Quantcast
ঢাকা, শনিবার 7 July 2012, ২৩ আষাঢ় ১৪১৯, ১৬ শাবান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২৪৩ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

ফারুককে হত্যা চেষ্টার প্রথম বার্ষিকীর আলোচনায় মির্জা ফখরুল

এইচআরডব্লিউ'র রিপোর্টই প্রমাণ করে সরকার প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা বাহিনীকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করছে

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য পেশ করেন বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ সরকার দেশের বিচার বিভাগ, প্রশাসন এমনকি আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও দলীয়ভাবে ব্যবহার করেছে। তারই প্রমাণ মিলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) রিপোর্টে। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করায় র‌্যাব ভাঙার সুপারিশ করেছে এইচআরডব্লিউ। সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার নির্বাচনের আগে জনগণকে দেয়া কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি। তারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ এ দেশে বসে বলছে, বর্তমান সরকারের আগে কোনো সরকারের সময়ে বাংলাদেশে এত বেশি মানবাধিকার লংঘন হয়নি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সংগ্রামের মৃত্যুঞ্জয়ী নেতা সংসদে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের হত্যা চেষ্টার  প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে  সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাজহারুল ইসলাম দোলন, সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজাম, আসিফা আশরাফি পাপিয়া ও শাম্মি আখতার প্রমুখ।

বর্তমান সরকারকে ফ্যাসিস্ট দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জয়নুল আবদিন ফারুক সংসদের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংসদ এলাকায় মিছিল করার অপরাধে পুলিশ তাকে রক্তাক্ত করে তাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। অথচ এ ঘটনায় সংসদ প্রধান অথবা স্পিকার রুলিং পর্যন্ত দেয়নি। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, গুম-খুন আর হামলা-মামলার মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার যে স্বপ্ন দেখছেন তা এ দেশের মানুষ সফল হতে দিবে না। অতীতে শেখ মুজিবসহ কোনো স্বৈরশাসক জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, আপনারাও  পারবেন না।

মির্জা ফখরুল বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে বিশ্বব্যাংক আপনাদের যে কয়টি চিঠি দিয়েছে, তা জনসম্মুখে প্রকাশ করুন। এতে কাদের নাম আছে এবং কাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তা জাতি জানতে চায়। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের কোনো লজ্জা নেই। বিশ্বব্যাংক বলছে সরকারের দুর্নীতির কারণেই তারা পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি বাতিল করেছে। অথচ সরকার বলছে এর জন্য চারদলীয় জোট দায়ী। যদি চারদলীয় জোট এত শক্তিশালী হয় তাহলে আপনাদের আর ক্ষমতায় থেকে লাভ কি? ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। চুক্তি বাতিল নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার যে ভাষায় বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে কথা বলছে এরপর তারা আর এ চুক্তি পুনর্বহাল করবে এটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দয়া করে গণতন্ত্রের সকল দরজা জানালা বন্ধ না করে গণতন্ত্রের বাতাস আসার সুযোগ দিন। আর জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করুন।

আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে দমন করতে চায়। আর সে কারণেই পুলিশ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর হামলা করেছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে গুম, খুন আর হামলা-মামলার পথ থেকে সরে এসে জনগণের দাবি মেনে নিন, অন্যথায় পালাবার পথ পাবেন না।