|
|
মিয়া হোসেন : প্রস্তাবিত ২০১২-১৩ সালের বাজেটে অনুন্নয়নখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে সুদ পরিশোধে। অনুন্নয়নখাতের সর্বোচ্চ ব্যয় ১৭ দশমিক ২ শতাংশ তথা ২৩ হাজার ৩০২ কোটি টাকা সুদ পরিশোধে ব্যয় করা হবে। আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণে জর্জরিত বাংলাদেশ। আর এ ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে। এ সুদের টাকায় এক বছরে দেশের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যায়। আগামী অর্থবছরে অফিসারদের বেতনে ব্যয় হবে ২ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা, প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের বেতন ১০ হাজার ৪ কোটি এবং ভাতাদি বাবদ ব্যয় হবে ১১ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত ২০১২-১৩ সালের প্রস্তাবিত ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার বাজেটের অনুন্নয়নখাতের মোট ব্যয়ের ১৭ দশমিক ২ শতাংশ টাকা সুদ পরিশোধে ব্যয় করা হবে। আর বিনোদন, সংস্কৃতি ও ধর্ম খাতে রাখা হয়েছে দশমিক ৮ শতাংশ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস এ দশমিক ৩ শতাংশ, গৃহায়ন এ দশমিক ৬ শতাংশ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ, ভর্তুকি ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, কৃষিতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ২ দশমিক ৬ শতাংশ, জন প্রশাসনে ১০ দশমিক ১ শতাংশ, পেনশনে ৩ দশমিক ২ শতাংশ, জনশৃংখলা ও নিরাপত্তায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, প্রতিরক্ষায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বিবিধ্য ব্যয় ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
প্রস্তাবিত ২০১২-১৩ সালের বাজেটে অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনুন্নয়ন খাতের সর্বোচ্চ বরাদ্দ সুদ পরিশোধে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ, আর উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন সবমিলিয়ে গোটা বাজেটের ব্যয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় করা হবে সুদ পরিশোধে। চিত্রে দেখা গেছে, অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন বাজেটের সর্বোচ্চ বরাদ্দ জন প্রশাসনে ১৪ শতাংশ, আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ সুদ পরিশোধে ১২ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের বিবরণী-২(খ)তে দেখানো হয়েছে, আগামী অর্থবছরে অনুন্নয়ণ খাতের সর্বোচ্চ ব্যয় হিসেবে সুদ পরিশোধ করা হবে ২৩ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। তার মধ্যেমেয়াদী ঋণ এর সুদ ৮ হাজার ১০২ কোটি টাকা, চলতি ঋণের সুদ ৪ হাজার ৫১৭ টাকা, জাতীয় সঞ্চয় পত্রের সুদ ৭ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা, ভবিষ্যত তহবিলের ওপর সুদ ১ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা, ডাক জীবন বীমার সুদ ৪ কোটি টাকা ও বৈদেশিক সুদ ১ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
এ বিবরণীতে দেখা যায়, প্রস্তাবিত বাজেটে থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। এ থোক বরাদ্দ গত বছরের দ্বিগুণ। গত ২০১১-১২ অর্থবছরে থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা, পরে সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের ব্যয় বিবরণীতে দেখা গেছে, অন্যান্য ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অফিসারদের বেতন ২ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা, প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের বেতন ১০ হাজার ৪ কোটি টাকা, ভাতাদি ১১ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা, সরবরাহ ও সেবা খাতে ১৫ হাজার ৬৪৩ কোটি, মেরামত ও সংরক্ষণ খায
, ভর্তুকি ১৪ হাজার ৪৪৫ কোটি, সাহায্য মঞ্জুরী ২১ হাজার ৪৫২ কোটি, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের চাঁদা ১১৫ কোটি, ঋণ ও অগ্রিম মওকুফ বাবদ ৪ কোটি, অবসর ভাতা ও আনুতোষিক বাবদ ৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা, রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য ৩৫৮ কোটি, স্থানান্তর, সমন্বয় ও অন্যান্য ৭ কোটি, উন্নয়ন রাজস্ব সাধারণ খাতে ৪৬৩ কোটি টাকা। সর্বমোট ১ লাখ ১৩ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে রাজস্ব ব্যয়।
অপরদিকে মূলধন ব্যয়ে বলা হয়েছে, সম্পদ সংগ্রহে ২০ হাজার ৯শ' কোটি, ভূমি ও অন্যান্য সম্পত্তি সংগ্রহ ১ হাজার ২৭১ কোটি, নির্মাণ ও পূর্ত ১৮ হাজার ৬২৭ কোটি, শেয়ার ও ইক্যুয়িটিতে যি
৫ কোটি, মূলধন মঞ্জুরী ২৩০ কোটি, ঋণ ও অগ্রিম বাবদ ২১ হাজার ৯০১ কোটি, সরকারি কর্মচারীদের জন্য ঋণ ও অগ্রিম ১৬৯ কোটি, উন্নয়ন আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ ১ হাজার ৪৯৩ কোটি, মূলধন থোক ও বিবিধ মূলধন ব্যয় ৬ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা।

