|
|
আমার কাগজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সেমিনারে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক
স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক এটর্নি জেনারেল প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, মানবাধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব আদালতের। অথচ অনেকে ক্ষেত্রে তারা রক্ষা না করে বরং ক্ষুণ্ণ করছেন। আদালত যে মানবাধিকার রক্ষা করবে তার কোনো আলামতও দেখছি না। সরকার, পুলিশও মানবাধিকার লংঘন করছে। তিনি বলেন, সরকার, আদালত ও পুলিশ সুরক্ষা দিক বা না দিক নিজেদের অধিকার নিজেদেরকেই আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে জোর করে মানবাধিকার আদায় করে নিতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে দৈনিক আমার কাগজের ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মানবাধিকার উন্নয়নে সংবাদপত্রের ভূমিকা' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফজলুল হক ভূঁইয়া রানার সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, আলতাফ মাহমুদ ও কবি আবদুল হাই শিকদার। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন, সাংবাদিক মীর আশফাকুজ্জামান।
রফিক-উল হক আরো বলেন, দলের ভেতরে গণতন্ত্র আনতে না পারলে দেশে গণতন্ত্র আসবে না। বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হলে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভেতরে আগে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শীর্ষ নেতার কথায় শুধু হ্যাঁ করলেই গণতন্ত্র আসবে না।
গত দশকে দেশ মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের পথে আস্তে আস্তে অনেক দূর এগিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন আমরা অন্তত কথা বলতে পারছি। একে অপরের সমালোচনা করতে পারছি। এমনকি ক্ষিপ্ত হয়ে কাউকে গালাগালিও দিতে পারছি। তবে গণতন্ত্রকে নিরঙ্কুশ করতে আরো অনেকখানি অগ্রসর হতে হবে। একদিন আমরা এক্ষেত্রে পরিপূর্ণতা পাবো আশা করি। তিনি বলেন, আদালত যতদিন শক্তিশালী না হবে ততদিন মানবাধিকারের পরিপূর্ণ উন্নয়ন হবে না। মানবাধিকার উন্নয়নে সংবাদপত্রকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে মত দেন তিনি।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, দেশের মানবাধিকার রক্ষা করা সংবাদপত্রের কাজ নয়, এটি আদালতের দায়িত্ব। কিন্তু তারা তা করছেন না। সাধারণ নাগরিকের বাক স্বাধীনতা সংরক্ষণ না করে উল্টো যারা বাক স্বাধীনতা চর্চা করছেন তাদের ওপর খড়গহস্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় রাষ্ট্রের অনেকগুলো সংস্থা মানবাধিকার রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকার পরেও কেন দেশের অবস্থা এমন হবে। দেশে এতগুলো গুমের ঘটনা ঘটলো তার কোনোটির বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তো কোনো তদন্ত করেনি।
সাংবাদিক সংগঠনগুলোর বিভক্তির সমালোচনা করে আসিফ নজরুল বলেন, আপনারা যত দিন এক হতে না পারবেন, তত দিন নির্যাতিত হয়েই যাবেন। একজন সংবাদিকের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পরে, কিন্তু তা হবে ইউনিয়নের বাইরে।
শওকত মাহমুদ বলেন, দেশ এখন ‘ব্যানানা রিপাবলিক' হয়ে গেছে। অনেকেই বলছেন- ব্যর্থ রাষ্ট্র। পদ্মা সেতু দুর্নীতির বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান যাদের নাম বলেছেন, সাংবাদিকরা তাদের নাম প্রকাশ করেছেন। এতে সাংবাদিকরা কি অন্যায় করেছে যে, তাদের দুদকে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)'র এই আচরণ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও দাবি করেন তিনি। শওকত মাহমুদ বলেন, আর্ন্তজাতিক আইনে ঘুষ দাবি করাও অপরাধ। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা অন্যের মানবাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে নিজেরাই মানবাধিকার হারাচ্ছে। দেশের সুশীল সমাজের একটি অংশ রাজনীতি তাড়িত হয়ে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

