Quantcast
ঢাকা, শনিবার 30 June 2012, ১৬ আষাঢ় ১৪১৯, ৯ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৪০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

আলোচনা সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

জনগণের সামনে মুলো ঝুলিয়ে ভারতের হাতে অর্থনীতি তুলে দিতে মরিয়া

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি কোন পথে?' শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য পেশ করেন প্রফেসর ড. আনু মোহাম্মদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ বলেছেন, সরকারের উপদেষ্টারা দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দেশের জনগণের সামনে মুলো ঝুলিয়ে ভারতের হাতে অর্থনীতি তুলে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দেশের অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব চলছে। এজন্য সরকারের উপদেষ্টারাই দায়ী। সরকারের উপদেষ্টারা বিদেশী মুনাফাখোরদের সুরক্ষা দিচ্ছেন। সাহারা আগ্রাসন তার একটি সিম্বল।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত ‘সাহারার বিনিয়োগ প্রস্তাব, ভারতীয় পুঁজির শৃক্মখল, বাংলাদেশের অর্থনীতি কোন পথে' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবুল হাসান রুবেল। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু প্রমুখ।

অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী। তিনি যেনো শপথ নিয়েছেন দেশের তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দেবেন। অন্য উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ও গওহর রিজভীর একই অবস্থা। দেশের জনগণের সামনে মুলো ঝুলিয়ে ভারতের হাতে অর্থনীতি তুলে দিতে চান। ভারতের মুলো হলো এক বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও বিদ্যুৎ রফতানি। কিন্তু বছরের পর বছর এর কোনো অগ্রগতি নেই। কিন্তু মুলো দেখিয়ে তারা এই দেশের সব ব্যবসা কব্জা করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশীয় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দেশের আবাসন, পোল্ট্রি, টেলিযোগাযোগ, গার্মেন্টসহ অন্যান্য খাতে ভারতীয় বিনিয়োগে সরকার উৎসাহ দিচ্ছে এবং দেশীয় উদ্যোক্তাসহ এর সাথে জড়িত দেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এর বিনিময়ে মেরুদন্ডহীন রাজনীতিবিদদের পরিবারের সদস্যরা সাময়িক লাভবান হচ্ছেন কিন্তু দেশের অর্থনীতি এক বায়বীয় ভিত্তির দিকে যাচ্ছে। এই একই কারণে আমেরিকা, ইউরোপের অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে উত্তরবঙ্গে একটি বিশাল পোল্ট্রি শিল্প ভারতীয় মালিকানায় চলে গেছে। এতে খাবার আনা হচ্ছে ভারত থেকে ফলে ভুট্টা চাষীরা বিপাকে পড়েছে। এয়ারটেলের মালিকানায় বিশাল দুর্নীতি হয়েছে। ৫০টি গার্মেন্টস শিল্প ভারতীয় ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়েছে। আরো ১০০টি কেনার আলোচনা চলছে। বাংলালিংকের সব টাওয়ার কেনার প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের কোম্পানি। কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশী রাজনীতিবিদরা বিদেশী বিনিয়োগকারী এনে তারা জুনিয়র কর্মকর্তা হওয়ায় বেশি আগ্রহী। দেশীয় ব্যবসায়ীরা ও সাবকন্ট্রাক্ট নিতে ব্যস্ত। তিনি বলেন, ভারত থেকে আনা বেশির ভাগ পণ্যই অপ্রয়োজনীয়। ভারতের মতো বিশাল অর্থনীতির দেশের সাথে আমাদের বাণিজ্য বৈষম্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অপ্রোয়জনীয় পণ্য আমদানি বাদ দিলে এটা সহনীয় পর্যায়ে আনা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, ভারত সবচেয়ে বড় আগ্রাসী পুঁজি, সবচেয়ে গরিব মানুষের দেশ, উগ্র সাম্প্রদায়িক দেশ ও নাগরিক অত্যাচারের জাতি। সাহারা একটি সিম্বল মাত্র। এদের বিনিয়োগ দেশে ভারতীয় পুঁজির আগ্রাসনের একটি উদাহরণ মাত্র।

অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ভারতে যে টিভি বিল যায় তা দিয়ে বছরে একটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব।

অধ্যাপিকা মোশাহিদা সুলতানা বলেন, সাহারা গ্রুপের উপ-শহর তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে জনমত যাচাই করতে হবে।