|
|
উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠাতে পরিবারের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর হার্টে ৪টি ব্লক ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ২টি ৭০ শতাংশ ও বাকি ২টি ৯৫ শতাংশ ব্লক হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে এনজিওগ্রাম করানোর পর তা ধরা পড়ে। পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে আজ মঙ্গলবার মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। লন্ডনের ব্রমটন হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবারো আহবান জানানো হয়েছে।
ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের করোনারী কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে ইতোপূর্বে মেডিকেল বোর্ড গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় এনজিওগ্রাম করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের কোনভাবেই মাওলানা সাঈদীর সাথে কারা প্রশাসন সাক্ষাৎ করতে দেয়নি। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা কারা প্রশাসনের কাছে বারবার অনুরোধ করেন। কিছুইতে কোন কাজ হয়নি। এমনকি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও এ ব্যাপারে কোন প্রতিকার পায়নি মাওলানা সাঈদীর পরিবার। এনজিওগ্রাম না হওয়ায় বেলা ১০টার দিকে মাওলানা সাঈদীকে সকালের নাস্তা দেয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুপুরের পর ৪টা ৫০ মিনিটে ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের তৃতীয় তলার সিসিইউ থেকে এনজিওগ্রাম করানোর জন্য ৫ম তলায় ক্যাথল্যাবে নিয়ে যাওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর লে. ক. (অব.) রেজাউল করীমের নেতৃত্বে এনজিওগ্রাম শেষে ৫টা ৩০ মিনিটে তাকে আবার সিসিইউতে নিয়ে আসা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাওলানা সাঈদীর হার্টে ৪টি ব্লক ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ২টি ৭০ শতাংশ ও বাকি ২টি ৯৫ শতাংশ। পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আজ মেডিকেল বোর্ড বসবে। ইতোপূর্বে লন্ডনের ব্রমটন হাসপাতালে মাওলানা সাঈদীর হার্টে ২টি রিং পরানো হয়।
তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারো হার্টের পরবর্তী চিকিৎসার জন্য সেই হাসপাতালেই পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মাওলানা সাঈদীর তৃতীয় ছেলে মাসুদ সাঈদীর দেশবাসী ও প্রবাসী সুধীজনের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী গত ১৪ জুন জ্যেষ্ঠ পুত্র মাওলানা রাফীক বিন সাঈদীর জানাযায় অংশগ্রহণ শেষে কারাগারে ফিরে যাবার পথেই বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং কারাগারে পৌঁছার পর কারা চিকৎসক তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকগণ মাওলানা সাঈদীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার একটি ‘‘মাইল্ড হার্ট এ্যাটাক’’ হয়েছে মর্মে জানতে পারেন। শনিবার প্রফেসর লে. ক. (অব.) রেজাউল করীম, ডা. ফিরোজ আমীন (এন্ডোকার্ডিওলোজিস্ট), প্রফেসর মির্জা মাহবুবুল হাসান (ইউরোলোজিস্ট), প্রফেসর মাখসুমুল হক (বিভাগীয় প্রধান, কার্ডিওলোজী) এবং প্রফেসর এম এ রশিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড মাওলানা সাঈদীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। মেডিকেল বোর্ড তাদের পর্যবেক্ষণ শেষে অবিলম্বে মাওলানা সাঈদীর এনজিওগ্রাম করা প্রয়োজন মর্মে অভিমত ব্যক্ত করেন।

