|
|
নেতা-কর্মীদের চাকরি দেয়ার দাবি
রাজশাহী : রুয়েট ভিসির দফতরে সরকার দলীয় ক্যাডাররা ব্যাপক ভাঙচুর চালায় -সংগ্রাম
রাজশাহী অফিস : রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এ নেতা-কর্মীদের চাকরি দেয়ার দাবিতে সরকার দলীয় ক্যাডাররা ভিসির অফিসে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে প্রায় ২শ' দলীয় নেতা-কর্মী ভিসি প্রফেসর ড. সিরাজুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর দফতরে যায়। কিন্তু ভিসি না থাকায় তাঁর দফতর বন্ধ ছিল। এসময় তারা অফিস সহকারীর কাছ থেকে জোর করে চাবি নিয়ে ভিসির অফিস খুলে দু'টি কক্ষে ভাঙচুর শুরু করে। এসময় তারা চেয়ার-টেবিল, জানালা-দরজার কাঁচ, টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাংচুর ও ফাইলপত্র তছনছ করে। ভাংচুর শেষে তারা শ্লোগান দিতে দিতে দ্রুত ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) মাহমুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে, রুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমুর রহমান জানান, ভিসি সকালে অফিস করে তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে গিয়েছিলেন। এসময় বহিরাগতরা তাকে না পেয়ে ভাংচুর করে। জরুরিভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক আহবান করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
২জন ছুরিকাহত
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে কৌশিক ও আনিছ নামের দুই কর্মী ছুরিকাহত হলে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। সমাবেশে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আবাসিক হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। এর পর থেকেই নেতা-কর্মীদের মধ্যে পদ পাওয়ার জন্য লবিং-গ্রুপিং শুরু হয়। এর জের ধরে নবাব আব্দুল লতিফ হলের একটি সিট দখলকে কেন্দ্র করে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দু'জনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কৌশিক তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে আনিছের ডান হাতে আঘাত করে। এসময় আনিছও পাল্টা কৌশিককে আঘাত করে। ছুরির আঘাতে আনিছের ডান হাত মারাত্মক জখম হয়। এসময় উভয় গ্রুপের কর্মীরা হলের সামনে অবস্থান নেয়। পরে মতিহার থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগ সভাপতি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। আনিছের অবস্থা আশংকাজনক। তাকে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। আনিছের অভিযোগ, কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই কৌশিক তাকে ছুরিকাহত করে।

