|
|
শেয়ারবাজার স্থিতিশীল না হলে কঠোর কর্মসূচি
স্টাফ রিপোর্টার : নতুন অর্থবছরে প্রথম বিক্ষোভ করলো বিনিয়োগকারীরা। অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে দুপুরের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় তারা দরপতন ঠেকাতে না পারলে লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি জানান। টানা দরপতনের প্রতিবাদে তারা সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নীরব ভূমিকাকে রহস্যজনক মন্তব্য করে এসইসির নীতি নির্ধারকদের পদত্যাগের দাবি জানান। নতুন অর্থবছরে গতকাল পর্যন্ত তিন দিন লেনদেন হয়েছে। প্রত্যেকদিনই ঘটেছে দরপতনের ঘটনা। প্রথমদিন গত সোমবার ১৯০ পয়েন্ট, মঙ্গলবার ২২ পয়েন্ট এবং গতকাল কমেছে ৭৬ পয়েন্ট।
গতকাল বুধবার পতন দিয়েই লেনদেন শুরু হয়। সারা দিন ওঠা-নামার পর পতন দিয়েই শেষ হয় দিনের লেনদেন। সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেন হওয়া প্রায় সকল কোম্পানি শেয়ার মূল্য। গতকাল ডিএসইতে মোট ২৫৯টি কোম্পানির ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৪০ হাজার ১৫৭টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মোট লেনদেনের পরিমাণ ১৫৯ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার ৮৪৫ টাকা যা আগের দিনের চেয়ে ১৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বেশি। সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৭৬ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট কমে ৪২৮৩ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে নেমে আসে। অন্যদিকে ডিএসই-২০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৪৪ দশমিক ৫১ পয়েন্ট কমে ৩৩৪৬ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। লেনদেন হওয়া ২৫৯ টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৩৩ টির, কমেছে ২১১ টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৫ টি কোম্পানির শেয়ার মূল্য। লেনদেনের ভিত্তিতে এসআইবিএল, আমড়া টেকনোলজি, বিএসসিসিএল, গ্রামীণ ফোন, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, ইউনিক হোটেল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, এনবিএল, বেক্সিমকো ও যমুনা অয়েল ছিল শীর্ষে। দরবৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো এআইবিএল ১ম মিউঃ ফান্ড, বঙ্গজ, এমবিএল ১ম মিউঃ ফান্ড, বার্জার পেইন্ট, এবিবি ১ম মিউঃ ফান্ড, এসআইবিএল,আইবিবিএল পিবন্ড, রিলায়েন্স ১, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ও আল আরাফাহ ব্যাংক। দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো- ফারইস্ট লাইফ, আইসিবি ১ম এনআরবি, ৫ম আইসিবি, আইসিবি এএমসিএল ১ম, প্রগ্রেসিভ লাইফ, পদ্মা লাইফ, দেশ গার্মেন্টস, ১ম বিএসআরএস, গ্লোবাল ইন্সুঃ ও এইচআর টেক্সটাইল।
এদিকে অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে ডিএসইর সামনে বিক্ষোভকালে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী বলেন, ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্টে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দিলে বাজার কারসাজিকারীরা আর দরপতন ঘটাতে পারবে না। তিনি অভিযুক্তদের আইনের আওতায় না আনায় অন্য চক্রগুলো বাজারে খুব সহজে কারসাজি করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এছাড়া দ্রুত বাজার ঠিক করতে না পারলে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান। এ সময় বিনিয়োগকারীরা ডিএসই এবং এসইসির নীতি নির্ধারকদের দুর্বল আখ্যায়িত করে তাদের পদত্যাগ এবং যে কোনো মূল্যে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।

