|
|
হামলার ঘটনায় ৯ সাংবাদিককে বহিষ্কার
স্টাফ রিপোর্টার : সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় আন্দোলনরত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা চালিয়েছে এটিএন বাংলার সাংবাদিকরা। সাংবাদিক দম্পতি হত্যার ঘটনায় এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানানোয় এক সাংবাদিক নেতার ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করেছেন ওই টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকরা। এদিকে ঘটনাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে এটিএন বাংলার ৯ সাংবাদিককে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাগর-রুনি খুনের বিচার, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও নির্যাতন বন্ধ এবং মুক্ত-স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার দাবিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) যৌথভাবে আয়োজিত মানববন্ধনে এ ঘটনা ঘটে।
মানববন্ধন শুরুর পর ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির মৃত্যুর জন্য এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানকে দায়ী করে তার কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিক সাগর-রুনির মৃত্যুর জন্য এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান দায়ী। তার কার্যালয় ঘেরাও করার কর্মসূচি ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি। তার বক্তব্য শেষ করার পর এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি শওকত মিল্টন তেড়ে গিয়ে বলেন, কর্মসূচি ঘোষণা করার আপনি কে?
এ সময় মিল্টন ও এটিএন বাংলার অন্য সাংবাদিকদের সাথে জাহাঙ্গীর আলমের হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রেস ক্লাবের ভেতরে যেতে চাইলে জ ই মামুন, শওকত মিল্টন, এস এম বাবু, রাহাত মিনহাজসহ এটিএন বাংলার অন্য সাংবাদিকরা তার ওপর একসাথে হামলা চালায়। এ সময় এটিএন বাংলার সাংবাদিকরা প্রেস ক্লাবের ভিতরে গিয়ে অন্য সাংবাদিকদের সাথে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর চেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
উল্লেখ্য, হত্যাকান্ডের পাঁচ মাসেও তদন্তের কোনো সুরাহা না হওয়ার মধ্যে সম্প্রতি মাহফুজুর রহমান লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি পরকীয়ার বলি। নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মী রুনি এবং তার স্বামী সাগর সম্পর্কে এই মন্তব্যে সাংবাদিক মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। তাকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তোলে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো। সাংবাদিকদের দাবির মুখে এটিএন বাংলা কার্যালয়ে গিয়ে একটি সিডি এবং কিছু ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে র্যাব। গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে নিজের বাসায় খুন হন সাগর ও রুনি। এরপর থেকে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃংখলা বাহিনী।
এদিকে এ হামলার ঘটনায় এটিএন বাংলার জ ই মামুন, ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী, কেরামতুল্লাহ বিপ্লব, শওকত মিল্টন, মানস ঘোষ, নাদিরা কিরণ, এস এম বাবু, মাহমুদুর রহমান, ভোরের কাগজের শামীম আহমেদ এই ৯ সাংবাদিককে জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গতকাল রোববার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-এর নেতাদের যৌথ জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

