Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 July 2012, ২১ আষাঢ় ১৪১৯, ১৪ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৪০৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বাংলাদেশ-ভারত উপকূলীয় জাহাজ চলাচলের প্রস্তাব

কৈ এর তেল দিয়ে কৈ ভাজার ভারতীয় কৌশল!

আবু সোহায়েল : উপকূল জাহাজ মালিকদের দোহাই দিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ভারতীয় পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ ও ভারত সমুদ্র উপকূলে অবাধ জাহাজ চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে উপকূল রুটে ভারতীয় জাহাজ চলাচল করবে কি না এবং চিটাগাং ও মংলা পোর্ট ব্যবহার করবে কি না এ বিষয়টি উহ্য রাখা হয়েছে। তবে আনুসাঙ্গিক বক্তব্যে এবং অভিজ্ঞ মহলের অভিমত থেকে জানা যাচ্ছে এ ধরনের চুক্তির অর্থ হলো উভয় দেশের জাহাজ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং চিটাগাং ও মংলা পোর্ট ব্যবহৃত হবে। অভিজ্ঞ মহল আরো বলছেন, ভারতের মাথা ব্যথাকে যেন আমাদের অনেকে নিজের মাথা ব্যথা মনে করছেন। মনে করা হচ্ছে উপকূলীয় জাহাজ চলার প্রস্তাবটি এর রকম অনুসারে ভারতের তরফ থেকে আসার কথা। কিন্তু প্রস্তাবটি তোলা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। ব্যাপারটি অন্যের ঝাল নিজের মুখে চিবানোর মতো। পর্যবেক্ষকরা একে কৌশলে পেছন দরজা দিয়ে ভারত কর্তৃক ট্রানজিট আদায় বলে অভিহিত করছেন।

নৌচলাচল বিষয়ে চলমান চুক্তি পরিবর্তিত আকারে নবায়নের লক্ষ্যে গত পরশু যে স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের যে প্রস্তুতি চলছে উপরোক্ত বিষয়টি তারই একটি অংশ। বাংলাদেশের নৌসচিব সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ সম্পর্কে বলেন, তাড়াতাড়ি ও কম খরচে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের জাহাজ মালিকেরা উপকূলীয় জাহাজ চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশের সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শিগগিরই বিশাখা পট্টনাম হলদিয়া ও পারেদীপসহ সংশ্লিষ্ট বন্দরগুলো পরিদর্শনে যাবে।

অন্যদিকে এ প্রস্তাব সম্পর্কে মজার কথা বলেছেন ভারতীয় নৌসচিব প্রদীপ কুমার সিনহা। তিনি বলেছেন, এটি একটি নতুন প্রস্তাব। প্রস্তাবটি বাংলাদেশ দিয়েছে। আমরা এটার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চাই। দুই পক্ষের কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্ভাব্য পণ্য ও রুট নিয়ে ওই কমিটি দুই দেশের সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেবে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনে চুক্তি সই হতে পারে।

ভারতীয় নৌসচিবের বক্তব্য পড়লে মনে হয় এটা নিছকই বাংলাদেশের প্রস্তাব ভারত। এটা দয়া করে বিবেচনা করে দেখতে সম্মত হয়েছে। অথচ বিশেসজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের দুই বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে উপকূলে জাহাজ চলাচলে কার্যত ভারতের ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত হবে। তাদের মতে এই প্রস্তাব কার্যকরী করা হলে তার মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পণ্য পরিবহনে সুযোগ পাবে। আর বাংলাদেশ এর দ্বারা আর্থিক ব্যবসায়িক ও নিরাপত্তা সবদিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিক থেকে বিচার করলে প্রস্তাবটি প্রায় ষোল আনাই ভারতের স্বার্থে। অথচ ভারত এটি বাংলাদেশের প্রস্তাব বলে দয়া করে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। বলা যায, এটা এক ধরনের নাটক। এর লক্ষ্য হলো কৈ এর তেল দিয়ে কৈ ভাজার, বাংলাদেশকে দিয়ে বাংলাদেশের মুন্ডুপাত করা।

অভিজ্ঞ মহলের মতে উপকূলীয় জাহাজ চলাচলের প্রস্তাবসহ নৌপথে বর্ধিত আকারে ট্রানজিটের যে আলোচনা চলছে তা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একার আলোচনার বিষয় নয়। বিষয়টা সামগ্রীক ট্রানজিট আলোচনার আওতায় হওয়া উচিত। যে আলোচনায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের স্বার্থ, ট্রানজিট  চুক্তি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সে ব্যাপারে বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্তের নিরাপত্তা ইত্যাদি সব বিষয়ই বিবেচিত হওয়া উচিত।