|
|
গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে লাইলাতুল বারাআত-এর নামায শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মুনাজাত করা হয় -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে ইবাদত-বন্দেগী, জিকির-আজকার, নফল নামায আদায়, মিলাদ মাহফিল ও কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পালিত হয়েছে পবিত্র লাইলাতুল বারাআত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই মসজিদগুলোতে ইবাদত-বন্দেগীতে শামিল হতে ভিড় জমান ছোট-বড় নানা বয়সের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ। অতীতের কৃত পাপের জন্য সবাই ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি আগামী দিনে সৎভাবে জীবন যাপন করার জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করেন।
দেশের সামাজিক প্রথা অনুযায়ী আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে হালুয়া-রুটি পাঠান। এদিকে লাইলাতুল বারাআতের পবিত্রতা ও শান্তি-শৃক্মখলা রক্ষায় ঢাকা মহানগর পুলিশ আতশ ও পটকাবাজিসহ যাবতীয় বিস্ফোরক দ্রব্য বহন ও ফাটানো নিষিদ্ধ ঘোষণ করে।
প্রসঙ্গত, মুসলমানদের জন্য আরবি শা'বান মাসের ১৫ তারিখ পবিত্র শব-ই-বরাত বা লাইলাতুল বারাআত মহিমান্বিত রজনী। গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এ রাতের বিশেষ বরকত হাসিলের উদ্দেশে বিশ্বজুড়ে মুসলমান সম্প্রদায় রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী, জিকির-আজকার, মিলাদ-মাহফিল, নফল নামায আদায় ও কুরআন তেলাওয়াতে মশগুল থাকেন।
এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে, বরকতময় এ রাতে মুমিনদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীসহ সারাদেশের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ ওয়াজ-মাহফিল ও জিকির-আজকার অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে রাতে ওয়াজ মাহফিল, কুরআন তিলাওয়াত, হামদ, নাত, জিকির, মিলাদ, কিয়াম ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এশার নামাযের পর থেকে ওলামাগণ রাতভর বয়ান করেন।
পবিত্র লাইলাতুল বারাআত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে তারা দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম পৃথক বাণী দিয়েছেন।
লাইলাতুল বারাআত উপলক্ষে শুক্রবার ছিল সরকারি ছুটি। আর বৃহস্পতিবার সংবাদপত্রসমূহে ছুটি পালিত হওয়ায় গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশের সকল পত্রিকা বন্ধ ছিল। এ উপলক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন ও বেতার বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করেছে এবং পত্র-পত্রিকা বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

