|
|
অজু করতে গিয়ে মেঝেতে পড়ে যান মাওলানা সাঈদী
স্টাফ রিপোর্টার : অফিস ছুটি থাকার অজুহাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর আদেশ কার্যকর করেনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। গুরুতর অসুস্থ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাথে একজন সহকারী রাখার বিষয়ে গত বুধবার আদেশ দিলেও গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেনি তারা। কোন সাহায্যকারী না থাকায় একা একা অজু করতে যাওয়ার সময় গতকাল দুপুরে মেঝেতে পড়ে যান মাওলানা সাঈদী। এ কারণে বেড়ে যায় তার বুকের ব্যথা।
হার্টে রিং পরানোর পর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেমে দ্বীন ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এখন বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে একা একা চলাফেরা করতে সমস্যা হওয়ায় সার্বক্ষণিক সহকারী থাকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মাওলানা সাঈদীর পক্ষে আবেদন করা হয়। বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত বুধবার সার্বক্ষণিক দেখাশুনা করার জন্য হাসপাতালে একজন সহকারী (এ্যাটেনডেন্ট) রাখার জন্য জেল কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দেন। মাওলানা সাঈদীর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী আবুল কালাম আজাদকে হাসপাতালে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। একই সাথে মাওলানা সাঈদীর ছোট ছেলে নাসিম সাঈদীর নাম দেয়া হয়েছে। দু'জনের মধ্যে যেকোনো একজন থাকবেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিমত মোতাবেক যতদিন প্রয়োজন ততদিন এই এ্যাটেনডেন্ট থাকবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। আদেশের পরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, শর্তের কিছু পরিবর্তন হতে পারে। এরূপ একটি ইতিবাচক আদেশ যাতে কোনো বিধি-নিষেধের ফাঁদে আটকে না যায় সে বিষয়টি উল্লেখ করা হবে।
মাওলানা সাঈদীর তৃতীয় ছেলে মাসুদ সাঈদী জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ কার্যকর করেনি জেল কর্তৃপক্ষ। তারা পরিবারের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মাসুদ আহসান দৈনিক সংগ্রামকে জানান, বৃহস্পতিবার আদেশের কপি আমাদের হাতে আসে। শুক্রবার সরকারি ছুটি হওয়ায় তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। শনিবারও সরকারি ছুটি। রোববারের আগে আদেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে একজন সহকারী রাখার ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের আদেশের কপি গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আসে। জেল সুপার তা গ্রহণ করেন। আদেশের একটি কপি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছেও আসে।
মাসুদ সাঈদী বলেন, ট্রাইব্যুনালের আদেশের ব্যাপারে উদাসিনতার কারণেই কারা কর্তৃপক্ষ তা কার্যকর করেনি। অফিস ছুটির কথা বলা একটা অজুহাত মাত্র। কেননা ছুটির দিনেওতো জামিন পাওয়াসহ কারাগারের সকল কার্যক্রমই চলে। শুধু এই আদেশ বাস্তবায়নে ছুটি সমস্যা হলো?
এদিকে কোনো সাহায্যকারী না থাকায় লাঠিতে ভর দিয়ে গতকাল দুপুরে নামায পড়ার জন্য অজু করতে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে বুকে ব্যথা অনুভব করেন মাওলানা সাঈদী। দ্রুত তার ইসিজি করানো হয়। এতে তার ‘রিদমে ব্রেক আপ' ধরা পড়ে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এই প্রেক্ষিতে তার আরেকটি টেস্ট করানো হয়। যার নাম ট্রোপোনিন-আই। মাওলানা সাঈদীর সুগার লেভেল এখনও অনেক বেশি। প্রোস্টেট গ্রান্ডের সমস্যা এখনো রয়েছে। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী গত ১৪ জুন জেষ্ঠ পুত্র মাওলানা রাফীক বিন সাঈদীর জানাযায় অংশগ্রহণ শেষে কারাগারে ফিরে যাবার পথেই বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং কারাগারে পৌঁছার পর কারা চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকগণ মাওলানা সাঈদীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার একটি ‘মাইল্ড হার্ট এ্যাটাক' হয়েছে মর্মে জানতে পারেন। পরে এনজিওগ্রাম করার পর তার হার্টে ৪টি ব্লক ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ২টি ৭০ শতাংশ ও বাকি ২টি ৯৫ শতাংশ ব্লক হয়েছে। পরে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে মাওলানা সাঈদীর হার্টে ৩টি রিং পরান। আরেকটি ব্লকে ‘বেলুনিং' করা হয়। গত ২৩ জুন তাকে বারডেম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

