Quantcast
ঢাকা, শনিবার 30 June 2012, ১৬ আষাঢ় ১৪১৯, ৯ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৬৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

ফ্রি থিংকারস ফোরামের গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

ভারতের সাহারা কোম্পানিকে জমি দেয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে পলাশী ট্রাজেডির পরিণতি হবে

স্টাফ রিপোর্টার : ফ্রি থিংকারস ফোরাম আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ভারতের সাহারা কোম্পানিকে এক লাখ একর জমি দেয়ার চুক্তি অসাংবিধানিক। তাদেরকে জমি দেয়া জাতির সাথে শত্রুতার শামিল। এর বিরুদ্ধে জনগণকে এখনই সোচ্চার হতে হবে। না হলে পলাশী ট্রাজেডির মতো করুণ পরিণতি হবে দেশের।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘‘আবাসন সেক্টরে সাহারা : কার স্বার্থে ?’’ শীর্ষক এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ। এতে সাবেক সচিব আসাফ উদ দৌলাহর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, ইনিস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্ট্রাটেজিকের (আইডিএস) চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, নিউ নেশনের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, সাবেক সচিব ব্যারিস্টার হায়দার আলী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মোবিন, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ, কৃষক নেতা শাজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।

এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের প্রযুক্তি যেক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি করেছে, সেক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগের কোনো প্রয়োজন নেই। যেক্ষেত্রে উন্নত নয়, সেক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগ বিবেচনা করা যেতে পারে। এজন্য সাহারা গ্রুপের এ দেশে বিনিয়োগে আনার পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। অথবা নির্বুদ্ধিতার কারণে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। তিনি বলেন, দেশের ক্ষতি করার অধিকার কারো নেই। জনগণকে এর বিরুদ্ধে সচেতন করতে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ভারত ইতোমধ্যেই তিতাস নদীতে বাঁধ দিয়ে আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে। তিস্তা নদীতে অনেকগুলো বাঁধ দেয়া হয়েছে। একইভাবে সাহারাকে আমাদের দেশের লোকদের উৎখাত করে জমি দেয়ার পাঁয়তারা চলছে। এর বিরুদ্ধে জনগণকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করতে হবে।

আসাফ উদ দৌলাহ বলেন,  বাংলাদেশের সংবিধানে তিন শ্রেণীর ব্যক্তি জমির মালিক হতে পারে। এক. সরকার, দুই. কোন নিবন্ধিত কো-অপারেটিভ সংস্থা এবং তিন. নাগরিক। সাহারা গ্রুপ এ তিনটির মধ্যে পড়ে না। এজন্য তাদের সাথে এক লাখ একর জমি দেয়ার চুক্তি অসাংবিধানিক। তিনি বলেন, যে সেক্টর আগে থেকেই উন্নত সে সেক্টর অন্য দেশের হাতে তুলে দেয়ায় কোন ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। বিদেশী কোম্পানিকে বিনামূল্যে জমি দেয়া হলেও দেশি কোম্পানিকে তা দেয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে হবে। তিনি শুধুমাত্র সাহারাকে জমি দেয়ার সমালোচনা করে বলেন, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক টেন্ডার নয় কেন? টেন্ডারের মাধ্যমে অন্য কোনো দেশের কোম্পানিও আসতে পারতো। কিন্তু একক টেন্ডার বেআইনি। তিনি বলেন, এটা কোনো সাধারণ ইস্যু নয়। বিরাট ব্যাপার। এজন্য দেশপ্রেম থাকলে সরকারকে আগে জনগণকে এ বিষয় জানাতে হবে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উন্নত দেশ বিশেষ করে জাপান তার দেশে বিদেশী বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে। ভারত তাদের দেশে অন্য দেশকে জমি কিনতে দেয় না। তাহলে আমরা কেন দেব? তিনি বলেন, নিজদের ভালো নিজরা বুঝতে না পারলে ক্ষতি হবে। দেরিতে বুঝলে পরিস্থিতি খারাপ হবে।

আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, সরকারের উচিত এখনই সাহারার সাথে চুক্তি বাতিল করা। না হলে মীর জাফররা যেভাবে করুণ পরিণতি বরণ করেছে বর্তমান বিশ্বাসঘাতকদের পরিণতিও তেমন হবে।

হায়দার আলী বলেন, খাল কেটে কুমির আনা হয়েছে। এখন তারা কখন আমাদের খেতে তেড়ে আসবে সে আশংকায় রয়েছে দেশবাসী।

ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল বলেন, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুনের সাথে ২০১২ এর ৫ মে'র মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ২৩ জুন যেভাবে মীর জাফররা বিশ্বাস ঘাতকতা করে এদেশেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে দেশ তুলে দিয়েছিলো ঠিক একইভাবে এদেশে আবার তুলে দেয়ার পাঁয়তারা চলছে। এর বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে আবার জেগে উঠতে হবে। না হলে পলাশী ট্রাজেডির মতো করুণ পরিণতি হবে দেশের।