Quantcast
ঢাকা, সোমবার 25 June 2012, ১১ আষাঢ় ১৪১৯, ৪ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৮৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

পদ্মা সেতু দুর্নীতি

প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকায় আসছে কানাডিয়ান পুলিশ টিম

 

বার্তা ২৪ ডটনেট : পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির প্রতিবেদন জমা দিতে সোমবার বাংলাদেশে আসছে কানাডার মাউন্টেড পুলিশের প্রতিনিধি দল। কানাডা পুলিশের তদন্ত টিম এখন শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছে। তারা বাংলাদেশের পথে রয়েছেন। প্রতিনিধি দলটিতে ৮/১০ জন সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্বব্যাংককে দুদকের পক্ষ থেকে পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে একটি মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল রিপোর্ট (এমএলআর) আগেই পাঠানো হয়েছিল। সেই রিপোর্টের জবাব দিতেই তারা আসছেন বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রতিনিধি দল ঢাকায় পৌঁছে প্রথমে যাবেন কানাডীয় হাইকমিশনে। সম্ভব হলে ওই দিনই পাঁচটার আগে দুদকে আসার কথা রয়েছে তাদের। তবে এ সময় যদি সম্ভব না হয় তবে জুলাইয়ের ৩ তারিখ দুপুরের আগে তারা দুদক কার্যালয়ে আসবেন।

তিনি আরো জানান, দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে তারা কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও মো. বদিউজ্জামানের সঙ্গে দেখা করবেন। তাছাড়া পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির মহাপরিচালক, পরিচালক এবং দুই অনুসন্ধান কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন। কানাডার তদন্ত দল এ সময় তথ্য উপাত্ত গ্রহণ করার পাশাপাশি মৌখিক বক্তব্য নেবেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান জানান, কানাডীয় তদন্ত টিমের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। ২৬ জুন তাদের বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। যেদিন আসবে সেদিন কিংবা তিন জুলাই কানাডীয় পুলিশ দুদক কার্যালয়ে এসে তাদের তদন্ত রিপোর্ট পেশ করতে পারে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মূল্যায়ন কমিটি পরামর্শক হিসেবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম সুপারিশ করেছিলেন। এর প্রথমটি ছিল এসএনসি-লাভালিন। অন্যগুলো হলো- আমেরিকার প্রতিষ্ঠান হালক্রো গ্রুপ ইউকে, নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান একম অ্যান্ড এজেডএল, জাপানের ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্ট কোম্পানি লিমিটেড এবং বৃটেন ও নেদারল্যান্ডসের জয়েন্ট ভেনচার কোম্পানি হাই পয়েন্ট রেলেন্ড।

এর মধ্যে এসএনসি-লাভালিনকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে অনুমোদনের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছিল। এর পরই এ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলার সহায়তা স্থগিত করে দেয়। এ নিয়ে কানাডা পুলিশ এখনো তদন্ত করছে। আর তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক এসএনসি-লাভালিনকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।

বিষয়টি তদন্ত করতে বিশ্বব্যাংক থেকে কানাডা সরকারের কাছে অভিযোগপত্র পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশকে। এরপর পুলিশ এসএনসি লাভালিনের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ওই অফিসের ল্যাপটপসহ বেশ কিছু নথিপত্র জব্দ করে নিয়ে যায়। রমেশ এবং ইসআইল নামের দু'জনকে গ্রেফতার করে। জব্দ করা নথিপত্রের মধ্যে একটি ডায়েরিতে পদ্মা সেতুর পরামর্শক কাজ পেতে বাংলাদেশে যোগাযোগ করার জন্য একটি তালিকা পাওয়া যায়। এরই মধ্যে ওইসব তথ্য কানাডিয়ান পুলিশ বিশ্বব্যাংকের কাছে পৌঁছিয়েছে। একই রিপোর্ট হাতে পেতে দুদকের অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে কানাডা সরকারের কাছে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

ওই আবেদনে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশে এসে তদন্ত রিপোর্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয় কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ। এ বিষয়ে তারা দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলেও নিশ্চিত করেছে দুদক সূত্র।