|
|
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রকাশ
0 পোশাক খাতে নিম্ন বেতন-ভাতা একমাত্র সমস্যা নয় -ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ0
0পণ্যের বৈচিত্র্য জরুরি -মোস্তাফিজুর রহমান0
স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশের রফতানি বাড়াতে হলে বাণিজ্য কৌশল ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অধিক জনশক্তি সৃষ্টি করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের শ্রমমান বিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল বুধবার বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ রফতানি সুদৃঢ় ও ত্বরান্বিতকরণ' শীর্ষক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রতিবেদনটি তৈরি করেন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাঠুরিয়া ও অর্থনীতিবিদ মো. আবুল বাশার।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়াতে হলে রফতানি বাড়াতেই হবে। তৈরি পোশাক খাতে শুধু নিম্ন বেতন-ভাতা একমাত্র সমস্যা নয়, অবকাঠামো সমস্যাও রয়েছে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রফতানি বাড়াতে পণ্যের বৈচিত্র্য আনা জরুরি। তৈরি পোশাক খাতে রফতানি বাড়ানোর বিশাল সুযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্যতম সামর্থ্য তৈরিতে পোশাক রফতানি অদূর ভবিষ্যতে ও মধ্য মেয়াদে গুরুত্ববহ হয়ে থাকবে। সার্বিকভাবে রফতানি বাড়ানোর জন্য কেবল তৈরি পোশাক খাতে বিদ্যমান সামর্থ্য সংহত করেই নয়, বরং অধিক দামের তৈরি পোশাক এবং অন্যান্য রফতানি খাতে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে বাণিজ্য কৌশল উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমমান প্রতিপালন সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে যা রফতানি ক্ষেত্রে বিদ্যমান সামর্থ্য সুসংহতকরণে সহায়ক হবে এবং অধিকতর লাভজনক ও অধিক মানের পণ্যের দিকে অগ্রসরে সাহায্য করবে।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাঠুরিয়া বলেন, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের বিদ্যমান ব্যয় সুবিধা তৈরি পোশাক খাতে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার জন্য পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। বিদ্যমান সামর্থ্যের ক্ষেত্রগুলোতে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। শুল্ক প্রক্রিয়ার উন্নয়ন, আকাশ পথে পণ্য পরিবহন সামর্থ্য বৃদ্ধি এবং রেল সেবা উন্নয়ন দেশের বাণিজ্য কৌশলের অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, দক্ষতার ঘাটতি তৈরি পোশাক খাতে ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কারিগরী ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে তৈরি পোশাক ও অন্যান্য খাতের চাহিদা ভালোভাবে মেটানোর লক্ষ্যে এসব প্রশিক্ষণের প্রাসঙ্গিকতা বাড়ানো দরকার। যেহেতু বাংলাদেশ অধিক হারে মূল্যবান তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছে তাই শ্রমমান ও কাজের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের বিধি প্রয়োগ করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির জন্য নিজেদের শ্রম ও ভবন মান বিধি প্রতিপালনের বিষয়টি ক্রমেই আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রিপোর্টের প্রণেতা বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ মো. আবুল বাশার বলেন, সুস্থ ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সরকারকে আরো নিবিড়ভাবে ব্যক্তিখাতের সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং বস্ত্র কারখানাগুলোকে আবাসিক এলাকা থেকে শিল্প এলাকার নিরাপদ ভবনে স্থানান্তরে সহায়তা দিতে হবে।

