্রহণ করে বর্তমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী অপশক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।