Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 July 2012, ২১ আষাঢ় ১৪১৯, ১৪ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৪৯০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল

দেশ ও জাতির রক্ষায় দুর্নীতির দায় স্বীকার করে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন

গতকাল বুধবার বিএনপির নয়া পল্টন কার্যালয়ের সামনে ১৮ দলীয় জোট ঢাকা মহানগরীর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির সাথে সরকারের ‘টপ টু বটম' সবাই জড়িত। তাই সরকার দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, দুর্নীতির দায় স্বীকার করে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। এতে দেশ ও জনগণের মর্যাদা কিছুটা হলেও রক্ষা হবে।

গতকাল বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ১৮ দল আয়োজিত বিক্ষোভ সামবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে জীবিত অবস্থায় তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দান, সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আলি হত্যার বিচার এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নারী-শিশু নির্যাতন ও আইন-শৃক্মখলার চরম অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ. স. ম. হান্নান শাহ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক তাসনীম আলম, ঢাকা মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিজেপি মহাসচিব শামীম আল মামুন, ইসলামী ঐক্যজোট মহাসচিব মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, ন্যাপ চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক, খেলাফত মজলিস মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের, বিএনপি নেতা ড. ওসমান ফারুক। ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ইসলামিক পার্টি সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মবিন, বিএনপি নেতা শওকত মাহমুদ, সামসুজামান দুদু, জয়নুল আবদীন ফারুক, আমান উল্লাহ আমান, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শাহাদাত হোসেন সেলিম, শিরিন সুলতানা, শাম্মী আক্তার প্রমুখ।

সরকারকে আধিপত্যবাদের তোষামোদকারী ও পরনির্ভরশীল আখ্যায়িত করে ফখরুল বলেন, ভারতের সঙ্গে আবারও ট্রানজিট চুক্তি নবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা তিস্তার পানি পাচ্ছি না। সীমান্তে মানুষ হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। আমরা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই। তার মানে এই নয় যে, ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশের স্বার্থকে বিকিয়ে দেয় অন্যের হাতে তুলে দিতে হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে এই সরকার ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘‘আজ দুর্নীতির কারণে জাইকা, এডিবি, বিশ্বব্যাংক সবাই ঋণচুক্তি বাতিল করেছে। এই সরকার নিজের চুরি ও দুর্নীতি করে সারা বিশ্বের কাছে গোটা জাতিকে চোর হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিশ্বব্যাংকের নিন্দা জানিয়ে জাতীয় সংসদে দেয়া অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি সম্পর্কে ফখরুল বলেন, তিনি দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতে সাফাই গেয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের যে নিন্দা করেছেন, তা খুবই দুঃখজনক। কারণ বিশ্বব্যাংক আওয়ামী লীগকে চোর ও দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করেছে, এটাই তাদের অপরাধ।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার গত তিন বছরে বিরোধী দলের ১৩০ জন নেতাকর্মীকে গুম করেছে। অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। পদে পদে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশী-বিদেশী মানবাধিকার সংস্থা সরকারের এসব ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। তারা গুম হওয়া নেতাদের সন্ধানের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু সরকার তা না করে গুম হওয়া নেতাদের সন্ধান দাবি করায় বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। এমনকি জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। ইলিয়াসের ছোট্ট মেয়ে তার বাবার সন্ধান চেয়েছে। কিন্তু এ সরকার হৃদয়হীন।

তিনি বলেন, গত তিন বছরে সরকার তাদের একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করেনি। প্রতিনিয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। শিল্প-কাখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বেকারত্ব দিন দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, এ সরকারের হাত থেকে সাংবাদিক এমনকি বিদেশী কূটনীতিকরা পর্যন্ত রেহাই পায়নি। তিনি বলেন, আমরা কোনো ন্যায্য অধিকার পাইনি। অথচ ভারতকে ট্রানজিট দেয়া হচ্ছে। তারা টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে দেশকে মরুভূমি করতে যাচ্ছে তাও সরকারের কোন প্রতিবাদ দেখা যায় না। আমরা তিস্তার পানি পাই না। অথচ তারা ফেনী নদীর পানি নিয়ে যাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে এখন বিচারের নামে প্রহসন চলছে। বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের নামে প্রহসনের বিচার চলছে। তিনি বলেন, এ সরকার খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। তিনি বলেন, এ সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই। তাই মামলা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তিনি বলেন, পার্লামেন্ট বহাল রেখে নির্বাচনের স্বপ্ন কোন দিন পূরণ হবে না। তিনি বলেন, দেশে এখন স্বাভাবিক মৃত্যুর কোনো গ্যারান্টি নেই।

এ সরকারের দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতু থেকে অর্থ বরাদ্দ বাতিল করেছে বিশ্ব ব্যাংক। এখন অন্যান্য দাতা সংস্থাও ঋণ সহায়তা বন্ধ করে দিচ্ছে। অথচ আমাদের অর্থমন্ত্রী দুর্নীতিবাজদের রক্ষার জন্য সংসদে মিথ্যাচার করেছেন। এটা এখন প্রমাণিত যে, এ সরকারের ‘টপ টু বটম' সবাই দুর্নীতির সাথে জড়িত। তিনি বলেন, কোনো সভ্য দেশের প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি দুর্নীতির দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতেন। আমরাও চাই, অবিলম্বে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবেন।

আমরা জনগণের ভোটের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছি মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখনো সময় আছে- নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিন। অন্যথায় দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি মানতে আপনাদের বাধ্য করা হবে।

হান্নান শাহ বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে চায়। কিন্তু তাদের এ উদ্দেশ্য কোন দিন সফল হবে না। তিনি বলেন, এই সরকার এখন বিশ্ব স্বীকৃত চোর। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সরকারের সকল অনৈতিক কাজের যথাযথ বিচার করা হবে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাহস থাকলে ডিসিসির নির্বাচন দিন। সোহেল তাজের পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করে গাজীপুরে নির্বাচন দিন। তখন দেখা যাবে আপনাদের সাথে জনগণ আছে কি না।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, দুর্নীতিবাজ সরকারকে আর ক্ষমতায় রাখা যাবে না। জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এতদিন এই সরকার ছিল জাতীয় দুর্নীতিবাজ। আর এখন হয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবাজ। তিনি বলেন, এরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের নামে সাজানো মামলা করেছে। এখানে বিচারক, সাক্ষী সবাই সাজানো। বিচারকের রায়ও সাজানো রয়েছে। তিনি বলেন, এর জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। একদিন সত্য প্রকাশিত হবেই।

শফিউল আলম প্রধান বলেন, শেখ মুজিবের চোরের থলির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর এখন তার কন্যা শেখ হাসিনা। আর এক মুহূর্তও বিশ্ব চোর হাসিনাকে ক্ষমতায় দেখতে চাই না। গোলাম রহমানকে দুদকে দেখতে চাই না। তিনি বলেন, সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, শেখ হাসিনার সরকার সারা বিশ্বে অযোগ্য সরকার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এ সরকার দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকারকে গুম করেছে। এর পরিণতি হিসেবে জনগণ আ'লীগকে গুম করবে। তিনি বলেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের মুক্ত করা হবে।

আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, এ সরকার ব্যর্থ হয়ে সব জায়গায় যুদ্ধাপরাধের বিচারের বাধাগ্রস্ত করার নাটক সাজাচ্ছে।

মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, বিরোধী দল যাতে সরকারের দুর্নীতির কথা বলতে না পারে সেজন্য তারা হামলা মামলার পথ বেছে নিয়েছে। এ দলটি স্বাধীনতার পর অনেক নির্যাতন করেছে। তিনি বলেন, এই সরকার এখন বিশ্বব্যাপী দুর্নীতিবাজ হিসেবে স্বীকৃত। এদের আর সময় দেয়া যায় না।

শামীম আল মামুন বলেন, আন্দোলন রোজার পরে নয়, রোজার মধ্যেই শুরু করতে হবে। এ সরকারের দমন পীড়নের বিরুদ্ধে শুধু কথায় নয়, রাজপথে জবাব দিতে হবে।

অধ্যাপক তাসনীম আলম বলেন, এ সরকারের পেছনে জনগণের কোন সমর্থন নেই। জনগণের সমস্যা সমাধানে তাদের কোন নজর নেই। তারা ব্যস্ত বিরোধী দলকে দমন নিয়ে। জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য দলটির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের এ বেআইনী কর্মকান্ড আর চলতে দেয়া যায় না। আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী এ সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

শেখ আনোয়ারুল হক বলেন, এ দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, ঈদের আগেই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দিতে হবে।

এডভোকেট আব্দুল মবিন বলেন, এ সরকার আমাদের সারা বিশ্বের কাছে চোর হিসেবে প্রমাণিত করেছে। তারা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুম করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে  চায়। এ সরকারকে আর সময় দেয়া যায় না।

ওসমান ফারুক বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিশ্বব্যাংকে কাজ করেছি। বিশ্বব্যাংক কোন দেশের ঋণ বরাদ্দ বাতিল করেননি। একমাত্র বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতির কারণে তারা ঋণ বাতিল করেছে। তিনি বলেন, এ দেশে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করেছে বিএনপি। ভবিষ্যতেও করবে। তিনি বলেন, এ সরকার জঙ্গিবাদ দমনের নামে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে কাজ করছে। আন্দোলন শুরু হচ্ছে। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে।

মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, এই সরকার বিশ্বব্যাংক কর্তৃক স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী। এরা আবার মানবতাবিরোধী বিচার করছে। তিনি বলেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের নামে মিথ্যা অভিযোগে বিচারের আয়োজন চলছে। দেশবাসী তা হতে দিবে না।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, দেশ আজ সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। গুম, নির্যাতন, দমন পীড়ন ও দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ড বন্ধ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি বলেন, সরকার যুদ্ধাপরাধীর নামে বিরোধী নেতাদের দমন করতে চায়। তাদের এ স্বপ্ন কোনদিন বাস্তবায়ন হবে না। তিনি বলেন, আ'লীগ হীরা নয়, দুর্নীতির খন্ড।