Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 July 2012, ২১ আষাঢ় ১৪১৯, ১৪ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২৭১৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলায় ১ নং সাক্ষীর জেলা অব্যাহত

শান্তি কমিটির কোন সদস্য হত্যা ধর্ষণ লুণ্ঠন অগ্নিসংযোগের নির্দেশ দিয়েছেন কিনা তা বলতে পারেন না ড. মামুন

শহীদুল ইসলাম : ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরদ্ধে সরকার পক্ষের ১ নং সাক্ষী ইতিহাসবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুনের জেরা গতকাল বুধবার তৃতীয় দিনের মত শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তার জেরা অব্যাহত থাকবে। গতকালের জেরায় এডভোকেট মিজানুল ইসলাম তাকে যেসব প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন তার মধ্যে শান্তি কমিটি কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ বিষয়টি প্রাধান্য পায়। কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম- এমন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে ফর্মাল চার্জে। এ বিষয়ে মুনতাসির মামুনের কাছে নানাভাবে প্রশ্ন করা হলে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের কোন নির্দেশ কোন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা এলাকাতে শান্তি কমিটির কোন সদস্য দিয়েছিল কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। মুক্তিযুদ্ধের এই গবেষক অধিকাংশ প্রশ্নের জবাবে বলেন, কাগজপত্র না দেখে বলতে পারব না। খাজা খয়ের উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সমস্ত সদস্যই বেসরমারিক ব্যক্তি ছিলেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ঢাকায় ধানন্ডি ও মিরপুরে চাচার বাসায়, সোবহানবাগে কয়েক দিনের জন্য চাচার আত্মীয়ের বাসায় এবং বাকি দিনগুলোতে চট্টগ্রামে তার পিতার সরকারি কোয়ার্টারে থাকতেন। কখনো বাসা থেকে বের হতেন না বলে জানান। তার পিতা চট্টগ্রাম বন্দরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দায়িত্ব পালন করেছেন যে বন্দর পরিচালিত হতো তৎকালীন পাকিস্তানী দখলদার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

ওদিকে অধ্যাপক গোলাম আযমের এই মামলার গতকালের জেরা চলাকালে কয়েক দফা উত্তপ্ত বিতর্ক হয়। জেরাতে সময় বেশি লাগছে এবং ট্রাইব্যুনাল ধীর গতিতে আগাচ্ছে মর্মে বাইরে ম্যাসেস চাচ্ছে। এছাড়াও সাক্ষী দিতে আসলে সময় নষ্ট হবে এবং অপদস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে এমন বার্তাও বাইরে যাচ্ছে। এরূপ বিষয়ে প্রসিকিউশনের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আমাদের কাছেও মনে হচ্ছে আমরা স্লো যাচ্ছি। এ ধরনের ম্যাসেস আমরা বাইরে দিতে চাই না। আমরা সময়টা জেরার ক্ষেত্রে লিমিট করে দিতে চাই। তবে অর্ডার দিচ্ছি না। অনুরোধ করছি দ্রুত জেরা শেষ করুন। সামনে আরও দেখবো। যতটুকু জবানবন্দী তার দ্বিগুণ সময় জেরাতে বরাদ্দ হতে পারে। এমনটি চিন্তার মধ্যে আছে। এখনো আমরা এ বিষয়ে কোন আদেশ দিচ্ছি না। ট্রাইব্যুনালের এই অভিপ্রায়ের বিরোধিতা করেন অধ্যাপক গোলাম আযমের আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, এক বাক্যের জবানবন্দীর সত্যতা যাচাই দুই বাক্যের জেরায় সম্ভব নয়। আপনারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে জেরার সময় যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু করার অধিকার আসামীর আইনজীবীর রয়েছে। দ্রুত করতে গিয়ে আগামী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এটা ঠিক হবে না। তাহলে ম্যাসেসটা বাইরে আরও খারাপ যাবে এবং খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। আমি কথা দিতে পারি এটুকু যে বিষয়ের সাথে সম্পর্কহীন একটি প্রশ্নও করব না। সবার উপরে ন্যায়বিচার। এ বিষয়ে আরও আলোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া ঠিক হবে না।

অধ্যাপক গোলাম আযমকে গতকালও সকালে এ্যাম্বুলেন্সে করে এনে হুইল চেয়ারে বসিয়ে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উঠানো হয়। গতকাল তিনি বেলা ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ছিলেন। আর বসে থাকতে না পারায় তাকে পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেলে পাঠানো হয়।

অধ্যাপক মুনতাসির মামুনের জেরায় সহযোগিতা ও বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন এডভোকেট নজরুল ইসলাম, এডভোকেট তাজুল ইসলাম, এডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী, শিশির মনির প্রমুখ। অন্যদিকে সরকার পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ প্রমুখ।

গতকাল বুধবার অধ্যাপক মুনতাসির মামুন জেরাকালে বার বার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বার বারই তিনি উল্লেখ করেন যে আমি আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসেছি। কোন সিম্পল ক্রিমিনাল কোর্টে আসি নাই।  গতকালের জেরার বিবরণ নিম্নরূপ : প্রশ্ন : শান্তি কমিটির পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা দেয়া এবং শান্তি কমিটির কোন সদস্যের নির্দেশনা দেয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে কি না?

উত্তর : কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পাঠানো হলে তা অফিশিয়াল, কেন্দ্রীয় কমিটির কোন সদস্যের নির্দেশনার মধ্যে সামঞ্জস্য আছে, পার্থক্যটি কম। কোন ব্যক্তি যদি লেখেন শান্তি কমিটি বিষয়ে অধঃস্তন কাউকে লেখেন সেটার মধ্যে পার্থক্য কম। একান্ত ব্যক্তিগত কিছু লিখলে সেটা ভিন্ন।

প্রশ্ন : কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি থেকে সার্কুলার দেয়া আর কমিটির কোন ব্যক্তির যোগাযোগ করা কি এক?

উত্তর : আগের উত্তরের মধ্যেই এই প্রশ্নের উত্তর আছে।

প্রশ্ন : কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমা শান্তি কমিটিকে সুনির্দিষ্টভাবে কোন লিখিত নির্দেশনা দিয়েছিল মর্মে কোন তথ্য আছে কি না?

উত্তর : এরূপ সুনির্দিষ্ট কোন ডকুমেন্ট নেই বিধায় আমি স্মরণ করতে পারছি না।

প্রশ্ন : অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শান্তি কমিটির কাছে কোন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল কি না?

উত্তর : কাগজপত্র না দেখে বলা যাবে না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আপনি ধানমন্ডি থাকতেন তখন ধানমন্ডি নামে কোন থানা ছিল কি না?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : তখন ধানমন্ডি থানা শান্তি কমিটির সদস্য কে ছিলেন?

উত্তর : কাগজপত্র না দেখে বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : আপনার বাড়ির নিকটবর্তী শান্তি কমিটির সদস্য কে ছিলেন?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : তখন ধানমন্ডি এলাকা পাকিস্তান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল?

উত্তর : ধানমন্ডিসহ পুরো ঢাকাই তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

প্রশ্ন : প্রশাসনও পাকিস্তানের সরকার নিয়ন্ত্রণ করতো?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাধারণ প্রবণতা ছিল কাউকে দেখলেই বলতো ডান্ডি কার্ড দেখাও?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনিও ১৯৭১ সালে ধানমন্ডি থাকাকালে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ডান্ডি কার্ড সংগ্রহ করেছিলেন?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনি টেকনিশিয়ানের একটি ডান্ডি কার্ড সংগ্রহ করেছিলেন কিন্তু তা আদালতে গোপন করলেন?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : ধানমন্ডির কোন এলাকায় থাকতেন?

উত্তর : তৎকালীন ১৮ নং রোডে থাকতাম।

প্রশ্ন : মিরপুরে যে চাচার সাথে থাকতেন তার সাথেই ধানমন্ডিতে থাকতেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ঐ চাচা বেচে আছেন?

উত্তর : জি, আছেন।

প্রশ্ন : আপনার ঐ চাচার নাম বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনার সমবয়সী কোন পুত্র সন্তান আপনার ঐ চাচার ছিল কি না?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : আপনি যে এলাকায় ধানমন্ডিতে থাকতেন সেই বাসা থেকে নিকটবর্তী রাজাকার ক্যাম্পের দূরত্ব কত হবে?

উত্তর : আমার মনে নেই।

প্রশ্ন : ধানমন্ডি এলাকায় রাজাকার কমান্ডারের নাম কি?

উত্তর : আমি জানি না।

প্রশ্ন : ঐ এলাকায় আল বদরের অফিস কোথায় ছিল? কমান্ডারের নাম কি?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : যতদিন ধানমন্ডি থাকতেন ঐ এলাকায় অবাধে যাতায়াত করতেন?

উত্তর : খুব প্রয়োজন না হলে বের হতাম না।

প্রশ্ন : আপনি যে এলাকায় থাকতেন সেখানে কি শুধু বাঙ্গালি না অবাঙ্গালিও থাকতো?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : ঐ সময় শাহরিয়ার কবিরের সাথে আপনার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল?

উত্তর : নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তার সাথে ১ বার বা ২ বার যোগাযোগ হয়েছিল।

প্রশ্ন : পরিবারের লোক ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির সাথে আপনার যোগাযোগ হতো কি না?

উত্তর : এরূপ সুনির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির নাম বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : আপনার চাচা নিয়মিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতেন?

উত্তর : ঐ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংযুক্ত ছিলেন না বলেই মনে হয়।

প্রশ্ন : ঐ সময় উনার পেশা কি ছিল?

উত্তর : সম্ভবত একটি বেসরকারি ফার্মে কাজ করতেন। তার নাম বলতে পারি না।

প্রশ্ন : বাসা থেকে ঐ ফার্মের দূরত্ব কত ছিল?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : বাড়ির বাজার কে করতেন?

উত্তর : স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : আপনার চাচা কি মাধ্যমে অফিসে যেতেন?

উত্তর : বলতে পারবো না। তিনি হেটেই বাসা থেকে বের হতেন।

প্রশ্ন : ঐ এলাকায় কোন স্থানীয় ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ ছিল? ২/১ জনের নাম বলতে পারেন?

উত্তর : ২/১ জনের সাথে পরিচয় ছিল। যেমন বেবী মওদূদ, বিচারপতি মওদূদের মেয়ে।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ধানমন্ডি এলাকায় আপনি কোন হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন হতে দেখেছেন?

উত্তর : দেখা সম্ভব নয়, কারণ আমি প্রায় সময়ই বাসায় থাকতাম।

প্রশ্ন : এরূপ কোন খবরও আপনার গোচরে আসেনি?

উত্তর : সঠিক নয়। কারণ পত্র-পত্রিকা, রেডিও, ব্যক্তির মাধ্যমে বা অতিথি আসলে তাদের মাধ্যমে কিছু খবর পেতাম।

প্রশ্ন : আপনি যখন ধানমন্ডি থাকতেন তখন নিহত কোন ব্যক্তির নাম বলুন?

উত্তর : স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : কোন নির্যাতিত মহিলার নাম বলতে পারবেন?

উত্তর :  বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : ধানমন্ডি এলাকার যেসব বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এরূপ কোন বাড়ির কথা বলতে পারবেন?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : ঐ এলাকায় আদৌ কোন হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে কি না?

উত্তর : সুনির্দিষ্টভাবে কোন এলাকার  কথা বলতে পারবো না। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি এই জবাব দেন।

প্রশ্ন : ২৯ মার্চ মিরপুর থেকে এসে আপনি প্রথম কোথায় যান?

উত্তর : সোবহানবাগ।

প্রশ্ন : সেখানে কতদিন কার কাছে ছিলেন?

উত্তর : চাচার আত্মীয়ের বাসা ছিল সেটা। কতদিন ছিলাম তা মনে নেই।

প্রশ্ন : কোন মাস পর্যন্ত ধানমন্ডিতে চাচার বাসায় ছিলেন?

উত্তর : সম্ভবত অক্টোবর পর্যন্ত।

প্রশ্ন : অক্টোবরের পরে আপনি কোথায় যান?

উত্তর : চট্টগ্রামে চলে যাই আমার বাবার সরকারি কোয়ার্টারে।

প্রশ্ন : ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় অর্জন পর্যন্ত ঐ বাসাতেই ছিলেন?

উত্তর : চট্টগ্রাম ছিলাম। বাসা একবার বদল হয়েছিল।

প্রশ্ন : আপনার পিতা কি করতেন?

উত্তর : চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি করতেন।

প্রশ্ন : বন্দরের কোন বিভাগে চাকরি করতেন?

উত্তর : প্রশাসন বিভাগে।

প্রশ্ন : প্রশাসনের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল পাকিস্তান আর্মির হাতে?

উত্তর : আমার জানা নেই। সামগ্রীকভাবে সব কিছুই তো পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

প্রশ্ন : আপনি চট্টগ্রামে যে এলাকায় থাকতেন ঐ এলাকার পিস কমিটির চেয়ারম্যান, রাজাকার, আলবদর, আল শামস ও আল মুজাহিদের কমিটি প্রধান কে ছিলেন?

উত্তর : ডকুমেন্ট ছাড়া বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : পাকিস্তান বাহিনীর রেজিমেন্ট চট্টগ্রামের কোথায় ছিল?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : চট্টগ্রামে যতদিন ছিলেন পাকিস্তান আর্মি বা তাদের সহযোগিতায় কখনো তল্লাশি করেছিল?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : ধানমন্ডিতে যখন ছিলেন তখন তল্লাশি হয়েছিল?

উত্তর : একদিন হয়েছিল। সেনাবাহিনী তল্লাশি করেছিল।

প্রশ্ন : সেনাবাহিনীর সাথে অন্য কেউ তল্লাশিকালে ছিল কি না?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : মিরপুরে যতদিন ছিলেন তখন অবঙ্গালীরা আপনাদের বাসায় লুটপাট করেছিল কি না?

উত্তর : জি, করেছিল।

প্রশ্ন : যারা লুটপাট করেছিল তাদের সনাক্ত করতে পেরেছিলেন?

উত্তর : তারা ছিল অবাঙ্গালি। নামে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

প্রশ্ন : যে বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তার মালিকের নাম কি?

উত্তর : মনে নেই।

প্রশ্ন : ঐ আশ্রয়দানকারী বাড়ির লোকজন কি আপনার পূর্ব পরিচিত ছিল?

উত্তর : রাস্তার বিপরীত দিকে হাওয়ায় মুখ চেনা ছিল।

প্রশ্ন : ঐ বাড়ির সদস্য সংখ্যা কত ছিল?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : ঐ বাড়িতে কোন মহিলা ছিল?

উত্তর : স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : যে বাড়িতে ছিলেন ঐ বাড়ির লোকদের পরে আর কোন খবর নেননি?

উত্তর : পরবর্তী ১০ বছর ঐ এলাকায় যাইনি।

প্রশ্ন : সোবহানবাগের ঐ বাড়িটি কি ধরনের কার বাড়ি?

উত্তর : সরকারি কোয়ার্টার, আমার চাচার এক আত্মীয়ের নামে বরাদ্দ। তার নাম মনে নেই।

প্রশ্ন : তিনি কোথায় চাকরি করতেন?

উত্তর : সরকারি চাকরি করতেন। কোথায় জানি না।

প্রশ্ন : ঐ ভদ্র লোকের সাথে পরবর্তীকালে আর দেখা সাক্ষাৎ হয়নি?

উত্তর : হয়েছিল। যেহেতু চাচার আত্মীয় ছিল।

প্রশ্ন : সোবহানবাগ এলাকায় তৎকালে পিস কমিটির চেয়ারম্যান, আলবদর, আল শামস, আল মুজাহিদ নেতা বা কমান্ডার কে ছিলেন?

উত্তর : মনে নেই।

প্রশ্ন : অক্টোবরের আগে কি কখনো চট্টগ্রামে যাতায়াত করতেন?

উত্তর : যাতায়াত সম্ভব ছিল না তখন।

প্রশ্ন : আপনার লিখিত শান্তি কমিটি একাত্তর বইয়ে পিরোজপুর জেলা শান্তি কমিটির সদস্যদের তালিকা আছে?

উত্তর : উল্লেখ করে থাকলে সেটা তথ্যভিত্তিক। এর বাইরে আমার কোন বক্তব্য নেই।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের পিরোজপুর কোনো জেলা ছিল না। বাকেরগঞ্জ জিলার একটি মহকুমা ছিল?

উত্তর : হতে পারে।

প্রশ্ন : উল্লেখিত বইয়ের ২৩৫ পৃষ্ঠায় পিরোজপুর মহকুমার পৃথক বর্ণনা দিয়েছেন?

উত্তর : জানা নেই।

প্রশ্ন : আপনার লিখিত ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘শান্তি কমিটি একাত্তর' বইটির কোনো তথ্যভিত্তিক নয়, কোনো গবেষণার ফল নয়, অসত্য বর্ণনায় মনগড়া মতে বইটি লিখেছেন?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : ‘শান্তি কমিটি একাত্তর' বইটি আপনার লিখিত একটি বই। এটা কোনো গবেষণা সংকলন নয়?

উত্তর : ইহা সত্য নয়।

প্রশ্ন : এই বইয়ে আপনি কোনো তথ্যসূত্র উল্লেখ করেননি?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : উক্ত বইয়ে উল্লেখিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শান্তি কমিটির ব্যাপারে যে তথ্য পরিবেশিত হয়েছে তা কে আপনাকে দিয়েছে?

উত্তর : কোনো তথ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যাপারে থাকলে এর বাইরে আমার কোনো বক্তব্য নেই।

প্রশ্ন : পিরোজপুর জেলা ও মহকুমা পিস কমিটির সদস্যদের তালিকা আপনাকে কে সরবরাহ করেছে?

উত্তর : আমি এরূপ কিছু লিখে থাকলে তা তথ্যভিত্তিক লিখেছি।

প্রশ্ন : অন্যান্য জেলা ও মহকুমা পিস কমিটির সদস্যদের তালিকা আপনাকে কে বা কারা সরবরাহ করেছে?

উত্তর : শান্তি কমিটি ১৯৭১ বইয়ে আমি যদি জেলা ও মহকুমা পিস কমিটির সদস্যদের তালিকা দিয়ে থাকি তাহলে তা তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে, এই বইয়ের বাইরে আমার কোনো বক্তব্য নেই।

প্রশ্ন : পূর্বের উত্তরে ‘যদি' শব্দের অর্থ কি এটাই যে, ঐ বইয়ে শান্তি কমিটির তালিকা নেই?

উত্তর : আমি আগেও উল্লেখ করেছি এখনো বলছি, যে বইটির কথা বলা হয়েছে তা একটি গবেষণামূলক বই। সেখানে যা উল্লেখিত হয়েছে তা সঠিক তথ্য। গবেষক হিসেবে যখন পূর্ণাঙ্গ লেখা হয় তারপর এভাবে পুংখানুপুংখ বিবরণ একজন মানুষ হিসেবে মনে রাখা সম্ভব নয়। এ জন্যই আমি ‘যদি' শব্দটি উল্লেখ করেছি।

প্রশ্ন : শান্তি কমিটি কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থা ছিল কিনা?

উত্তর : শান্তি কমিটি তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই গঠন করা হয়েছিল। আইন করে না, না করে গঠন করা হয়েছিল আমার মনে হয় অপ্রাসঙ্গিক।

প্রশ্ন : শান্তি কমিটির কেন্দ্রীয় অফিসের জন্য কোনো সরকারি আবাসন দেয়া হয়েছিল কিনা?

উত্তর : আমার জানা নেই।

প্রশ্ন : শান্তি কমিটির সার্কুলার, নির্দেশনা, সংবাদ বিভিন্নস্থানে পৌঁছে দেয়ার জন কোনো সরকারি ব্যবস্থা ছিল কিনা?

উত্তর : সেটা তৎকালীন সময়ে শান্তি কমিটিতে যারা ছিলেন তারাই বলতে পারবেন। শান্তি কমিটি সংক্রান্ত আমার সমস্ত বক্তব্যই তথ্যভিত্তিক। এর বাইরে কিছু নেই।

প্রশ্ন : কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সদস্যদের সরকারি ভাতা দেয়া হতো কিনা?

উত্তর : শান্তি কমিটির সাথে যারা জড়িত ছিলেন তারা সরকারের কাছে আবেদন করলে সহযোগিতা পেতেন।

প্রশ্ন : শান্তি কমিটির কোনো সদস্য এককভাবে নির্দেশ দিয়ে সাময়িক বাহিনীর কোনো ইউনিট বা কোনো সদস্যকে কোনো অপারেশনে পাঠাতে পারতো কিনা?

উত্তর : শান্তি কমিটির সদস্যরা সব পর্যায়েই কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়ার জন্য পরামর্শ দিতে পারতো এবং তাতে অংশগ্রহণ করতে পারতো।

প্রশ্ন : সামরিক বাহিনীর কোন ইউনিট অপারেশনে যাওয়ার পর ঐ ইউনিট সম্মিলিতভাবে বা ঐ ইউনিটের কোনো সদস্য এককভাবে কোনো বিশৃক্মখল কাজের সাথে জড়িত হলে তাদেরকে শাস্তি দানের ক্ষমতা শান্তি কমিটির সদস্যদের ছিল কিনা?

উত্তর : কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কোনো ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার থাকে না।

প্রশ্ন : সামরিক বাহিনীর কোন ইউনিট বা সদস্যকে শান্তি কমিটির কোন সদস্য অপারেশনে যেতে বাধ্য করতে পারতো কিনা?

উত্তর : শান্তি বাহিনীর সদস্যরা সামরিক বাহিনীর ইউনিট বা ব্যক্তিকে বাধ্য করা, পরামর্শ, প্ররোচণা, প্রণোদনা দিতে পারতো।

প্রশ্ন : পরামর্শ, প্ররোচণা, প্রণোদনা ও বাধ্য করা ৪টি পৃথক ও ভিন্নার্থক শব্দ?

উত্তর : হতে পারে।

প্রশ্ন : কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির কোনো সদস্য কোনো সুনির্দিষ্ট অপারেশন পরিচালনার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিল এই মর্মে আপনার কাছে কোনো তথ্য আছে কিনা?

উত্তর : এই মুহূর্তে আমার কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। কেননা তারা নিজের ইচ্ছায় অনেক কাজ করেছে।

প্রশ্ন : শান্তি কমিটির কোনো সদস্য সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তিকে হত্যা, কোনো এলাকায় গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের পরামর্শ/নির্দেশ দিয়েছেন- এই মর্মে সুনির্দিষ্ট তথ্য আপনার কাছে আছে?

উত্তর : কাগজপত্র না দেখে বলতে পারব না। যতদূর মনে হচ্ছে পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রশ্ন : শান্তি কমিটির কোনো সদস্য কোনো এলাকার কোনো ব্যক্তিকে বা কোনো এলাকার সাধারণভাবে সকল ব্যক্তিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা- এই মর্মে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আপনার কাছে আছে কিনা?

উত্তর : এরূপ তথ্য আমরা দেখেছি, তবে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে কাগজপত্র দেখতে হবে।

প্রশ্ন : কোনো এলাকার কোনো ব্যক্তি বা সাধারণভাবে সকল ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করলে তাদের বাড়ি বা এলাকা থেকে উৎখাতে বা দেশান্তরে বাধ্য করার জন্য কোনো নির্দেশনা কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি বা কোনো সদস্যের বক্তব্যে কোনো আদেশ জারি করা হয়েছিল কিনা?

উত্তর : এরূপ তথ্য আমরা পেয়েছি, তবে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে কাগজপত্র দেখে বলতে হবে।

প্রশ্ন : কোনো এলাকার কোনো ব্যক্তি বা কোনো এলাকার সাধারণভাবে সকল ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করলে তাদেরকে হত্যা করা বা তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেয়ার কোনো নির্দেশনা কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি বা কেন্দ্রীয় শান্তি বা কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির কোনো সদস্যের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জারি করা হয়েছিল কিনা, হলে কত তারিখে হয়েছিল?

উত্তর : এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব না, তবে বিভিন্ন তথ্যে উল্লেখিত ঘটনাবলী ঘটেছিল বলে উল্লেখ আছে বলে আমার মনে হয়। তবে লিখিত নির্দেশনা এবং তারিখ কাগজপত্র না দেখে বলতে পারব না।

প্রশ্ন : কোনো ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তর করা সংঘটিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি বা কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির কোনো সদস্য ধর্ষণকারী, অগ্নিসংযোগকারী বা ধর্মান্তরকরণ সংঘটনকারীর প্রশংসা করে কোনো বিবৃতি প্রদান করেছিল কিনা এবং করলে তা কত তারিখে?

উত্তর : নিজেরা যা করেছে তার প্রশংসা করার আর কি আছে? তবে আমার যতদূর মনে পড়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষভাবে এ ধরনের কাজে উৎসাহিত করার ইঙ্গিত আছে।

প্রশ্ন : শান্তি কমিটির কোনো সদস্য বা কাউকে ধর্ষণ করেছেন- মর্মে কোনো খবর ১৯৭১ সালের পরবর্তীকালে কোনো পত্র-পত্রিকায় বা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল কিনা?

উত্তর : কাগজপত্র না দেখে বলতে পারব না।

প্রশ্ন : শান্তি কমিটি বা কমিটির কোনো সদস্য ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঐ ব্যক্তিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করেছিলেন- মর্মে কোনো সংবাদ তৎকালীন সময়ে কোনো সংবাদমাধ্যম বা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে কিনা? হলে কত তারিখে?

উত্তর : কাগজপত্র না দেখে বলা যাবে না।

প্রশ্ন : কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি বা কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো সদস্য মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কোনো বিশেষ ব্যক্তির বাড়ি বা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় অগ্নিসংযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা?

উত্তর : সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সদস্য কোনো বিশেষ ব্যক্তির বাড়ি বা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় অগ্নিসংযোগের নির্দেশ দিয়েছেন কিনা- সেটা কাগজপত্র না দেখে বলতে পারব না।

প্রশ্ন : শান্তি কমিটির সকল সদস্য বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন?

উত্তর : জি।