|
|
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ
0সাগর-রুনি হত্যার মোটিভ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে0
স্টাফ রিপোর্টার : সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির খুনের পর প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপি সকলেই অবিলম্বে খুনিদের বিচার করা হবে বলে সাংবাদিকদের আশ্বাস দেন। কিন্তু খুনের ঘটনার ৫ মাস অতিবাহিত হলেও কেন খুনিদের খুঁজে বের করা হচ্ছে না। বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান এ খুনের মোটিভ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে লন্ডনে গিয়ে বক্তব্য দিয়ে তাদের চরিত্র হননের চেষ্টা করেছেন। কেন মাহফুজুর রহমান এ খুনের ঘটনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তার অর্থ ও ক্ষমতা কতো বেশি তা আমরা দেখতে চাই। প্রয়োজনে আমরা এটিএন কার্যালয় ঘেরাও করবো।
গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সাগর-রুনি খুনের বিচার, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও নির্যাতন বন্ধ এবং মুক্ত-স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার দাবিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) যৌথভাবে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব শওকত মাহমুদ, আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজের সভাপতি আব্দুস শহিদ, ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, শাবান মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, আলতাফ মাহমুদ, এটিএন বাংলার প্রধান বার্তা সম্পাদক ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী, মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান শাহ আলমগীর প্রমুখ।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির খুনের পর প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপি সকলেই অবিলম্বে খুনিদের বিচার করা হবে বলে সাংবাদিকদের আশ্বাস দেন। কিন্তু খুনের ঘটনার ৫ মাস অতিবাহিত হলেও কেন খুনিদের খুঁজে বের করা হচ্ছে না। কেন মাহফুজুর রহমান এ খুনের ঘটনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তার অর্থ ও ক্ষমতা কতো বেশি তা আমরা দেখতে চাই। প্রয়োজনে আমরা এটিএন কার্যালয় ঘেরাও করবো। তিনি বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের ব্যাপারে যারা এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের পক্ষে অবস্থান নেবেন তাদের পরিণতি কী হবে তা জানি না। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দেয়া বক্তব্য মাহফুজুর রহমান প্রমাণ করতে না পারলে সাংবাদিক সমাজ তার বিচার করবে। তিনি বলেন, আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করতে আমাদের ওপর নতুন করে আঘাত হানা হয়েছে। এসব আঘাত প্রতিহত করতে সোমবারের সমাবেশকে সফল করতে হবে। মাহফুজুর রহমানের পক্ষে শিল্পীদের মানববন্ধন কর্মসূচিতে কোনো সাংবাদিক অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা যদি সাগর-রুনির হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন না করে মাহফুজুর রহমানের পক্ষে করে তাহলে তাদের অবস্থা কি হবে তা বলতে পারবো না।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা সাগর-রুনির রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এটি বিনষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে। মাহফুজুর রহমানের মতো ‘ভিলেন' এতে সফল হবেন না। অতীতেও এমন অনেক মাহফুজুর রহমান ছিল তারা টিকতে পারেনি। আমাদের শক্তি হলো- কলমের, ক্যামেরার এবং বিবেকের। আমরা অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে আছি। তদন্তের দায়িত্বে থাকা আইন শৃক্মখলাবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা জামাই আদরে মাহফুজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কী তথ্য পেয়েছেন তা জাতিকে জানান। আশা করি আপনারা অর্থের কাছে নতি স্বীকার না করে সুষ্ঠু তদন্ত করবেন। এমন কিছু করবেন না যাতে আপনাদের ওপর জনগণের আস্থা হারিয়ে যায়।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, মাহফুজুর রহমানকে শিল্পীসমাজ দিয়ে কেন বক্তব্য দিতে হবে? কেন ভালো মানুষ হিসেবে সার্টিফিকেট নিতে চাচ্ছেন? তিনি কি মনে করছেন নিজে কোথাও আটকা পড়ে গেছেন? এটিএনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যেহেতু আমাদের ওপর চ্যালেঞ্জ ছোঁড়া হয়েছে তাই আমাদেরও বিষয়টি ভাবতে হবে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ মাহফুজুর রহমানের কর্মকান্ড প্রত্যক্ষ করছে। সারা বাংলার মানুষ আজ সাংবাদিক হত্যার বিচার চায়। ধানাই-পানাই করে পার পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, দেশ সাংবাদিক নির্যাতনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। সাংবাদিকদের সাথে চ্যালেঞ্জ করবেন না। আমরা লাগাতার কর্মসূচিতে যাবো। প্রয়োজনে এটিএন বাংলা ঘেরাও করা হবে।
শওকত মাহমুদ বলেন, আজ সাংবাদিক ঐক্যের ওপর আঘাত হানা হয়েছে। সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে সে অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। মাহফুজুর রহমান তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন কিন্তু বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন কি-না জানি না। আইন শৃক্মখলাবাহিনী যদি এখন বলে, সাগর-রুনি পরকিয়ার বলি তা আমরা বিশ্বাস করবো না। তারা খুন হয়েছেন সাংবাদিক হওয়ার কারণে। তিনি বলেন, এটিএনের এক বন্ধুর কাছে যখন কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছে। তখনও আমরা প্রতিবাদ করেছি। মাহফুজুর রহমানের কাছে পাঠানো হলেও আমরা প্রতিবাদ করতাম। একটি সরকার সাগর-রুনির হত্যা ধামা-চাপা দিতে পারে। পরে কোনো সরকার আসলে তা চাপা পড়ে থাকবে না। সাগর-রুনি হত্যাকান্ড শুধু দেশে নয় সারা বিশ্বে এটা চাঞ্চল্যকর হত্যা হিসেবে পরিগণিত।
আব্দুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, আজ সাংবাদিকদের ঐক্য ভাঙার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আশা করি না। আমাদের আন্দোলন হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে। এ দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না সাগর-রুনি পরকীয়ার কারণে খুন হয়েছে।
কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, মাহফুজুর রহমান, আপনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবেন না। আপনি ভাড়াটিয়া মানুষ দিয়ে কিছু কর্মকান্ড করাচ্ছেন। আমাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির কোনো চেষ্টা করবেন না।
আব্দুস শহিদ বলেন, যেসব শিল্পী দিয়ে এটিএনে মাহফুজুর রহমানের পক্ষে অনুষ্ঠান করানো হয়েছে। তাদের একজনও সাগর-রুনির খুনিদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে দেখা যায়নি। চার মাস ধরে আন্দোলনে কোনো বিশৃক্মখলা হয়নি। আজ কেন হলো?
ওমর ফারুক বলেন, আমরা এতোদিন কারো নাম বলিনি। মাহফুজুর রহমান নিজেই বলেছেন, সাগর-রুনি পরকিয়ার বলি। তাহলে কাদের সাথে পরকীয়া ছিল তিনি তাও জানেন নিশ্চয়। নিজের চ্যানেলেই তিনি তাদের ছবি প্রকাশ করতে পারেন।
বাকের হোসাইন বলেন, আমরা মনে করেছিলাম সাগর-রুনি খুনিদের শাস্তির দাবিতে আমাদের আন্দোলন বেশি দিন করতে হবে না। কিন্তু সরকারের উচ্চ মহল দায়িত্ব নেয়ার পরেও এতো দিনে খুনিদের গ্রেফতার না করা দুঃখজনক।
আলতাফ মাহমুদ বলেন, যে পুলিশ খুনের ঘটনা উৎঘাটনে আদালতের কাছে অপারগতা প্রকাশ করে সে পুলিশ থাকার দরকার কী? সাগর-রুনির খুনের ঘটনার সকল তথ্য যখন মাহফুজুর রহমানের কাছে আছে তা হলে তো তদন্ত কাজ সহজ হয়ে গেল। এখন বিচার করা হোক।
সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, খুনিদের শিকড় যতো গভীরে হোক তাদের গ্রেফতার করতে হবে। আমাদের আন্দোলন এটিএন বাংলা কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে নয়। মাহফুজুর রহমানের কতো টাকা আছে? কীভাবে তিনি আমাদের আন্দোলন বন্ধ করতে চায় তা আমরা দেখবো। সাগর-রুনি খুনিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।
ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, আমরা মনে করি সাগর-রুনির হত্যার বিচার হবে। আমাদের ‘খুনি' বলার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এমনটা আমরা চাই না। আমরা চায় হত্যাকান্ডে জড়িত দোষীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হোক।
শাহ আলমগীর বলেন, সাগর-রুনি হত্যা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। খুনের বিচার চাইতে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

