|
|
শেখ হাসিনার বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল
স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি যদি ১০টি আসনই পায় তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এত ভয় কেন? লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে নির্বাচন দিন। তখন দেখা যাবে সে খেলায় (নির্বাচন) কারা জয়লাভ করে। তিনি বলেন, বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোট সীট বন্টনে বিশ্বাস করে না। আমরা জনগণের রায়েই ক্ষমতায় এসেছি। ভবিষ্যতেও আসবো ইনশাআল্লাহ। গতকাল রোববার বিকেলে গণবিরোধী বাজেটের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশ থেকে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে আগামী ২৮ জুন ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার এমপি, ড. আব্দুল মঈন খান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বিজেপি মহাসচিব শামীম আল মামুন, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, এলডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. রেদোয়ান আহমেদ, এনডিপি মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আজাদ এমপি, সহকারী সেক্রেটারি মুহম্মদ সেলিম উদ্দিন, বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন, নাজিমউদ্দিন আলম, শিরিন সুলতানা, আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক বজলুল বাসিত আরজু ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক পার্টির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মবিন, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, শেখ আনোয়ারুল হকসহ জোটের নেতৃবৃন্দ। বৃষ্টির কারণে তারা বক্তব্য দিতে পারেননি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা একের পর এক দেশের স্বার্থ বিরোধী কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচনের পূর্বে তারা ১০ টাকা কেজি চাল, বিনামূল্যে সার, ঘরে ঘরে চাকরিসহ আরো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু গত সাড়ে ৩ বছরে তার একটিও পূরণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, বিএনপির সময় যে সারের বস্তা ছিল ৩০০ টাকা তা এখন ১১৬০ টাকা। তিনি বলেন, তারা চাকরির নামে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিচ্ছে। ঘুষের টাকাসহ মন্ত্রীর এপিএস হাতেনাতে ধরা পড়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের ভ্রান্তনীতির কারণে পুঁজি বাজার ধ্বংস হয়ে গেছে। এখান থেকে লক্ষ কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করছে। তিনি বলেন, সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই দুর্নীতির সাথে জড়িত। দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংকসহ দাতা দেশগুলো সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারের ভ্রান্ত নীতির ফলে গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস হওয়ার পথে। একেক করে সব মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এসবের প্রতি সরকারের কোন খেয়াল নেই। তারা ব্যস্ত ক্ষমতায় টিকে থাকা নিয়ে। তারা ব্যস্ত দেশকে শেষ করে দিয়ে টাকার পাহাড় গড়া নিয়ে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার বুঝে গেছে জনগণ তাদের সাথে নেই। তাই তারা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছে। তারা বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। অনেককে আটক করেছে। আমরা বলে দিতে চাই, গুম, হত্যা, নির্যাতন, গ্রেফতার করে আন্দোলনকে বন্ধ করা যাবে না। বিএনপি ১০টি আসন পাবে, শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে শেখ হাসিনা কলকাতায় একটি পত্রিকাকে বলেছেন, আমরা (বিএনপি) ১০টি আসন পাবো। সেবার বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না। তিনি বলেন, ঈদের আগে তত্ত্বাবধায়কের দাবি না মানলে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।
এম কে আনোয়ার বলেন, গত সাড়ে তিন বছরে আ'লীগ দেশে গুম, হত্যাসহ এমন কোন দুঃশাসন নেই যা তারা করেনি। তারা অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এবারের বাজেটে তারা শেষবারের মতো লুটপাটের ব্যবস্থা করেছে। এ বাজেটে জনগণের কল্যাণে কিছুই রাখা হয়নি। তিনি বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় থাকলে বিদেশীরা টাকা দিবে না। কারণ এসব টাকা যে লুট হয়ে যায় তা তারা বুঝতে পেরেছে।
ড. মঈন খান বলেন, এবারের বাজেট হচ্ছে দরিদ্র মানুষদের নিস্পেশিত করার মাধ্যম। তারা এখানে ঘাটতি দেখিয়েছে ৫২ হাজার কোটি টাকা। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় সরকার দেউলিয়া হয়ে গেছে।
অধ্যাপক মজিবুর রহমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সম্মানের সাথে বিদায় নিতে চাইলে এখনই তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে আলোচনা শুরু করুন। অন্যথায় পরিণতি ভালো হবে না। দেশবাসী কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেখতে চায় না। তিনি বলেন, সময় থাকতে দেশকে সংঘাত ও সংঘর্ষের পথ থেকে ফিরিয়ে আনুন। তিনি বলেন, এ সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে। তারা মানবতা বিরোধী অপরাধের নামে জাতীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়েছে। গত ৪০ বছরে উনাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, কেউ অন্যায় করলে তার জন্য আইন আছে। কিন্তু জোর করে কারো বিরুদ্ধে বিচার করলে তা মেনে নেয়া হবে না। তিনি অবিলম্বে কারাগারে আটক নেতাদের মুক্তি দাবি করেন।
শামীম আল মামুন বলেন, আন্দোলন ছাড়া স্বৈরাচার সরকারের পতন হবে না। তারা তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে তালবাহানা শুরু করেছে। এদেরকে আর সময় দেয়া ঠিক হবে না।
আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, এ সরকারের আমলে বিদেশী কোন সাহায্য নেই। দেশের সব ধরনের উন্নয়ন বন্ধ। এরা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে দেশে ততই ক্ষতি হবে।
হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ঘোষিত এ বাজেট গণবিরোধী, জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আ'লীগ নিজেদের কৃষি নির্ভর সরকার বলছে, অথচ বাজেটে কৃষিতে ভর্তুকি কমিয়ে তারা প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, এ সরকার দেশকে ভারতের বাজারে পরিণত করেছে। এ বাজেটে দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য লুটপাটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এ সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই।

